ভারতে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশের জাহাজ

প্রকাশ | ১১ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০

যাযাদি ডেস্ক
শুক্রবার কর্ণফুলী নদীতে ওয়েস্টার্ন ক্রুজ জাহাজে এক অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ও ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাশ -যাযাদি
প্রতিবেশী দেশ ভারতে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশে তৈরি আরও দুটি বড় কার্গো জাহাজ। শুক্রবার কর্ণফুলী নদীতে ওয়েস্টার্ন ক্রুজ জাহাজে এ উপলক্ষে বর্ণিল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ভারতের জিন্দাল স্টিল ওয়ার্কসকে জাহাজ হস্তান্তর উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাশ। অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, 'ভারত, ভুটান, নেপালকে আমাদের বন্দর ব্যবহার করতে দিলে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে। আমরা উন্নতির স্বার্থে বন্ধুত্বের সম্পর্ক বজায় রাখবো।' বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে বলা হয়েছিল বটমলেস বাস্কেট। বলা হয়েছিল বাংলাদেশ টিকবে না। আজ বাংলাদেশ পৃথিবীর কাছে বিস্ময়। আমাদের টার্গেট ডাবল ডিজিট গ্রোথ। আগামী বছর বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী। তিনি বলেন, পৃথিবী হচ্ছে পার্টনারশিপ ব্যবসাক্ষেত্র। নৌপথে খরচ কমবে। আমরা ভারত থেকে বেশি সুবিধা নিতে পারি। শুধু মাইন্ডসেট পরিবর্তন করতে হবে। আমরা ভৌগোলিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে আছি। মোংলা বন্দরের উন্নয়ন হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ছে। অনেক জায়গায় আরও কাজ করার সুযোগ আছে। বর্ডার হাট চালু হয়েছে। আমাদের দুর্দিনে, মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছিল। ১ কোটি মানুষকে জায়গা দিয়েছিল। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পের অগ্রগতি হয়েছে। আমাদের জাহাজ রপ্তানি হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের নাম বহির্বিশ্বে উজ্জ্বল করছে। আমাদের সক্ষমতা বাড়ছে বিভিন্ন ধরনের জাহাজ নির্মাণে। ভারত আরও জাহাজ নির্মাণের কার্যাদেশ দেবে বলে আশা করেন মন্ত্রী। ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেডের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, ২০১৫ সালে ভারতের জিন্দাল স্টিল ওয়ার্কস ২০০ কোটি টাকায় ৪টি জাহাজ নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়। ২০১৭ সালের অক্টোবরে 'জেএসডবিস্নউ রাইগাড়' ও 'জেএসডবিস্নউ প্রতাপগড়' হস্তান্তর করা হয়। ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডে নির্মিত ৮ হাজার ডিডবিস্নউটি ধারণক্ষমতার 'জেএসডবিস্নউ সিংহগড়' ও 'জেএসডবিস্নউ লোহগড়' নামের জাহাজগুলো মুম্বাই ও গোয়ার মধ্যবর্তী জয়গড় বন্দর থেকে মহারাষ্ট্রের ধরমতার বন্দরে খনিজ লোহা ও কয়লা পরিবহণ করবে। প্রতিটি জাহাজ ১৩৩০ কিলোওয়াট ও ৯০০ আরপিএমের দুটি ইয়ানমার মেরিন ইঞ্জিন দিয়ে চালিত, যা ১০০ শতাংশ লোডেড অবস্থায় সর্বোচ্চ ১০ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলতে সক্ষম। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রিয়ার অ্যাডমিরাল আবু আশরাফ, ব্যাংক এশিয়ার ডিএমডি এসএম ইকবাল, ওয়েস্টার্ন মেরিনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন সোহেল হাসান প্রমুখ।