বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

বিএনপি-জামায়াত বিরোধের রাজনীতির ধারক-বাহক

ফেনীতে জাসদের চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় হাসানুল হক ইনু
ম যাযাদি ডেস্ক
  ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০
জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, দেশের রাজনীতির বর্তমান অস্থিরতা, সংঘাত ও সংঘর্ষ নতুন নয়, এটা ৫২, ৭১ ও ৭৫-এর পুরনো বিরোধের বহিঃপ্রকাশ। ৫২ ও ৭১-এ মীমাংসিত বিষয়গুলোকে অমীমাংসিত করা ও ঐতিহাসিক সত্যকে অস্বীকার করার রাজনীতির মাধ্যমে পরাজিত শক্তি এই বিরোধ জাগিয়ে তুলেছে। ১৯৭৫ সাল থেকে মুশতাক-জিয়া এই ৫২ ও ৭১ বিরোধী, বাংলা-বাঙালি-বাংলাদেশ-স্বাধীনতা-মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী পাকিস্তানপন্থির রাজনীতি রাষ্ট্র-রাজনীতি-সমাজে চাপিয়ে দিয়ে জাতিকে বিভক্ত করে বিরোধের রাজনীতিকে স্থায়ী রূপ দিয়েছে। বিএনপি-জামায়াতসহ ধর্মান্ধ, সাম্প্রদায়িক, জঙ্গিবাদী, উগ্রবাদী শক্তিগুলো এই বিরোধের রাজনীতির ধারক ও বাহক। তারা বাঙালির আত্মপরিচয়, ভাষা, সংস্কৃতি, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সংবিধান মানে না। তারা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যার পক্ষে, রাজাকার-আলবদর-যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে ও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পক্ষে সাফাই গায়। তারা স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক ধারাকে নিশ্চিহ্ন করতে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে, কর্নেল তাহেরকে হত্যা করেছে ও শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে গ্রেনেড হামলা চালিয়েছে।' সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শনিবার সকালে ফেনীর গ্র্যান্ড সুলতান কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত জাসদ চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন হাসানুল হক ইনু। জাসদ সভাপতি বলেন, বাঙালি-বাংলা-বাংলাদেশ-মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি যতদিন রাজনীতির মাঠে থাকবে, ততদিন দেশের রাজনীতির অস্থিরতা-সংঘর্ষ-সংঘাত-অশান্তির অবসান হবে না। বাংলা-বাঙালি-বাংলাদেশ-মুক্তিযুদ্ধ-স্বাধীনতার বিপক্ষের অপশক্তি ও বাংলাদেশ রাষ্ট্রের চিরশত্রম্নদের রাজনৈতিকভাবে পরাজিত-দমন-ধ্বংস করেই রাজনীতি ও সমাজে স্থায়ী শান্তি অর্জন করতে হবে। এসব শেখ হাসিনার একার ক্ষমতায় থাকার বিষয় নয়, শেখ হাসিনার একার লড়াই নয়; বরং সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হয়েই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের চিরশত্রম্ন পাকিস্তানপন্থির রাজনীতির ধারক-বাহক বিএনপি-জামায়াতসহ ধর্মান্ধ-সাম্প্রদায়িক-জঙ্গিবাদী-উগ্রবাদী শক্তিকে বর্জন ও ধ্বংস করার দায়িত্ব নিতে হবে। সমগ্র জাতিকেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বাংলাদেশ আফিগানিস্তান-পাকিস্তানের মতো তালেবানি পথে যাবে, নাকি ধর্মের নামে সংঘাত-সংঘর্ষ-অশান্তি-খুনাখুনি-রক্তারক্তির পথে যাবে, নাকি শান্তি-স্থিতিশীলতা-উন্নয়নের পথে যাবে।' সাবেক এই তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশ রাষ্ট্রের চিরশত্রম্নদের বর্জন ও পরাজিত করার রাজনৈতিক সংগ্রামের সঙ্গে সঙ্গে সমানতালে-সমান্তরালে জনগণের দৈনন্দিন জীবনের দুঃখ-কষ্ট দূর করা, দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক-অযৌক্তিক উর্ধ্বগতি রোধ করতে বাজার সিন্ডিকেট দমন, দুর্নীতিবাজ ও লুটেরাদের দমন, দলবাজি ও ক্ষমতাবাজি বন্ধ এবং বৈষম্যের অবসান করতে বাংলাদেশকে সুশাসন ও সমাজতন্ত্রের পথে এগিয়ে নিতে হবে।' বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি বলেন, 'দেশ ও জাতির চিরশত্রম্ন এবং নারীর চিরশত্রম্ন ধর্মান্ধ-সাম্প্রদায়িক-উগ্রবাদী-জঙ্গিবাদী অপশক্তি মোকাবিলার ঐক্য ও জোটের রাজনীতির পাশাপাশি জাসদের নিজস্ব একটি সুনির্দিষ্ট রাজনীতি আছে। জাসদের রাজনীতি হচ্ছে বৈষম্যের অবসান করা এবং দেশ ও বাজেটের সম্পদ সমাবেশ ও বিলিবন্টনে বঞ্চিত-অসহায়-নিরুপায়-কর্মহীন-আয়হীন নারী-পুরুষকে অগ্রাধিকার দেওয়া।' তিনি বলেন, 'আমাদের জাতীয় অর্থনীতির যে সক্ষমতা ও জাতীয় বাজেটের যে আকার, দেশের অর্থসম্পদ সঠিক ও দুর্নীতিমুক্তভাবে বিলিবন্টন হলে এই বঞ্চিত অবহেলিত মানুষকে মানবিক জীবনে টেনে তোলা সম্ভব। সেটা করার জন্য সংবিধানের দুই মলাটে ছাপার হরফে বন্দি সমাজতন্ত্রকে রাষ্ট্রীয় রাজনৈতিক অর্থনৈতিক সামাজিক পরিকল্পনা নীতি ও বাজেট প্রণয়নের নীতির ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। জাসদ এই বক্তব্য ও কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে ও সংসদে সমাজতন্ত্রের পক্ষে সোচ্চার আছে। জাসদ সমাজতন্ত্র ও সুশাসনের পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ধারণ করেই দলের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করতে যাচ্ছে।' ফেনী জেলা জাসদের সভাপতি আলহাজ নুরুল আমিনের সভাপতিত্বে এবং জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নইমুল আহসান জুয়েলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই প্রতিনিধি সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জাসদ স্থায়ী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেন, মীর হোসাইন আখতার, সহ-সভাপতি নুরুল আকতার, বীর মুক্তিযোদ্ধা শফি উদ্দিন মোলস্না, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাদের চৌধুরী, আব্দুলস্নাহিল কাইয়ূম, মো. মোহসীন, ওবায়দুর রহমান চুন্নু, মীর্জা মো. আনোয়ারুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আলীম স্বপন, মো. নুরুন্নবী, জসিম উদ্দিন বাবুল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জিয়াউল হক মুক্তা, কোষাধ্যক্ষ মো. মনির হোসেন, দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, সহ-দপ্তর ইঞ্জিনিয়ার হারুন অর রশীদ সুমন, আইন-বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. সেলিম, সমাজসেবা সম্পাদক কাজী সিদ্দিকুর রহমান, সদস্য তৈয়বুর রহমান, কক্সবাজার জেলা জাসদের সভাপতি নইমুল হক চৌধুরী টুটুল ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, চট্টগ্রাম মহানগর জাসদের সহ-সভাপতি মফিজর রহমান, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জাসদের সভাপতি বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন, বান্দরবান জেলা জাসদের সভাপতি সুযশময় চৌধুরী, নোয়াখালী জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিজুল হক বকশী, লক্ষ্ণীপুর জেলা জাসদের মাহবুবুল আলম, কুমিলস্না জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইমুল হক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জাসদের সভাপতি অ্যাডভোকেট আখতার হোসেন সাঈদ, চাঁদপুর জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন, জাতীয় শ্রমিক জোট-বাংলাদেশের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুজ্জামান বাদশা, জাতীয় যুব জোটের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল কবির স্বপন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (ন-মা) কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাশিদুল হক ননী প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন- ফেনী জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের চট্টগ্রাম বিভাগীয় এই প্রতিনিধি সভা উপলক্ষে জাসদের ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ডে ফেনী শহর বর্ণিল সাজে সুসজ্জিত করা হয়েছিল। প্রতিনিধি সভায় জাসদের চট্টগ্রাম মহানগর, চট্টগ্রাম উওর, চট্টগ্রাম দক্ষিণ, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙামাটি, নোয়াখালী, লক্ষ্ণীপুর, কুমিলস্না, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর জেলা কমিটি এবং এসব জেলা কমিটির অধীনস্থ উপজেলা, থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন কমিটিসমূহের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ দুই হাজার নেতা-সংগঠক প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে