শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

সীতাকুন্ডে এক গ্রামেই ডেঙ্গু আক্রান্ত শতাধিক

ম সবুজ শর্মা শাকিল
  ০৭ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০
চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে ডেঙ্গুর প্রকোপ ক্রমশই বাড়ছে। ইতোমধ্যেই উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের রহমতপুর গ্রামে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। এলাকার প্রায় প্রতিটি পরিবারের বিভিন্ন বয়সের একজন বা তার অধিক নারী-পুরুষ ও শিশু ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে কেউ কেউ বাসায় চিকিৎসা নিলেও অধিকাংশকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আক্রান্তদের অধিকাংশই বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অ্যান্ড ট্রপিক্যাল ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালসহ নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আক্রান্তরা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর পর তাদের ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে। এদিকে, একই এলাকায় শতাধিক ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়ে বুধবার সরেজমিন এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সের একদল চিকিৎসক। পরিদর্শনকালে তারা ডেঙ্গুর প্রকোপ ঠেকাতে ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় এলাকাবাসীকে বেশ কিছু পরামর্শ প্রদান করেন। এছাড়া বেশ কয়েকজন জ্বরে আক্রান্ত রোগীর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেন। বিআইটিআইডি হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত ৩৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। যাদের মধ্যে ২২ জনেরও অধিক রোগী কুমিরা ইউনিয়নের রহমতপুর এলাকার। এছাড়া হাসপাতালটিতে বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন ডেঙ্গু আক্রান্ত ১০ জন রোগী। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিআইটিআইডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কুমিরা ইউনিয়নের রহমতপুর এলাকার গৃহবধূ তানিয়া আক্তার (১৯) জানান, শুধু তিনি নয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এইা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তার দুই ননদ রিমা আক্তার (২০), রুমা আক্তার (১৮) ও তার ১৮ মাস বয়সি ছেলে আবু সাঈদ। তিনিসহ পরিবারের চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে গত শনিবার সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গেছে তার স্বামী সালাউদ্দিন ও শাশুড়ি রহিমা বেগম। জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রহমতপুরের অপর বাসিন্দা ফাতেমা আক্তার বলেন, সপ্তাহখানেক আগে শরীরে প্রচন্ড কাঁপুনি দিয়ে তার জ্বর আসে। তিন দিন পর তিনি স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করান। তাতে তার ডেঙ্গু জ্বর শনাক্ত হয়। এরপর তিনি বিআইটিআইডি হাসপাতালে ভর্তি হন। রহমতপুর এলাকার সর্দার মীর হোসেন বলেন, গত ১৫ দিন ধরে তাদের গ্রামে ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ দেখা দেয়। শুরুতে একজন দুজন করে এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তবে বর্তমানে পুরো এলাকাজুড়ে এ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। হঠাৎ এলাকাজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসীরা। কুমিরা বাজার এলাকায় অরবিট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক কাজী রেজাউল করিম বলেন, গত এক সপ্তাহে রহমতপুর গ্রাম থেকে জ্বর নিয়ে পরীক্ষা করাতে আসা সব রোগীর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। বুধবারও একই এলাকার রক্ত পরীক্ষা করানো ৪ রোগীর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। বিআইটিআইডি কিংবা আইইডিসিআরের বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়ে এটা রোধ করা না গেলে পুরো এলাকায় ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়বে ডেঙ্গু। কুমিরা ইউপি চেয়ারম্যান মোরশেদ হোসেন চৌধুরী বলেন, রহমতপুর হলো এই ইউনিয়নের সবচেয়ে ছোট গ্রাম। গ্রামের চারপাশে ঝোপঝাড় ও নালা-ডোবার নোংরা আবর্জনার কারণে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। যে কারণে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নুর উদ্দিন রাশেদ বলেন, কুমিরার রহমতপুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের খবর পান তারা। পরে বিআইটিআইডি থেকে তথ্য নিয়ে যাচাইয়ের পর তার সত্যতা পেয়ে হাসপাতাল থেকে একদল চিকিৎসককে বুধবার ওই এলাকায় পাঠান। তিনি জ্বর আক্রান্ত রোগীদের সময়ক্ষেপণ না করে দ্রম্নত রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ অথবা হাসপাতালে এসে চিকিৎসাসেবা নেওয়ার পরামর্শ দেন। বিআইটিআইডি হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক মামুনুর রশীদ বলেন, গত এক সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের এক তৃতীয়াংশ রোগী সীতাকুন্ডের বড়কুমিরা ও ছোটকুমিরা এলাকা থেকে আসা। এসব এলাকায় প্রতি ঘরে ঘরে এক বা একাধিক সদস্য ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে বলেও জানিয়েছেন ভর্তি থাকা রোগীরা। এক এলাকায় এত রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি সত্যিই উদ্বেগের। তিনি ডেঙ্গু আক্রান্তদের দ্রম্নত হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে