রাজশাহীর টিপু রাজাকারের মৃতু্যদন্ড

প্রকাশ | ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক
টিপু সুলতান
যাযাদি রিপোর্ট মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজশাহীর বোয়ালিয়ার আব্দুস সাত্তার ওরফে টিপু সুলতান ওরফে টিপু রাজাকারের মৃতু্যদন্ডের আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনাল। ট্রাইবু্যনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল বুধবার এই মামলার রায় ঘোষণা করে। গত ১৭ অক্টোবর এই মামলার বিচারকাজ শেষ হয়। সেদিন মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছিলেন ট্রাইবু্যনাল। গত মঙ্গলবার ট্রাইবু্যনাল রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করে। ২০১৭ সালের ২ মে এই মামলার তদন্ত শুরু হয়। গত বছরের ২৭ মার্চ আসামি সাত্তারের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দেয় ট্রাইবু্যনালের তদন্ত সংস্থা। সাত্তারের বিরুদ্ধে অপহরণ, আটক, নির্যাতন, লুটতরাজ, হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি অভিযোগ আমলে নিয়ে গত বছরের ৮ আগস্ট অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইবু্যনাল। তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৪ জন এই মামলায় সাক্ষ্য দেন। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোখলেসুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, রায়ে তাঁরা সন্তুষ্ট। আসামির আইনজীবী গাজী এম এইচ তামিম সাংবাদিকদের বলেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন তার মক্কেল। ট্রাইবু্যনালের তদন্ত সংস্থা জানায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় আসামি সাত্তার জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন 'ইসলামী ছাত্র সংঘের রাজনীতি করতেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতি করেন। ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় মতিহার থানার পুলিশ সাত্তারকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তী সময়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। রায় দ্রম্নত কার্যকর চায় শহীদ পরিবার রাজশাহী অফিস জানায়, একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজশাহীর জামায়াত নেতা আবদুস সাত্তার ওরফে টিপু সুলতান ওরফে টিপু রাজাকারের রায় দ্রম্নত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা। টিপু রাজাকারের রায় ঘোষণার আগে তালাইমারি শহীদ মিনারে অবস্থান নেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা। রায়ে সন্তুষ্ট প্রকাশ করে দ্রম্নত কার্যকর করার দাবি জানান তারা। রায় ঘটনার পর প্রতিক্রিয়ায় শহীদ বাবর আলীর ছেলে শাহ জামান বলেন, 'এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। রায় ঘোষণার পর আমরা এতই আনন্দিত যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর আমরা যে বিচার চেয়েছিলাম ট্রাইবু্যনালের কাছে সে বিচার সম্পন্ন হয়েছে এবং আসামির ফাঁসি হয়েছে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে এই বিচারের ব্যবস্থা করা জন্য।' তিনি বলেন, 'একাত্তরে আমি নবম শ্রেণির ছাত্রছিলাম আমি। আমার বাবা ছিলেন প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার এবং আওয়ামী লীগের নেতা। একাত্তরের ২৬ সেপ্টেম্বর শহরের সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট থেকে টিপু রাজাকারের নেতৃত্বে আমার বাবাকে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা হলে নিয়ে যায়। সেখানে কয়েকদিন রেখে নির্যাতনের পর হলের পিছনে গুলি করে হত্যা করে লাশ পুতে ফেলে। পরে তালাইমারিতে আমাদের বাড়িতে লুটপাট চালিয়ে আগুন দেয় টিপু রাজাকার ও তার সহযোগীরা।' রায় শুনে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন শহীদ শফিউদ্দীনের একমাত্র সন্তান জয়নুব বেগম। তিনি বলেন, তার বাবা ছিলেন ব্যবসায়ী। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। বাবা শহীদ হওয়ার পর তাদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। টিপু রাজাকারের রায় দ্রম্নত কার্যকর করার দাবি জানান তিনি। একই দাবি জানান শহীদ আফিল উদ্দিনের মেয়ে বিলকিস বানু। আফিল উদ্দিনও ব্যবসায়ী ছিলেন। তাদের ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা ও বাড়িতে লটুপাট চালায় টিপু রাজাকার ও তার সহযোগীরা।