যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান

ষ কসোভোর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ ষ ঢাকা-নমপেন এফটিএ চুক্তিতে সম্মত ষ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান ষ এএমআর প্রতিরোধে গুরুত্বারোপ
বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৃহস্পতিবার হোটেল লোটে প্যালেস নিউইয়র্ক মিটিং রুমে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন কসোভোর রাষ্ট্রপতি গং ঠলড়ংধ ঙংসধহর-ঝধফৎরঁ (ওপরে বামে) এবং কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী গৎ. ঝধসফবপয অশশধ গড়যধ ঝবহধ চধফবর ঞবপযড় ঐঁহ ঝবহ (ওপরে ডানে)। এছাড়া ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল আয়োজিত উচ্চস্তরের পলিসি গোলটেবিলে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা -ফোকাস বাংলা

মার্কিন বিনিয়োগকারীদের অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রদানের প্রস্তাব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে তাদের বিপুল বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে নিজ অবস্থানস্থলের হোটেলে ইউএস বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে এ আহ্বান জানান তিনি। একই দিন রোহিঙ্গা ইসু্য নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠক এবং কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল আয়োজিত উচ্চ পর্যায়ের পলিসি নির্ধারণের ওই বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, 'আমি মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য শক্তি, জাহাজ নির্মাণ, অটোমোবাইল, ওষুধ, ভারী যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক সার, আইসিটি, সামুদ্রিক সম্পদ, জাহাজ নির্মাণ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন তৈরিতে বিনিয়োগের

জন্য আমন্ত্রণ জানাতে চাই।'

তিনি বলেন, বাংলাদেশের উদার বিনিয়োগ নীতি রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বিদেশি বিনিয়োগ সুরক্ষা, কর অবকাশ, রয়্যালটির রেমিট্যান্স, অনিয়ন্ত্রিত প্রস্থান নীতি এবং পুরোপুরি প্রস্থানের সময় লভ্যাংশ ও মূলধন নিয়ে যাওয়ার সুবিধা।

বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ১০০টি 'বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল' (এসইজেড) এবং বেশ কয়েকটি হাই-টেক পার্ক স্থাপন করা হয়েছে উলেস্নখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে ৬ লাখেরও বেশি ফ্রি-ল্যান্সিং আইটি পেশাদার রয়েছে। ফলে বাংলাদেশ আইটি বিনিয়োগের জন্য সঠিক গন্তব্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'তাছাড়া প্রতিযোগিতামূলক মজুরিতে দক্ষ মানবসম্পদ বাংলাদেশে একটি অতিরিক্ত সুবিধা। এমনকি যদি প্রয়োজন হয়, আমরা মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ডেডিকেটেড বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রস্তাব করতে পরলে খুশি হবো।'

তিনি আস্থা প্রকাশ করে বলেন, ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

সরকারপ্রধান বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী নেতাদের সমাবেশে বলেন, 'ভারত, চীন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ ৪ বিলিয়ন মানুষের সম্মিলিত বাজারের মাঝখানে রয়েছে।'

প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, প্রযুক্তি দ্রম্নত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চাবিকাঠি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক, তৃতীয় বৃহত্তম সবজি উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হয়েছে, ৪র্থ বৃহত্তম ধান উৎপাদনকারী এবং বিশ্বের ৫ম বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ মৎস্য উৎপাদনকারী হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, 'বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে তার প্রতিবেশী দেশ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বৈশ্বিক সমমনা দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক কূটনীতি চালিয়ে যাবে। আমরা ক্রমাগত আমাদের ভৌত, আইনি এবং আর্থিক অবকাঠামো উন্নত করছি এবং দেশে যোগাযোগ উন্নত করছি।'

পদ্মা বহুমুখী সেতুর সমাপ্তি অভ্যন্তরীণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ উভয়ই উন্নত করেছে উলেস্নখ করে তিনি বলেন, ঢাকা মেট্রো-রেল প্রকল্পটি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা দ্রম্নত অভ্যন্তরীণ গতিশীলতা যোগ করবে।

বাংলাদেশ ২০২৬ সালের মধ্যে এলডিসি মর্যাদা থেকে স্নাতক হতে চলেছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা এবং রপ্তানি বাড়ানোর জন্য তাদের পর্যাপ্ত সহায়তা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমি নিশ্চিত যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই চ্যালেঞ্জিং প্রচেষ্টায় আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশীদার হতে পারে।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার দেশে শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে। আইএলও রোডম্যাপ উদ্যোগ মোকাবিলা করার জন্য কর্মের একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা এবং সময়রেখা প্রদান করে এবং শ্রম খাতে প্রতিকারের পরামর্শ দেয়। তার সরকার এই সেক্টরে ক্রমাগত উন্নতির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে পর্যাপ্তভাবে নিযুক্ত রয়েছে। মার্কিন সরকার শ্রম ইসু্যতে ৩+৫+১ প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে প্রতিনিধিত্ব করছে, তিনি বলেন।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় উচ্চ স্তরের অর্থনৈতিক পরামর্শের ফলোআপ সিদ্ধান্ত হিসাবে একটি 'সরকার থেকে সরকার' ওয়ার্কিং গ্রম্নপ গঠন এই দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

শেখ হাসিনা বলেন, এ বছর বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর উদযাপন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একটি প্রধান অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন অংশীদার এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সামরিক-সামরিক সহযোগিতা, নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসহ বিস্তৃত বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এর ব্যাপক সম্পৃক্ততা রয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগের প্রসারের মাধ্যমে পারস্পরিক সমৃদ্ধিতে দুই দেশের অভিন্ন লক্ষ্যগুলো প্রতিধ্বনিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী উলেস্নখ করেন, ২০২১-২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল প্রায় ১০ দশমিক ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং আমদানি ছিল প্রায় ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন যেখানে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ একটি শোষণমুক্ত সমাজ এবং পূর্ণ অর্থনৈতিক মুক্তি পাবে। তার ভাষায়, 'আমার সরকার বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।'

প্রধানমন্ত্রী নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, পুষ্টি, মা ও শিশু স্বাস্থ্য, প্রাথমিক শিক্ষা এবং আইসিটি ক্ষেত্রের অগ্রগতির কথা উলেস্নখ করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ২০২৬ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে পরিণত হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশকে একটি 'স্মার্ট বাংলাদেশে' রূপান্তরিত করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যেখানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সরকার 'ডেল্টা পস্ন্যান ২১০০' হাতে নিয়ে উলেস্নখ করে সরকারপ্রধান বলেন, এটি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করে সবুজ সমৃদ্ধির জন্য একটি কৌশলগত রোডম্যাপ। কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বকে একটি স্থিতিস্থাপক বিশ্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা দেখিয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়া সত্ত্বেও সরকার কর্তৃক গৃহীত প্রাথমিক এবং কার্যকর পদক্ষেপের কারণে মহামারি চলাকালীন মৃতু্যর হার খুবই কম ছিল।

তিনি আনন্দের সঙ্গে জানান যে, বাংলাদেশের মানুষ কমপক্ষে দু'টি ডোজ কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন পেয়েছেন উলেস্নখ করেন। কোভ্যাক্সের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ৭৫ মিলিয়নেরও বেশি কোভিড-১৯ টিকা অনুদান প্রদান করায় মার্কিন সরকারের আন্তরিক প্রশংসা করেন তিনি।

ঢাকা-নমপেন বাণিজ্য সম্প্রসারণে সম্মত

এদিকে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৭তম অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী সামদেক আক্কা মোহা সেনা পাদেই টেকো হুন সেনের এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর 'দ্বিপক্ষীয় বৈঠক রুমে' অনুষ্ঠিত এই বৈঠক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করতে সম্মত হয়েছে উভয় দেশ।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী তার দেশ থেকে বাংলাদেশে চাল রপ্তানির ব্যাপারে একটি চুক্তি সইয়ে আগ্রহ ব্যক্ত করেন। তিনি কম্বোডিয়ায় কৃষি এবং স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগ করার জন্য বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানান।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে রোহিঙ্গা ইসু্যতে একটি উচ্চ পর্যায়ের পার্শ্ব ইভেন্টে ভাষণ দেন। তিনি জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অব্যাহত দমন-পীড়ন বন্ধে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

সরকারপ্রধান রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগ এবং মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক আদালত, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং আইসিজেতে গাম্বিয়াকে সমর্থন করাসহ আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারকার্যের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের রাজনৈতিক ও আর্থিকভাবে সমর্থন করার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, 'রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে বাস্তব পদক্ষেপ এবং প্রকল্প প্রহণ করা দরকার।'

এলডিসি-৫ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার হোটেল লোটে প্যালেসে সাক্ষাৎ করেছেন জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। সাক্ষাৎকালে তিনি আগামী বছর দোহায় এলডিসি-৫ সম্মেলনে অংশ নিতে শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাকে ধন্যবাদ জানান।

এএমআর প্রতিরোধে গুরুত্বারোপ

অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) প্রতিরোধে টেকসই রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কের লেক্সিংটন হোটেলে অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) বিষয়ে প্রাতরাশ বৈঠকের শুরুতে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৌশলগত অগ্রাধিকারগুলো যথাযথভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, সেগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। আমাদের একটি 'অভিন্ন স্বাস্থ্য পদ্ধতি'তে স্থিত হওয়া প্রয়োজন। এএমআর বিষয়ে প্রায় ১৫০টি দেশের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা রয়েছে উলেস্নখ করে শেখ হাসিনা বলেন, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে এগুলো বাস্তবায়নের জন্য অর্থপূর্ণ সহায়তা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতায় এএমআর গুরুত্ব পাওয়া উচিত এবং ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত মাল্টি-পার্টনার ট্রাস্ট ফান্ড পছন্দের হাতিয়ার হতে পারে। এএমআরের জন্য বিশ্ব ও জাতীয় পর্যায়ে একটি শক্তিশালী বিনিয়োগ পরিস্থিতি তৈরি করা দরকার বলেও তিনি উলেস্নখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এএমআরের দায়িত্ব ও প্রতিক্রিয়া বোঝার জন্যে নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ২০১৯ সাল থেকে গস্নাস পস্ন্যাটফর্মে রিপোর্ট করে আসছে। তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট সব অংশীদারের জড়িত হওয়া অত্যাবশ্যকীয় এবং একটি রোগী-কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন এএমআরের ভ্যাকসিন ও অন্যান্য চিকিৎসার জন্য গবেষণা ও উদ্ভাবনের অভাবকে উদ্বেগের মূল কারণ হিসেবে উলেস্নখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এ জন্য বেসরকারি খাতের যথাযথ প্রণোদনা প্রয়োজন।

সরকারপ্রধান বলেন, এএমআর সম্পর্কে গণসচেতনতা সৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই এবং এ জন্য নভেম্বরে বার্ষিক বিশ্ব সচেতনতা সপ্তাহ একটি উপযুক্ত উপলক্ষ।

শেখ হাসিনা অভিমত দেন যে, এ সূচকগুলোর ওপর প্রতিবেদন প্রকাশ মানব স্বাস্থ্য, প্রাণী স্বাস্থ্য, খাদ্য ব্যবস্থা এবং পরিবেশকে প্রভাবিত করে এমন এএমআর নীতি তৈরিতে সাহায্য করতে পারে।

উলেস্নখ্য, জাতিসংঘের ৭৭তম সাধারণ পরিষদে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। শুক্রবার রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি জাতিসংঘের নির্ধারিত অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বাংলাদেশ সময় রাত ২টা থেকে তিনি ভাষণ দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বাংলায় ভাষণ দেবেন এবং ভাষণে তিনি বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর জোর দেবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, 'প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বহুপাক্ষিকতার ওপর জোর দেবেন'।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে