প্রশ্নফঁাস না হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ

পরীক্ষার সময় কমিয়ে আনার পরামশর্ প্রধানমন্ত্রীর

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এবারে যে পদ্ধতিটা নেয়া হয়েছে, সেটা খুবই চমৎকার। আধা ঘণ্টা আগে পরীক্ষাথীর্রা চলে যাবে পরীক্ষার হলে। ২৫ মিনিট আগে জানানো হবে, কয়েকটা সেটের প্রশ্নপত্র থেকে, কোন সেটটা দেয়া হবে। তার ফলে নকল বন্ধ হয়েছে’

প্রকাশ | ২০ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

যাযাদি রিপোটর্
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার গণভবনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন Ñবাসস
প্রশ্নফঁাস ঠেকাতে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় যে পদ্ধতি নেয়া হয়েছে তার প্রশংসা করে পুরো পরীক্ষার সময় কমিয়ে আনার কথা ভাবতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, এখন পরীক্ষা শেষ করতে যেরকম প্রায় দুই মাস সময় লেগে যায়, তা কমিয়ে আনতে পারলে শিক্ষাথীের্দর যেমন আরও বেশি মনোযোগী করা যাবে, পরীক্ষা নিয়ে ‘গুজব আর অপপ্রচারের’ হাত থেকেও মুক্তি মিলবে। বৃহস্পতিবার গণভবনে এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে এই পরামশর্ আসে। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইনও উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে। উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় এবার পাস করেছে ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ শিক্ষাথীর্। তাদের মধ্যে ২৯ হাজার ২৬২ জন পেয়েছে জিপিএ-৫। পাসের হার আর পূণর্ জিপিএ পাওয়া পরীক্ষাথীর্র সংখ্যা- দুটোই গতবারের চেয়ে কমেছে। পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে ফঁাস হয়ে যাওয়ায় গত কয়েক বছর ধরে বেকায়দায় ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। কিন্তু এবার নতুন কিছু কড়াকড়ি আরোপের ফলে প্রশ্নফঁাসের অভিযোগ ছাড়াই উচ্চ মাধ্যমিকের সব পরীক্ষা শেষ হয়। ফলাফল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা বদনাম হতো প্রশ্নপত্র ফঁাস, প্রশ্নপত্র ফঁাস সমস্যাটা কিন্তু শুধু আমাদের দেশে না। অনেক উন্নত দেশেও এই সমস্যাটা দেখা যাচ্ছে কারণ ডিজিটাল হওয়াতে। ডিজিটালের যেমন সুফল আছে, মাঝেমাঝে কিছু কুফলও এসে যায়। খুব তাড়াতাড়ি সেটা প্রচার হয়ে যায়।’ এবার এইচএসসিতে প্রশ্নফঁাসের অভিযোগ না ওঠায় সন্তোষ প্রকাশ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘এবারে যে পদ্ধতিটা নেয়া হয়েছে, সেটা খুবই চমৎকার। আধা ঘণ্টা আগে পরীক্ষাথীর্রা চলে যাবে পরীক্ষার হলে। ২৫ মিনিট আগে জানানো হবে, কয়েকটা সেটের প্রশ্নপত্র থাকে, কোন সেটটা দেয়া হবে। তার ফলে নকল বন্ধ হয়েছে।’ তিনি বলেন, ছেলেমেয়েরা একটু পড়াশোনা করলেই যেখানে ভালো রেজাল্ট করতে পারে, সেখানে তারা নকল করবে কেন? এবার পরীক্ষা শেষ করার পর ৫৫ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করতে পারায় শিক্ষক এবং শিক্ষা বোডর্ ও মন্ত্রণালয়ের কমর্কতাের্দর ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘একটা ছোট্ট অনুরোধ আমার থাকবে, সেটা হলো পরীক্ষার সময়টা। পরীক্ষার একটা দীঘর্ সময়.. দোসরা এপ্রিল পরীক্ষা শুরু, আর ২৪ মে পযর্ন্ত পরীক্ষা। এই অত দীঘর্ সময়, বোধ হয় রেজাল্ট দিতেও আপনারা এত সময় নিলেন না পরীক্ষা নিতে যত সময় নিয়েছেন। সেখানে পরীক্ষার সময়টা কীভাবে কমিয়ে আনা যায়।’ ৭১ বছর বয়সী শেখ হাসিনা তার সময়ের পরীক্ষা পদ্ধতির কথা তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা যখন পরীক্ষা দিয়েছি, তখন তো আমাদের দুই বেলা করে পরীক্ষা দিতে হতো। সকালে এক পেপার, বিকালে এক পেপার। আমাদের তো দম ফেলার সময়ই থাকত না, সাত দিনে পরীক্ষা শেষ। ১০টা সাবজেক্ট, মাঝখানে দুই দিন ছুটি ধরে আমাদের পরীক্ষা শেষ হয়ে যেত।’ আজকের বাস্তবতায় পরীক্ষার সময় কী করে কমানো যায়, তা খুঁজে দেখার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটাকে আরেকটু কমিয়ে আনার ব্যবস্থা যদি করতে পারেন, তাহলে কিন্তু আপনি দেখবেন, ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করবে, পরীক্ষাটাও তাড়াতাড়ি হবে, আর এখানে ওই যে নানা ধরনের কথা প্রচার টচার, অপপ্রচার, তার হাত থেকেও মুক্তি পাওয়া যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’ উত্তীণর্ শিক্ষাথীের্দর অভিনন্দন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। নিজের পায়ে দঁাড়ানোর আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে।’ আর যারা অকৃতকাযর্ হয়েছে তাদের মনোবল না হারাতে এবং পরবতীর্ পরীক্ষার জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নেয়ার পরামশর্ দেন প্রধানমন্ত্রী। তাদের বলেন, ‘এখন থেকে মনোযোগ দিয়ে পড়লে কৃতকাযর্ হবে। নিজের ইচ্ছায় পড়তে হবে।’ অভিভাবকদের উদ্দেশে শেখ হাসিনার পরামশর্- ‘ছেলেমেয়েদের বকাঝকা করবেন না। কেন খারাপ করল, তা খুঁজে বের করুন।’ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদশের্ একটি শিক্ষিত জাতি গড়ে তোলার চেষ্টার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি একটা কথা বলব আমাদের ছেলেমেয়েদের, একটা সম্পদ- শিক্ষা, এই সম্পদটা কেউ কখনো কেড়ে নিতে পারবে না। ছিনতাইকারী কখনও নিতে পারবে না, চুরি-ডাকাতি করেও নিতে পারবে না। শিক্ষা হচ্ছে সবচাইতে বড় সম্পদ। কাজেই শিক্ষাগ্রহণ করতে পারলে তাহলে নিজের জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলা যাবে।’