বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

অনেক মন্ডপে সরকারি নির্দেশনা মানা হয়নি নিরাপত্তা নিয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদন

ম যাযাদি রিপোর্ট
  ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০
মহালয়ার মধ্য দিয়ে বাঙালি হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে আজ। এদিকে, দুর্গাপূজা ঘিরে মন্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি যে নির্দেশনা ছিল, তা বাস্তবায়ন করা হয়নি উলেস্নখ করে সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও বিষয়টি জানানো হয়েছে পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 'সরকারি নির্দেশনা থাকার পরও অনেক পূজামন্ডপেই এখন পর্যন্ত স্থাপন করা হয়নি সিসি ক্যামেরা, গঠন করা হয়নি স্বেচ্ছাসেবক দল এবং অনিরাপদ স্থানে স্থাপন করা হচ্ছে অস্থায়ী পূজামন্ডপ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ না করে মন্ডপের নিরাপত্তাব্যবস্থা বিঘ্নিত করলে যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনার দায়ভার সংশ্লিষ্ট পূজা উদযাপন কমিটিকেই নিতে হবে, যে বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে।' প্রতিবেদনের আরও বলা হয়েছে, পূজা শুরু হওয়ার আগেই কমিটি-বিষয়ক দ্বন্দ্ব সমাধান করে দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করা প্রয়োজন। বিভিন্ন সময় ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নিজেদের মধ্যকার কিংবা স্থানীয় মুসলমানদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের বিষয়গুলোকে সাম্প্রদায়িক রূপ দিয়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে প্রচার করা হয়। যেকোন সাম্প্রদায়িক অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বার্তা প্রদান করা হয়েছে।' এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জেএল ভৌমিক বলেন, 'যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে স্থায়ী মন্ডপগুলোতে সিসিটিভি ও কমিটির পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে ভ্রাম্যমাণ বা অস্থায়ী মন্ডপে এখনো নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়নি। আমরা কাজ করছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আমাদের সহযোগিতা করছে।' এদিকে, সারাদেশে এবার ৩২ হাজার ১৬৮টি পূজামন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে। পূজার নিরাপত্তা নির্বিঘ্ন করতে সরকারি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পূজা উদযাপন কমিটিকেও সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। অন্যদিকে, গত ১১ সেপ্টেম্বর দুর্গাপূজার নিরাপত্তা-বিষয়ক বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ৯টি নির্দেশনা প্রদান করেন। যার মধ্যে ছিল- পূজামন্ডপে অন্য বাহিনী ছাড়াও ২৪ ঘণ্টা আনসার বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে, গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা নজরদারি করবে, সব মন্ডপে বাধ্যতামূলক সিসি ক্যামেরা লাগাতে হবে, এমন জায়গায় পূজামন্ডপ করা যাবে না, যেখানে গাড়ি প্রবেশ করতে পারে না, পূজামন্ডপের স্বেচ্ছাসেবকদের বাধ্যতামূলকভাবে হাতে আর্মব্যান্ড পরতে হবে, যেকোনো গুজবের ব্যাপারে সতর্ক নজর রাখা হবে, বিশেষ করে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মনিটরিং করা হবে, কোনো ধরনের গুজব ছড়ানোকে কঠোর হাতে দমন করা হবে। এ ছাড়াও পূজার সময় পুলিশ সদর দপ্তর এবং জেলাপর্যায়ে কন্ট্রোল রুম খোলা হবে। ২৪ ঘণ্টা কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করা যাবে, থাকবে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজানের সময় পূজামন্ডপে বাদ্যযন্ত্রের শব্দ সহনীয় রাখতে বলা হয়েছে।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে