শতর্পূরণে ব্যথর্ হলেও রাবিতে অধিভুক্ত হচ্ছে নতুন কলেজ

প্রকাশ | ২৩ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

রাজশাহী অফিস
অবকাঠামো ও জনবলসহ গুরুত্বপূণর্ শতার্বলি পূরণে ব্যথর্ হলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন কলেজ। কখনও বাণিজ্যিক ভবন, কখনও ভাড়া বাড়িতে কলেজ শুরুর কিছুদিন না যেতেই কিছু কিছু কলেজ বন্ধ হলেও এ অবস্থার মধ্যে আরও দুটি কলেজ অধিভুক্তির অনুমোদন দিতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃর্পক্ষ। অনুসন্ধানে জানা যায়, কলেজ অধিভুক্তির জন্য সংবিধিতে যে অবকাঠামোগত মোট ১৩ শতের্র ১০টি শতর্ পূরণ করতে পারেনি কোনো কলেজই। তা ছাড়া জনবল সম্পকের্ মিথ্যা তথ্য দিয়ে কলেজ অধিভুক্তির আবেদন করা হচ্ছে। যেগুলো সম্পকের্ খেঁাজ-খবর নিচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয় কতৃর্পক্ষ। কলেজ অধিভুক্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাড়তি আয়ের পথ তৈরি হচ্ছে ঠিকই, তবে শিক্ষার প্রসারে কলেজগুলো কোনো ভ‚মিকা রাখতে পারছে না। এরপরও অধিভুক্ত করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, বতর্মান অধিভুক্ত মোট কলেজের সংখ্যা ১৪টি। যার মধ্যে ১১টি ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ৩টি কৃষি কলেজ রয়েছে। যার একটি অ্যাডভান্স ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। কলেজ অধিভুক্তি সংবিধিতে বণির্ত প্রথম শতর্ কলেজের নামে ক্রয়কৃত নিজস্ব জায়গার ওপরে কলেজ ভবন থাকতে হবে নিদের্শনা থাকলেও ভাড়া বাড়িতে কলেজ পরিচালনা করছে এই কলেজটি। যেখানে শিক্ষাথীর্র সংখ্যা মাত্র ৫ জন। শুধু অ্যাডভান্স নয়, খেঁাজ নিয়ে জানা যায়, রাজশাহী শহরের অধিভুক্ত কলেজগুলোতেও একই অবস্থা। অধিকাংশ কলেজই ভাড়া ভবনে কাযর্ক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। একটি অথবা দুটি কক্ষে চলে এসব কাযর্ক্রম। শিক্ষাথীর্ পাচ্ছে না, শিক্ষক চলে যাচ্ছে এমন সমস্যা নিত্যদিনের। এর মধ্যে শিক্ষাথীর্ না পাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে রাজশাহীস্থ ইফসিলন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও গেøাবাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ নামের দুটি কলেজ। কলেজগুলোর হালচাল এমনই হলেও নতুন দুটি কলেজ অধিভুক্ত করতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃর্পক্ষ। দিনাজপুরে আনোয়ারা কলেজ অব বায়ো সায়েন্স নামের একটি কৃষি কলেজ ও কেএসএফএল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এই দুটি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্তির আবেদন জমা পড়ে আছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ পরিদশর্ক দফতরে। এ বিষয়ে দফতর সূত্র জানায়, আগামী শিক্ষা পরিষদের সভায় অধিভুক্তির সুপারিশ করা হবে কলেজ দুটি। শতর্ পূরণে ব্যথর্ হলেও কলেজগুলোর অধিভুক্তির সিদ্ধান্ত উচ্চশিক্ষার প্রসারের কাজটি হেঁাচট খাচ্ছে বলে জানাচ্ছেন বিশ্লেষকরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বায়োলোজিক্যাল সায়েন্সের পরিচালক অধ্যাপক ড. মঞ্জুর হোসেন বলেন, যখন একটা আইন ভাঙা হয় তখন পুরো পরিবেশ বা সিস্টেম লস হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার পরিবেশটাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কলেজগুলোর অধিভুক্তির ক্ষেত্রেও একই সমস্যা। উচিত হবে কলেজগুলোর ব্যাপারে খেঁাজ-খবর নেয়া এবং প্রয়োজনীয় শতর্ পূরণের মাধ্যমে তাদের অধিভুক্ত করা। শতর্ পূরণ না হলেও কলেজগুলোর অধিভুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে সমস্যাগুলো স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ পরিদশর্ক অধ্যাপক ড. এম মুজিবুর রহমান বলেন, কলেজগুলো একধরনের প্রতারণা করে কতৃর্পক্ষের সঙ্গে। যেমন প্রথমে একটি ভবন দেখায়, পরে দেখা যায় ভবনটি স্থানান্তর করে ফেলেছে। শিক্ষক ২০ জন দেখালেও অধিভুক্তির পর শিক্ষক সংখ্যা কমে যায়। এ রকম বেশ কিছু সমস্যা তৈরি করে তারা। তবে তাদের চেষ্টা আছে যারা শতর্ পূরণ করবে না তাদের অধিভুক্তি বাতিল করে দেয়া এবং যারা শতর্ ভঙ্গ করেছে তাদের সতকর্ করা হচ্ছে।