জোরেশোরেই চলছে ইজতেমার প্রস্তুতি

প্রকাশ | ০৭ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০

রেজাউল কবির রাজিব, টঙ্গী
ভাসমান ব্রিজ তৈরি করছেন সেনাসদস্যরা
টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা তাবলিগ জামাতের ধর্মীয় সমাবেশ। তুরাগ নদের তীরে ময়দানের প্রস্তুতি কার্যক্রম দ্রম্নত এগিয়ে চলছে। ১৬০ একর জায়গার উপর ২ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিশাল চটের প্যান্ডেলের সামিয়ানার নিচে আগামী ১০ জানুয়ারি (শুক্রবার) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু হবে। প্রতিবছরের মতো এবারও ৩ দিন করে দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বে ১০ ও ১২ জানুয়ারি ওলামা-মাশায়েখ, তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের শীর্ষ মুরুব্বি ও কাকরাইল জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা জোবায়ের আহমেদের অনুসারী মুসলিস্নরা অংশ নেবেন। ১২ জানুয়ারি রোববার দুপুরে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ইজতেমার প্রথম পর্ব। প্রথম পর্বে আসা মুসলিস্নদের ১৩ জানুয়ারি সকালের মধ্যে ময়দান ত্যাগ করতে হবে। পরে মাওলানা সাদপন্থি অনুসারী মুসলিস্নরা আগামী ১৭ জানুয়ারি রোববার বাদ ফজর থেকে দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমায় অংশ নেবেন। ১৯ জানুয়ারি মধ্যাহ্নের পূর্বে যে কোনো এক সময় আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ২০২০ সালের বিশ্ব ইজতেমা। প্রতি পর্ব ইজতেমা কার্যক্রম শেষে জিম্মাদাররা ময়দানের দায়িত্ব প্রশাসনের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে যাবেন বলে জানা গেছে। রোববার ইজতেমা মাঠ সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বিশ্ব ইজতেমাকে সামনে রেখে দ্রম্নতগতিতে এগিয়ে চলছে সব ধরনের প্রস্তুতির কাজ। স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্রসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ময়দানে প্যান্ডেল তৈরির কাজ করছেন। এছাড়াও রাস্তা মেরামত, মাইক টানানো, টয়লেট পরিষ্কার-পরিচ্ছন, ময়দানের আগাছা পরিষ্কারের কাজ করছেন আগত মুসলিস্নরা। ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে বিশ্ব ইজতেমা আয়োজক কমিটি জানায়। ঢাকা লালবাগ এলাকা থেকে আসা মো. ইসমাইল হোসেন জানান, প্রায় ৭০ জন ইজতেমার সাথী ভাই নিয়ে ময়দানে কাজ করতে এসেছেন। তিনি বলেন, আলস্নাহর মেহমানরা ইবাদত-বন্দেগি করতে আসবেন। তারা যেন সুন্দরভাবে ইবাদত-বন্দেগি করতে পারেন সেই দিক খেয়াল রেখে ময়দানের কাজ করতে এসেছি। বিদেশি মেহমানদের কামরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করছি। যাতে বিদেশি মেহমানরা ইজতেমা ময়দানে এসে চলাফেরায় কোনো প্রকার কষ্ট না পান, সেই দিকে খেয়াল রেখে কাজ করে যাচ্ছি। মুসলিস্নদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে ময়দানে স্থান সংকুলান না হওয়ায় ২০১১ সাল থেকে টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা তিন দিন করে দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হয়। গত দুই বছর জোবায়ের ও সাদ গ্রম্নপের মধ্যে সমস্যা দেখা দেয়ায় এবারও দুই পর্বে ইজতেমা হচ্ছে। প্রথম পর্বের ইজতেমা ময়দানের জিম্মাদার ফকির আতাউর রহমান জানান, আগামী ১০ জানুয়ারি শুরু হবে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। এ উপলক্ষে ইজতেমার প্রস্তুতি দ্রম্নত এগিয়ে চলছে। এ প্রস্তুতি কাজে সার্বিক সহযোগিতা করছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র অ্যাড. জাহাঙ্গীর আলম এবং জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম। প্রতি বছরের মতো এবারও আগত মুসলিস্নরা জেলাওয়ারি খিত্তায় অবস্থান করবেন। তবে এবারই বিরতিহীনভাবে তিন দিন করে দুইপর্বে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মঞ্চ তৈরি : ইজতেমা উপলক্ষে ময়দানের পশ্চিম পাশে বিদেশি মেহমানদের জন্য তৈরি টিনশেড সংলগ্ন পশ্চিম কোণে লোহার পাইপ দিয়ে মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে। এদিকে বিদেশি মেহমানদের জন্য টিন দিয়ে তৈরি তাঁবুতে বিগত বছরে মতো এবারও পাকা টয়লেট এবং তাদের সুবিধার্থে প্রায় তাঁবুগুলো উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও আরামদায়ক করে তোলা হবে বলে ইজতেমা প্রস্তুতি কাজে নিয়োজিত জোবায়ের অনুসারি মুরুব্বীরা জানান। ডাস্টবিন : ইজতেমা চলাকালে ময়দানে আগত মুসলিস্নদের ফেলানো উচ্ছিষ্ট ফেলার জন্য ময়দানের চারপাশে রিংয়ের তৈরি পোর্টেবল ডাস্টবিন স্থাপন করা হচ্ছে। যাতে ময়লা-আর্বজনা যেখানে সেখানে না ফেলে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলতে পারে। এদিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র অ্যাড. জাহাঙ্গীর আলম পুরো ইজতেমা মাঠজুড়ে মুসলিস্নদের সুবিধার্থে ডেঙ্গুর কথা মাথায় রেখে মশক নিধনের কাজ করে যাচ্ছেন এবং ইজতেমার শেষ পর্যন্ত তিনি মশক নিধনের কাজ করে যাবেন। বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের শীর্ষ মুরুব্বি ও শুরা সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মেজবাহ উদ্দিন জানান, ময়দানের প্রস্তুতিকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আশা করি, আগামী ১০ তারিখের আগেই প্রস্তুতিকাজ শেষ হবে। ইনশাআলস্নাহ।