রিফাত হত্যা

পাঁচ অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামির ডাক্তারি পরীক্ষার আবেদন

প্রকাশ | ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক
যাযাদি ডেস্ক বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলার পাঁচ আসামির ডাক্তারি পরীক্ষার আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণের দিন সোমবার বরগুনার শিশু আদালতে এ আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। পরে ডাক্তারি পরীক্ষার আবেদনের শুনানির জন্য ১৬ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করে আদালত। আদালত সূত্রে জানা যায়, বহুল আলোচিত এ মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে সোমবার প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণের দিন পূর্বনির্ধারিত ছিল। সাক্ষ্যগ্রহণের দিন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন মামলার বাদী নিহত রিফাত শরীফের বাবা আব্দুল হালিম দুলাল শরীফ। একই দিনে মামলার পাঁচজন অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামির বয়স নির্ধারণের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। ডাক্তারি পরীক্ষার মাধ্যমে বয়স নির্ধারণের জন্য যেসব আসামির বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন করা হয়েছে তারা হলো- রাশিদুল হাসান রিশান ফরাজী, জয় চন্দ্র সরকার চন্দন, মো. নাঈম, সাইয়েদ মারুফ বিলস্নাহ ওরফে মহিবুলস্নাহ এবং মারুফ মলিস্নক। এ বিষয়ে রিফাত হত্যা মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মুজিবুল হক কিসলু বলেন, সোমবার রিফাত হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষ্য দিয়েছেন রিফাত শরীফের বাবা আব্দুল হালিম দুলাল শরীফ। এ মামলার বাদী তার ছেলে হত্যার সঠিক বর্ণনা সাক্ষ্যের মাধ্যমে আদালতে উপস্থাপন করেছেন। এরপর আসামিপক্ষের ১০ জন আইনজীবী তাকে জেরা করেন। তিনি আরও বলেন, রিফাত হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির মধ্যে পাঁচজন আসামির বয়স ১৮ বছরের বেশি মনে হচ্ছে। কিন্তু পুলিশের দাখিল করা চার্জশিটে তাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক দেখানো হয়েছে। তাই রাষ্ট্রপক্ষ ডাক্তারি পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের বয়স যাচাই করার জন্য আদালতে আবেদন করেছে। আগামী ১৬ জানুয়ারি এ আবেদনের শুনানি হবে। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বরগুনার শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমানের আদালতে সাক্ষ্য দেন রিফাত শরীফের বাবা আব্দুল হালিম দুলাল শরীফ। সাক্ষ্যগ্রহণ উপলক্ষে বরগুনা কারাগারে থাকা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১১ আসামিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এদিন আদালতে উপস্থিত হয় জামিনে থাকা এ মামলার অন্য তিন আসামি। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বলেন, আমি আমার ছেলে হত্যার বর্ণনা আদালতে সঠিকভাবে দিয়েছি। আমার বিশ্বাস ছেলে হত্যার ন্যায়বিচার পাব। আমার একমাত্র ছেলে হত্যাকান্ডে জড়িতরা যে যে ধরনের অপরাধ করেছে তারা সেই ধরনের অপরাধের উপযুক্ত শাস্তি পাবে। গত ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত হত্যাকান্ড ঘটে। গত ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক; এ দুভাগে বিভক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জন। এ মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক আসামি মো. মুসা এখনো পলাতক রয়েছেন। এছাড়া নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি ও অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি প্রিন্স মোলস্না উচ্চ আদালতের আদেশে এবং বরগুনার শিশু আদালতের আদেশে মারুফ মলিস্নক এবং আরিয়ান হসেন শ্রাবণ জামিনে রয়েছে। আর বাকি আসামিরা কারাগারে। গত ১ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত। অন্যদিকে গত ৮ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বরগুনার শিশু আদালত। রিফাত হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্তরা হলো- মো. রাশিদুল হাসান রিশান ফরাজী, মো. রাকিবুল হাসান রিফাত হাওলাদার, মো. আবু আবদুলস্নাহ রায়হান, মো. ওলিউলস্নাহ অলি, জয় চন্দ্র সরকার চন্দন, মো. নাইম, মো. তানভীর হোসেন, নাজমুল হাসান, রাকিবুল হাসান নিয়ামত, মো. সাইয়েদ মারুফ বিলস্নাহ মহিবুলস্নাহ, মারুফ মলিস্নক, প্রিন্স মোলস্না, রাতুল সিকদার জয় এবং আরিয়ান হোসেন শ্রাবণ। আজ সকালে রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সাক্ষ্য দেবেন নিহত রিফাতের দুই চাচাসহ এ মামলার তিনজন সাক্ষী। একই দিন বিকেলে বরগুনা শিশু আদালতে অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবেন নিহত রিফাতের মা ডেইজি বেগম এবং চাচাতো বোন নুসরাত জাহান অনন্যা।