টেস্ট আঙ্গিনায় যাত্রা শুরু তরুণ জয়ের

প্রকাশ | ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শনিবার পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে মাহমুদুল হাসান জয়কে টেস্ট ক্যাপ পরিয়ে দিচ্ছেন সাকিব আল হাসান -ওয়েবসাইট
বছর দুয়েক আগে যুব বিশ্বকাপে আলো ছড়িয়ে নিজের নাম চিনিয়েছিলেন মাহমুদুল হাসান জয়। সেবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে সেঞ্চুরি করে দলকে তুলেছিলেন ফাইনালে। দলের হাল ধরে ইনিংস গড়ার দক্ষতা তখনই মিলেছিল। এরপর ঘরোয়া ক্রিকেটের নানা ধাপ পেরিয়ে তিনি পেয়ে গেলেন টেস্ট ক্যাপ। মাহমুদুল হাসান জয় নিশ্চয়ই এ দিনটি অবশ্যই কখনো ভুলবেন না। চট্টগ্রাম টেস্টেই চাঁদপুরের এ কৃতী সন্তান জয়ের অভিষেকের গুঞ্জন ছিল। সেবার না হলেও অপেক্ষার পালা শেষ হয়েছে পরের ম্যাচেই। শনিবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের ৯৯তম টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেক হয়েছে জয়ের। খেলা শুরুর আগে তার মাথায় টেস্ট ক্যাপ পরিয়ে দেন অভিজ্ঞ তারকা সাকিব আল হাসান। জীবন কত দ্রম্নতই না বদলে যায়! যদি মাস দেড়েক আগেও বলা হতো, পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে টেস্ট খেলবেন জয়, তিনি নিজেও হয়তো হেসে উড়িয়ে দিতেন। আজও অবশ্য সেই মাহমুদুল হেসেছেন। তবে সেটি স্বপ্ন পূরণ হওয়ার হাসি। টেস্ট ক্যাপ পাওয়ার উচ্ছ্বাস। তার অভিষেক যতটা না নিজের টানা পারফরম্যান্সের জোরে, ততটা অন্যদের ব্যর্থতায়। টেস্টে তামিম ইকবাল না থাকায় ওপেনিংয়ে ভুগছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে সাদমান ইসলাম-সাইফ হাসান দু'জনেই হন ব্যর্থ। তাদের টেকনিকও হয়ে পড়ে প্রশ্নবিদ্ধ। সাদমান এক টেস্ট আগেই সেঞ্চুরি করায় টিকে গেছেন, নড়বড়ে সাইফের বাদ পড়া ছিল অনুমিত। এর মধ্যে তিনি টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে ছিটকে যাওয়ায় টিম ম্যানেজমেন্টের কাজটা হয়ে যায় সহজ। জয়ের মাথা উঠে যায় টেস্ট ক্যাপ। এ টেস্টে জয় নামছেন ওপেনার হিসেবে। যদিও তিনি এলে ওপেনার নন। বয়সভিত্তিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটে তিন নম্বরে নামেন জয়। প্রথম টেস্টে তাকে দলে নিয়ে অধিনায়ক মুমিনুল জানান, ওপেনিংয়ে ব্যাকআপ হিসেবেই নেওয়া হয়েছে ২১ পেরোনো এই তরুণকে। এবারের জাতীয় লিগের আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার অভিজ্ঞতাই ছিল মাত্র ৩ ম্যাচের! যেখানে ফিফটি ছিল একটি, ৩০-৪০ ছিল গোটা তিনেক। এবারের জাতীয় লিগ শুরু হয় গত অক্টোবরের শেষ দিকে। প্রথম ম্যাচেই চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বরিশালের বিপক্ষে দুই ইনিংসে খেলেন শূন্য রানের ইনিংস! তখন কী কেউ ভেবেছিল, কয়দিন পরই তিনি টেস্ট খেলবেন! টেস্ট আঙ্গিনায় তার সামনে এবার আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ। টেস্ট অভিষেকের আগে প্রথম শ্রেণিতে জয় খেলেছেন কেবল ৮ ম্যাচ। তাতে দুই সেঞ্চুরিতে ৪১ গড়ে ৫৭৪ রান তার। সাদা পোশাকে জাতীয় দলের হয়ে নিজের ক্যারিয়ার যদি এ তরুণ রাঙাতে পারেন তাহলে সবচেয়ে স্বস্তি পাবে বাংলাদেশ দল। জয়ের নতুন এ পথচলা হোক মসৃণ। তার ব্যাটে হাসুক বাংলাদেশ। যুব বিশ্বকাপজয়ী এ ক্রিকেটার এখন বাংলাদেশকেও স্মরণীয় কিছু এনে দেবেন, এটাই প্রত্যাশা।