টেরই পেলাম না যে ভোট হয়ে যাচ্ছে: কামাল

প্রকাশ | ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

যাযাদি রিপোটর্
বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোটার্সর্ ইউনিটিতে গণফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তৃতা করেন দলটির সভাপতি ড. কামাল হোসেন। পাশে আ স ম আব্দুর রব (ডানে) ও অধ্যাপক আবু সাইয়িদ Ñযাযাদি
৩০ ডিসেম্বর ‘ভোট হয়নি’ দাবি করে নতুন নিবার্চনের পথ বের করতে সরকারকে ‘জাতীয় সংলাপ’ ডাকার আহŸান জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীষের্নতা কামাল হোসেন। একাদশ সংসদ নিবার্চনের ফল প্রত্যাখ্যান করে পুননির্র্বাচনের দাবি তোলার এক সপ্তাহ পর বৃহস্পতিবার ঢাকায় নিজের দল গণফোরামের এক আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্যে এই আহŸান জানান তিনি। বিএনপিকে নিয়ে গঠিত ঐক্যফ্রন্ট গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নিবার্চনে আটটি আসনে জিতেছে, অধিকাংশ আসনে তাদের প্রাথীর্রা জামানত হারিয়েছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ পেয়েছে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, বিএনপি ও তাদের জোটকে জনগণই ভোট দেয়নি। কামাল সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বর যেটা হয়েছে, এটাকে কি অবাধ নিবার্চন হয়েছে কেউ বলবে? আসুন বছরের প্রথম দিকেই সঙ্কট সৃষ্টি না করে সবার সঙ্গে জাতীয় সংলাপ করুন। সংলাপের মধ্য দিয়ে সিদ্ধান্তগুলো নেয়া হোক, কীভাবে আমরা সংবিধানকে মেনে নিবার্চন করে নিবাির্চত সংসদ ও সরকার গঠন করব।’ সবাইকে নিয়ে একটি সংলাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে নিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট; তবে তা কবে হবে, সেই দিনক্ষণ ঠিক হয়নি। ভোট নিয়ে কামাল বলেন, ‘আমি ভাবতে পারিনি ৩০ ডিসেম্বরের যে ঘটনা, সেটা ৪৮ বছরের পরে এটা দেখতে হচ্ছে। আমি তো সরলভাবে বলেছিলাম, ভাই সকালে সকালে গিয়ে ভোট দেবেন। টেলিভিশন বলছে, কামাল হোসেন বুঝতে পারছেন না ঘটনা তো রাতেই ঘটে গেছে। ২৯ তারিখ রাতেই।’ অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের অভিযোগ, ভোটের আগের রাতেই পুলিশ ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে ব্যালটবাক্স ভতির্ করে রাখা হয়েছিল। কামাল বলেন, ‘যেভাবে হল আমরা কেউ টেরও পেলাম না যে আমাদের ভোট হয়ে যাচ্ছে। এটা কেন এভাবে করতে হবে? এরকম অস্বাভাবিক কাজ কেন হচ্ছে? এর থেকে ঘোষণা দিয়ে দেনÑ থাডর্ টামের্র জন্য একজন প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেছেন, তিনশ’ সদস্য সাংসদ হয়ে গেছেন।’ ‘এটা খেলা না কি? ১৭ কোটি মানুষকে নিয়ে কি খেলা করা যায়? রাষ্ট্র নিয়ে এভাবে খেলা করা চলে না। যারা এ সব করছে, তারা না বুঝে করছে। আমি মনে করি, মানসিকভাবে ভারসাম্য না হারালে কেউ এ সব করতে পারে না।’ কামাল বলেন, ‘নিবার্চনে সরাসরি মানুষ ভোট দেবে, ফলাফল হবে। এটা অন্য কোনো কায়দায় নিলে তা দেশে স্থিতিশীলতা আনে না, বৈধতাও আনে না। এই ধরনের চালাকির অনুষ্ঠান, বঙ্গবন্ধু বলতেন রাজ চালাকি। আমরা রাজনীতি থেকে সরে যাচ্ছি রাজ চালাকিতে।’ ‘আমি বলব, ৩০ ডিসেম্বর যে নিবার্চন হয়েছে, সেটা রাজ চালাকির একটা সুন্দর উদাহরণ। আমরা বলব, রাজ চালাকি থেকে বিরত থাকুন, জনগণের সামনে সবকিছু তুলে ধরুন। সংবিধান অনুযায়ী, আলাপ-আলোচনা করে যা করার করুন।’ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবতর্ন দিবসে ঢাকা রিপোটার্সর্ ইউনিটিতে এই আলোচনা সভা হয়। এক সময়ের আওয়ামী লীগ নেতা কামাল বঙ্গবন্ধুর দূরদশীর্মূলক বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন। বঙ্গবন্ধু সরকারের মন্ত্রী কামাল এবার বিএনপির সঙ্গে জোট গঠন করে নিবার্চন করে আওয়ামী লীগ নেতাদের চরম সমালোচনার মুখে পড়েছেন। সভায় জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এক বিষয় নয়। বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা সমথর্ক, এটাকে বাদ দিয়ে আরেকটা উপলব্ধি করা যাবে না। তিনিই দেশের স্থপতি।’ বতর্মান অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আজকে ৩০ ডিসেম্বর অতি ক্ষমতার লোভে গণতন্ত্রকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, সারাদেশে নারীদের যেভাবে ধষর্ণ করা হয়েছে, সুবণর্চর (নোয়াখালী) করা হয়েছে, মানুষের কণ্ঠ রুদ্ধ, বিবেক ক্ষত-বিক্ষত। পৃথিবীর ইতিহাসে এ ধরনের ববর্র, উলঙ্গ ভোট ডাকাতির নিবার্চন আর কোথাও হয়েছে বলে আমি শুনিনি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যদি দল ও ব্যক্তির ক্ষমতা হয়, সেটা জনগণ চায় না।’ গণফোরামের নিবার্হী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘আজকে আওয়ামী লীগ প্রতিদিন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করছে, তার আদশের্ক হত্যা করছে, সংবিধানকে হত্যা করছে। মুখে অনগর্ল মিথ্যাচারে মানুষকে প্রতারণা করছে।’ ‘সবের্শষ যে নিবার্চন হয়ে গেল, সেটা নিবার্চন বলবেন না নিযার্তন বলবেন? না কি ১৭ কোটি মানুষের সঙ্গে প্রতারণা বলবেন। কী প্রতারণা করল! জনগণকে আর ভোট দিতে হয় নাই। দিনের ভোট রাতেই হয়ে গেছে।’ গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বর কেমন নিবার্চন হয়েছে, এটার ব্যাখ্যা দেয়ার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। রাস্তা-ঘাট থেকে শুরু করে যে কোনো জায়গায় এমন কোনো লোক পাই না যে বলে আমি ভোট দিতে পেরেছি। আর যে বলে আমি ভোট দিতে পেরেছি, সে দুইশর উপরে ভোট দিয়েছে। এটা জাতির সঙ্গে মস্করা, তামাশা।’ ‘স্বৈরাচার কাকে বলে, কত প্রকার, কি কি, যদি আইয়ুব খান জীবিত থাকত, তাহলে সে লজ্জায় ভেগে চলে যেত। এত বড় স্বৈরাচার বিশ্বের বোধহয় কোথাও নেই।’ সভায় গণেফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা আবু সাইয়িদ, আমসাআ আমিন, মফিজুল ইসলাম খান কামাল, মোকাব্বির খান, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বীর প্রতীক, আসাদুজ্জামান বক্তব্য রাখেন।