ডিশ ব্যবসার দ্বন্দ্বে রানা খুন

আট বছর পর ছাত্রলীগ নেতা হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

আট বছর পর ছাত্রলীগ নেতা হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

দীর্ঘ আট বছর পর ঢাকার রমনা থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান রানা হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ইকবাল হোসেন তারেক গ্রেপ্তার হয়েছেন। এতদিন তিনি তাহের নামে পরিচিত ছিলেন। ছাত্রলীগ নেতাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যায় সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন তারেক। ডিশ ব্যবসার দ্বন্দ্বের সূত্র ধরেই রানা হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার বেলা ১১টায় ঢাকার কারওয়ান বাজারর্ যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানর্ যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ। তিনি আরও জানান, ২০১৪ সালের ২৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় মাহবুবুর রহমান রানা মোটর সাইকেলযোগে ঢাকার মগবাজার চৌরাস্তা থেকে মসজিদের পাশের গলি দিয়ে যাচ্ছিলেন। ওই সময় গলিতে ওঁত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা বাটার গলির মুখে রানার মোটর সাইকেলের গতিরোধ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে রানাকে আহত করে। রানার চিৎকারে স্থানীয়রা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করেন। সেখানেই রানার মৃতু্য হয়।

র্

যাব কর্মকর্তা বলেন, জনতার ধাওয়ার মুখে হামলাকারীরা বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে দুটি তাজা বোমা ও রক্তমাখা ছুরি পাওয়া যায়। ঘটনার পরদিন রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। ওই ঘটনায় সুইফ ক্যাবল লিমিটেডের মালিক কামরুল ইসলাম অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করে। অভিযুক্ত ১৪ জনের মধ্যে ১০ জন গ্রেপ্তার হয়। পলাতক ৪ জন।

লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, গত ২২ সেপ্টেম্বর রাতের্ যাব-৩ এর একটি দল সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মামলার অন্যতম পলাতক আসামি মো. ইকবাল হোসেন তারেককে (৩৮) ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে। তারেকের ভাষ্য মতে, মূলত ডিস ব্যবসার দ্বন্দ্বের সূত্র ধরে হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ঘটে। নিহত রানা তৎকালীন রমনা থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। পরে তিনি একই থানার স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন। গ্রেপ্তার তারেকের পিতার নাম মো. নুরুল ইসলাম। বাড়ি চাঁদপুর সদর জেলার উত্তর ইছুলী গ্রামে।

র্

যাব কর্মকর্তা আরও জানান, সুইফ ক্যাবল লিমিটেড নামক ডিশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন তারেক। প্রতিষ্ঠানের মালিক ছিলেন কামরুল ইসলাম ও তানভিরুজ্জামান রনি। তাদের সঙ্গে রানার ব্যবসায়িক বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরেই কয়েক দফায় এক পক্ষের তরফ থেকে আরেক পক্ষের ডিশের ক্যাবল কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে প্রায়ই মারামারি হতো। তারই ধারাবাহিকতায় হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ঘটে। হত্যা মামলায় ২০২০ সালের ১৭ নভেম্বর তারেকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

গ্রেপ্তার তারেকের ছোটকাল কেটেছে যশোরে। ২০০৭ সালে বিয়ে করেন। তার একটি পুত্র সন্তান আছে। ২০০৯ সালে সেখানকার একটি স্কুল থেকে এসএসসি পাস করে ঢাকায় আসেন। স্কুল জীবন হতেই তারেক মাদকে আসক্ত। ২০১১ সাল থেকে হত্যাকান্ডের আগ পর্যন্ত তারেক ডিশ কোম্পানিটিতে চাকরি করতেন। চাকরির পাশাপাশি তিনি মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। ২০১১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর মাদকসহ রমনা থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। এরপর নিজেকে তাহের বলে পরিচয় দিতেন। তাকে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য রানার ওপর তার ক্ষোভ ছিল। ব্যক্তিগত ক্ষোভ আর ডিশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকের নির্দেশে তিনি রানা হত্যাকান্ডে অংশ নেন।

র্

যাব কর্মকর্তা জানান, রানা হত্যাকান্ডের পর তারেক নিজ বাড়ি চাঁদপুরে গিয়ে কৃষক হিসেবে চাষাবাদ করতেন। এ কাজে মন না বসায় তিনি আবার যশোরে গিয়ে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। ২০১৯ সালে ঢাকায় আসেন। ঢাকায় তিনি বিভিন্ন গার্মেন্টস থেকে পরিত্যক্ত কাটুন সংগ্রহ করে বিক্রি করতেন। পাশাপাশি মাদক ব্যবসাও করতেন। বহুবার তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন রেখে গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি নিজেকে তাহের বলে পরিচয় দিতেন। পিতার নাম বলতেন আব্দুর রহিম। একাধিকবার গ্রেপ্তার হলেও ভুয়া নাম পরিচয়ের কারণে তিনি রানা হত্যা মামলা থেকে রক্ষা পেয়ে যাচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই তাকে রানা হত্যায় গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও মাদকসহ ৪টি মামলা আছে। ঢাকায় তিনি ছদ্মবেশে নিজের নাম-পরিচয় গোপন রেখে পরিবহণ শ্রমিক থেকে শুরু করে নানা পেশায় জড়িত ছিলেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে