বাড়ছে ট্রেন, বাড়ছে আয়

১০ বছরে আয় বেড়েছে ৭৫৯ কোটি, যাত্রী পরিবহন ২ কোটি ৭৬ লাখ চলতি বছরে চালু হচ্ছে ঢাকা-রংপুর-কুড়িগ্রাম সরাসরি ট্রেন সার্ভিস ইন্দোনেশিয়া থেকে আসছে ২০০ আধুনিক নতুন কোচ

প্রকাশ | ২৬ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

কিশোর সরকার
বদলে যাচ্ছে রেলের যাত্রী সেবা খাত। নতুন নতুন রুটে সংযোজন হচ্ছে নতুন ট্রেন। বাড়ছে রেলের আয়। ১০ বছরে এ খাতের আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা। আর যাত্রী পরিবহন বেড়েছে ২ কোটি ৭৬ লাখ ৭৬ হাজার। রেলওয়ে অধিদপ্তরের হালনাগাদ পরিসংখ্যানুযায়ী, যাত্রী সেবা বাড়তে থাকায় যেখানে ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে আয় ছিল ২৭৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ওই সময়ে যাত্রী পরিবহন হয় ৬ কোটি ৫০ লাখ ২৯ হাজার টাকা। তার ঠিক ১০ বছর পর ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে যাত্রী পরিবহন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ২৭ লাখ ৫ হাজার। আর আয় বেড়েছে ১ হজার ৩৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান রেলপথমন্ত্রী যোগদানের পর নতুন নতুন রেলপথ নির্মাণের পাশাপশি বিভিন্ন রুটে নতুন রেল চালুর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর ধারাবাহিকতায় এ বছর মে মাসে ঢাকা থেকে পার্বতীপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও হয়ে পঞ্চগড় পর্যন্ত 'পঞ্চগড় এক্সপ্রেস' নামের একটি সরাসরি ট্রেন সার্ভিস চালু করেছেন। এ ছাড়া গত ২৭ এপ্রিল ঢাকা থেকে রাজশাহী পর্যন্ত 'বনলতা এক্সপ্রেস' নামে একটি সরাসরি ট্রেন সার্ভিস চালু করেন। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের যাত্রীদের দাবিতে বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পর্যন্ত চালানো হচ্ছে। এ ছাড়া শিগগির ঢাকা থেকে রংপুর হয়ে কুড়িগ্রাম পর্যন্ত একটি সরাসরি ট্রেন সার্ভিস ও ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে কমিউটার ট্রেনের পাশাপাশি একটি আন্তঃনগর ট্রেন সার্ভিস চালু করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রেল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মো. মিয়াজাহান বলেন, বর্তমান মন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে অফিস শুরু করার পরের দিনই বলেছেন, রেলের নতুন নতুন লাইন নির্মাণ কাজ দ্রম্নত গতিতে চালাতে হবে। এর পাশাপাশি বিদ্যমান রেললাইনের উপর দিয়ে কীভাবে বিভিন্ন রুটে নতুন নতুন রেল সার্ভিস চালু করা যায় সেই ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে যাত্রী সেবা বৃদ্ধিসহ গুণগত মান উন্নত করতে হবে। তিনি বলেন, মন্ত্রীর আপ্রাণ চেষ্টায় তিনটি রুটে ইতোমধ্যে তিনটি নতুন ট্রেন সার্ভিস চালু করা সম্ভব হয়েছে। আর এ তিনটি ট্রেন থেকে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে যাত্রী সেবা খাত থেকেই অতিরিক্ত ১১২ কোটি টাকা আয় হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে অধিকাংশ রেলের কোচ অনেক পুরাতন। যাত্রী সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই ইন্দোনেশিয়া থেকে ২০০ নতুন কোচ আনা হচ্ছে। প্রথম ধাপে ২৬টি কোচ গত পহেলা আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছে। বাকিগুলো আসার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আর এ কোচ পৌঁছলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের 'সুবর্ণ এক্সপ্রেস', 'মহানগর এক্সপ্রেস', রংপুর-লালমনিরহাট রুটের রংপুর ও লালমনিরহাট এক্সপ্রেস ও সিলেট রুটের জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসের রেলের সকল কোচ পরিবর্তন করা হবে বলে তিনি জানান। পরিসংখ্যানুযায়ী ২০০৯-২০১০ অর্থবছরে যাত্রী ৬ কোটি ৫৬ লাখ ২৭ হাজার, আয় ২৯৬ কোটি ৭০ লাখ, ২০১০-২০১১ অর্থবছরে যাত্রী ৬ কোটি ৩৫ লাখ ৩৬ হাজার, আয় ৩১৯ কোটি ৭৪ লাখ, ২০১১-২০১২ অর্থবছরে যাত্রী ৬ কোটি ৬১ লাখ ৩৯ হাজার, আয় ৩৭০ কোটি ৩৯ লাখ, ২০১২-১৩ অর্থবছরে যাত্রী ৬ কোটি ২৫ লাখ ৯৭ হাজার, আয় ৫১০ কোটি ৬২ লাখ, ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে যাত্রী ৬ কোটি ৪৯ লাখ ৫৮ হাজার, আয় ৫১১ কোটি ৬৯ লাখ, ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে ৬ কোটি ৭৩ লাখ ৪২ হাজার, আয় ৫৫৪ কোটি ৫২ লাখ, ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে যাত্রী ৭ কোটি ৮ লাখ ২৬ হাজার, আয় ৫৯৬ কোটি ৭৭ লাখ, ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে যাত্রী ৭ কোটি ৭৮ লাখ ৭ হাজার, আয় ৭৮৪ কোটি ২৩ লাখ, ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে যাত্রী ৯ কোটি ৫৭ হাজার, আয় এক হাজার তিন কোটি ৫০ লাখ এবং ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে যাত্রী ৯ কোটি ২৭ লাখ ৫ হাজার, আয় হয় এক হাজার ৩৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা।