• বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১১ ফাল্গুন ১৪২৭

নিজ দলের এমপিদের নিয়ে সংসদে ফিরোজের ক্ষোভ

নিজ দলের এমপিদের নিয়ে সংসদে ফিরোজের ক্ষোভ
কাজী ফিরোজ রশীদ

জাতীয় পার্টির জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ সংসদে দাঁড়িয়ে নিজের দলের সংসদ সদস্যদের নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, 'কোনো কোনো সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির নাম উচ্চারণ করে নাই, এরশাদের নাম উলেস্নখ করে নাই। অথচ দল থেকে মনোনীত সংসদ সদস্য। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে নির্বাচন করেছি। কিন্তু নমিনেশন দিয়েছিল আমাদের দল।'

রোববার সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় ফিরোজ বলেন, 'সব দলের সদস্যরা আছেন। জোট করে নির্বাচন করেছি। বিরোধী দলে বসেছি, এটা হলো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, আমাদের কারও কারও বক্তব্যে বোঝা যায় না কোন দলের সদস্য।'

বিষয়টি নিয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা করবেন বলে জানান তিনি।

সরকারের উন্নয়নের পেছনে জাতীয় পার্টির 'ভূমিকা আছে' দাবি করে ফিরোজ বলেন, 'আওয়ামী লীগের কোনো নেতা একবারও জাতীয় পার্টির কথা বলে না। এত কার্পণ্য কেন? এটা গণতন্ত্রের ভাষা না। ২০১৪ সালে যে ধ্বংসযজ্ঞ ছিল, সে নির্বাচনে জাতীয় পার্টি না এলে নির্বাচন হতো না। সরকার, সংবিধান, সংসদ কিছুই থাকত না। গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেই জাতীয় পার্টি নির্বাচনে এসেছিল।'

আর্থিক খাতের ব্যবস্থাপনায় সরকারের সমালোচনা করে ফিরোজ রশীদ বলেন, "দিন-রাত প্রধানমন্ত্রী কাজ করছেন, অথচ টাকা 'লুটপাট' হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ব্যাংক খাত। লিজিং কোম্পানির হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে আত্মীয়-স্বজনের অভাব হয় না। শালা-সম্বন্ধি সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ে লোনের জন্য, পেয়েও যায়। টাকা যে চলে গেছে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে...।"

তিনি বলেন, 'শুধু পিকে হালদারকে ধরলে হবে না। পেছনে কারা আছে? হাজার হাজার কোটি টাকা চলে গেল। বাংলাদেশ ব্যাংকের অসাধু কর্মকর্তারা জড়িত। তারা কেন খবর রাখেনি? সবকিছু অটোমেশন এখন। যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।'

স্বাধীনতাবিরোধীদের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি বন্ধেরও দাবি তোলেন এরশাদের গড়া জাতীয় পার্টির এই এমপি।

তিনি বলেন, 'আমাদের কিছু সংগঠন আছে। একটি সংগঠন আছে নাস্তিক নির্মূল কমিটি। আরেকটি সংগঠন হচ্ছে ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি। এই নির্মূল করার ক্ষমতা এদের কে দিয়েছে? আমি জানতে চাই। তুমি কে নির্মূল করার? আমার দেশে কোর্ট-কাচারি আছে না? অনেক বিচার করেছে এই সরকার। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হচ্ছে, রাজকারদের বিচার হচ্ছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে, তুমি কেন?... আমি মনে করি যে এদেরকেই প্রতিরোধ করা দরকার।'

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, 'অনুরোধ করব, এই সমস্ত সংগঠন-এইগুলো বন্ধ করুন। যাতে কেউ মানুষ নির্মূল করতে না পরে। কীসের নির্মূল কমিটি? আমাদের সমাজে একটা কোটারি আছে।'

জনগণের টাকায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট স্থাপন করার পরও একটি কোম্পানি একচেটিয়া মুনাফা করছে দাবি করেন কাজী ফিরোজ।

তিনি বলেন, 'শুধু দেশে উন্নয়ন নয়, মহাকাশেও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে আমরা দেখিয়েছি। কিন্তু এটার যে সুফল তা পাচ্ছি না। আমাদের গ্রামবাংলায় ডিশ এন্টেনা দিয়ে আকাশ নামে একটি কোম্পানি আছে। সেটার লাইন নিতে দিতে হয় ৬ হাজার টাকা। অথচ চাইনিজ মেশিন পাওয়া যায় ১ হাজার টাকায়। আবার প্রতি মাসে ৪০০ টাকা করে দিতে হয়। কিন্তু এটা যদি প্রতি মাসে ১০০ টাকা হয় তাহলে সবাই নিতে পারে।'

তিনি আরও বলেন, 'এভাবে একচেটিয়া মুনাফা করা হচ্ছে। জনগণের অর্থে আমরা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট আকাশে পাঠিয়েছি। সেই জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণ না করে একটি বিশেষ কোম্পানি এই লাভটা উঠিয়ে নিয়ে যায়। সেটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক হবে। আমরা চাই এই এন্টেনার দাম দেড় হাজার টাকা ও মাসে বিল ১০০ টাকা করা হোক।'

দেশের একমাত্র বৈধ ডিরেক্ট-টু-হোম সেবাদাতা আকাশ ডিটিএইচের সংযোগমূল্য দেড় হাজার টাকা করার দাবি করেন তিনি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে