সীমান্তে গুলিবিনিময়

তিন দিনেও ফেরেনি স্বাভাবিক অবস্থা

সীমান্তবাসীর মাঝে বইছে এক ধরনের অজানা আশঙ্কা। কখন যেন আবার কি হয়? এমন আতঙ্ক নিয়ে দিন পার করছেন পদ্মা পাড়ের বাসিন্দারা

প্রকাশ | ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

চারঘাট (রাজশাহী) সংবাদদাতা
রাজশাহীর চারঘাটে পদ্মা নদীতে ইলিশ মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে বিজিবির সঙ্গে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এর গোলাগুলির ঘটনার তিনদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো সীমান্তে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসেনি। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্তে স্বাভাবিক অবস্থা দাবি করা হলেও সীমান্তবাসীর মাঝে বইছে এক ধরনের অজানা আশঙ্কা। কখন যেন আবার কি হয়? এমন আতঙ্ক নিয়ে দিন পার করছেন পদ্মা পাড়ের বাসিন্দারা। সরেজমিনে গিয়ে পদ্মা পাড়ের বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এমন তথ্য। পদ্মা পাড়ের বাসিন্দা চারঘাট উপজেলার চক মোক্তারপুর এলাকার রবিউল ইসলাম, জমশেদ আলী, আরশাদ আলী, মহাদেবসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, আমরা পদ্মা পাড়ের বাসিন্দা। নদীতে মাছ শিকার করে চলে আমাদের জীবন সংগ্রাম। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে বিএসএফ-এর গুলির ঘটনায় চরম আতঙ্ক নিয়ে দিন পার করছি। নদীতে কোনোভাবেই নামতে সাহস পাচ্ছি না। এমনকি নদীর কিনারে সন্ধ্যার পরে কেউ আর থাকছে না। সকলেরই মাঝে এক ধরনের অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা বলেন, ইতিমধ্যে মাইকিং করে নদীতে নামতে নিষেধ করায় আরও ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে। গোপালপুর এলাকার বাসিন্দা সাবদুল বলেন, বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর থেকে নদীর কিনারায় কেউ জমিতে কাজও করতে সাহস পাচ্ছে না। সব সময় একটা আতঙ্ক মনের ভেতরে তাড়া করে ফিরছে। কখন যেন আবার কি হয়? এমন আতঙ্ক এখন পদ্মা পাড়ের অধিকাংশ বাসিন্দাদেরই মাঝে বইছে বলে দাবি করেন তারা। জরুরি কাজ ছাড়া কেউ এখন আর নদীর দিকে যাচ্ছে না। পদ্মা পাড়ের স্কুল শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিএসএফ সদস্যরা আগে তাদের সীমানায় বাংলাদেশিকে হত্যার ঘটনা ঘটালেও এখন বাংলাদেশি সীমানায় প্রবেশ করে গুলি করায় সবার মনে আতঙ্ক কাজ করছে। যদিও বিজিবির পক্ষ থেকে আতঙ্ক না করতে সবার মনে সাহস জোগাচ্ছে। উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ ফকরুল ইসলাম বলেন, এমন ঘটনা অতি দুঃখজনক, অনাকাঙ্ক্ষিত। তার পরেও বর্তমানে সীমান্তে আতঙ্ক নেই। কিন্তু সাধারণ মানুষের মাঝে একটা ভয় তো আছেই। তবে পদ্মায় ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো ধরনের জেলে মাছ ধরতে না নামেন এজন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। চারঘাট বিজিবির হাবিলদার নুরুল ইসলাম বলেন, সীমান্তে আতঙ্ক নেই। এলাকাবাসীকে আতঙ্কিত না হতে সাহস দেয়া হচ্ছে। তাছাড়া মাছ ধরতে যাতে করে কেউ আইন অমান্য না করে সেজন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত গত বৃহস্পতিবার পদ্মা নদীতে ইলিশ মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় জেলে প্রণব মন্ডলকে আটক করে বিজিবি। আর এই আটক করাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকাল এগারোটার দিকে ভারতীয় বিএসএফ সদস্যরা শূন্যরেখা অতিক্রম করে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে বাংলাদেশ সীমানায় ঢুকে বিজিবির নিকট আটক ভারতীয় জেলে প্রণবকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় বিএসএফ সদস্যরা প্রথমেই বিজিবিকে লক্ষ্য করে এলোপাতারি গুলি বর্ষণ শুরু করে। বিজিবিও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুড়ে। এ ঘটনায় বিএসএফ-এর পক্ষ থেকে তাদের একজন সদস্য নিহত ও একজন সদস্য আহত হওয়ার দাবি করে ওইদিন সন্ধ্যায় পতাকা বৈঠকে দু'দেশে ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করে তদন্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। \হ