নাটকীয় জয়ে শিরোপা ম্যানসিটির

নাটকীয় জয়ে শিরোপা ম্যানসিটির

নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে প্রিমিয়ার লিগ মৌসুম। আর এতে শেষ পর্যন্ত জয় হয়েছে ম্যানচেস্টার সিটির। রোমাঞ্চকর এক ম্যাচে এ্যাস্টন ভিলাকে ৩-২ গোলে পরাজিত করে শিরোপা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে পেপ গার্দিওলার দল। গত পাঁচ বছরে এটি সিটির চতুর্থ লিগ শিরোপা। গত ১১ মৌসুমে এটি সিটির ষষ্ঠ লিগ শিরোপা।

লিভারপুলকে পিছনে ফেলে শিরোপা নিশ্চিতে সিটির সামনে এক পয়েন্টই যথেষ্ঠ ছিল। এই সমীকরণকে সামনে রেখে রোববার ইতিহাদ স্টেডিয়ামে মৌসুমের শেষ ম্যাচে খেলতে নেমে ৭৬ মিনিট পর্যন্ত গার্দিওলার দল ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল। বদলি বেঞ্চ থেকে উঠে এসে ইকে গুনডোগানের জোড়া আঘাতে শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত হয় সিটির। গুনডোগানের দুই গোলের মধ্যে সমতা ফিরিয়েছে রড্রি।

ম্যাচ শেষে গার্দিওলা বলেছেন, 'এই ছেলেরা প্রত্যেকেই কিংবদন্তি। পাঁচ বছরে তুমি যখন এই দেশে চতুর্থ লিগ শিরোপা জিতবে তখন বুঝতে হবে এই খেলোয়াড়রা সত্যিই সবার থেকে আলাদা। আজীবন তাদের সবাই মনে রাখবে।'

এ্যানফিল্ডে লিভারপুলও উল্ফসকে ৩-১ গোলে পরাজিত করে শিরোপা যুদ্ধে নিজেদের কাজটুকু সেড়ে রেখেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিটির কাছে নতি স্বীকার করতে হয়েছে। এর মাধ্যমে লিভারপুলের ঐতিহাসিক কোয়াড্রাপল জয়ের স্বপ্নও ভেঙে গেছে।

গার্দিওলা বলেন, 'আমি লিভারপুল ফুটবল ক্লাবকে গত দুই বছর যাবৎ দুর্দান্ত লড়াই করার জন্য অভিনন্দন জানাতে চাই। তাদের কৃতিত্বের কারণেই আমাদের কৃতিত্ব উপরে উঠে এসেছে। খেলোয়াড় বা ম্যানেজার হিসেবে আমার ক্যারিয়ারে লিভারপুলের মতো কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীকে দেখিনি।'

ম্যাচ শেষে সিটি সমর্থকরা মাঠে নেমে এসে জয় উৎসব করেছে। কিন্তু এই ঘটনায় ভিলা গোলরক্ষক রবিন ওলসেন আহত হয়েছে। ম্যাচ শেষে এক বিবৃতিতে সিটির পক্ষ থেকে ওলসেনের প্রতি ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দ্রম্নত তদন্ত করে একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। শনাক্ত ব্যক্তিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ইতিহাদ স্টেডিয়ামে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।'

এদিন সিটির হয়ে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ খেলতে মাঠে নেমেছিলেন ৩৭ বছর বয়সী সেন্টার-ব্যাক ফার্নান্দিনহো। রাইট-ব্যাক পজিশনে জন স্টোনসের ফর্মহীনতা ৩৭ মিনিটেই সিটিকে বিপদে ফেলে। স্টোনসকে কাটিয়ে লুকাস ডিগনের করা ক্রসে ম্যাটি ক্যাশ শক্তিশালী হেডে ভিলাকে এগিয়ে দেন। সঙ্গে সঙ্গে গার্দিওলা তার ভুল বুঝতে পেরে বিরতির পর ফার্নান্দিনগোর স্থানে ওলেক্সান্দার জিনচেনকোকে মাঠে নামান। ৬৯ মিনিটে ফিলিপ কৌতিনহোর দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করে এ্যাস্টন ভিলা। গার্দিওলার আরও দুই বদলি খেলোয়াড়ের হাত ধরে প্রথম গোলটি আদায় করে নেয় সিটিজেনরা। রাহিম স্টার্লিংয়ের ক্রসে ৭৬ মিনিটে সিটির জন্য স্বস্তির গোল উপহার দেন গুনডোগান। দুই মিনিট পর এবারের মৌসুমের সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোলটি করেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রড্রি। এই গোলের পরপরই আগ্রাসী সিটিকে রুখতে হিমশিম খেতে থাকে ভিলা। ৮১ মিনিটে কেভিন ডি ব্রম্নইনার পাস থেকে গুনডোগান জয়সূচক গোলটি করলে শিরোপা জয়ে মাতোয়ার হয়ে উঠে পুরো ইতিহাদ স্টেডিয়াম।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে