দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে স্বপ্নের ফাইনালে জর্ডান

প্রকাশ | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক
দ্বিতীয় গোলের পর জর্ডানের খেলোয়ারদের উচ্ছ্বাস -ওয়েবসাইট
ফেভারিট হিসেবে এশিয়ান কাপে অংশ নিয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া। সেমিফাইনালেও উঠেছিল তারা। প্রতিপক্ষ ছিল জর্ডান, যারার্ যাংকিংয়ে তাদের চেয়ে ৬৪ ধাপ পেছনে। আর সেই দলটিই ঘটিয়ে দিল এই আসরের সবচেয়ে বড় অঘটন। রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই ডাগআউট থেকে মাঠে ছুটে গেলেন জর্ডানের ফুটবলাররা। শুয়ে পড়া এক সতীর্থের ওপর একে একে লাফিয়ে পড়লেন তারা। আর সেই যে শুরু হলো, তাদের আনন্দ-উলস্নাস যেন থামেই না! এমন দিন যে দেশটির ফুটবল ইতিহাসে আগে কখনো আসেনি। এশিয়ান কাপের দুইবারের চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো প্রতিযোগিতাটির ফাইনালে উঠল জর্ডান। কাতারের আল রাইয়ানে মঙ্গলবার রাতে আসরের প্রথম সেমিফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়েছে জর্ডান। তাজিকিস্তানকে হারিয়ে প্রথমবার সেমিফাইনালে উঠেই ইতিহাস গড়েছিল জর্ডান। নিশ্চিতভাবে তাদের নিয়ে প্রত্যাশা কম ছিল ফুটবলভক্তদের। সেমিফাইনালের প্রতিপক্ষ দল যে অভিজ্ঞতায় অনেক এগিয়ে। দক্ষিণ কোরিয়ায় আছে ইউরোপিয়ান ফুটবল দাপিয়ে বেড়ানো সন হিউং মিন। তার রাত কাটলো হতাশায়। ইয়ুর্গেন ক্লিন্সম্যানের শক্তিশালী দলকে হারিয়ে দিল জর্ডান। আর ১৯৬০ সালের পর প্রথম ট্রফি জয়ের জন্য কোরিয়ানদের অপেক্ষা আরও বাড়লো। এবারের আগে জর্ডান কখনো এশিয়ান কাপের সেমি-ফাইনালেই খেলতে পারেনি। সেই দলই এখন শিরোপা থেকে স্রেফ এক জয় দূরে। আর এই ম্যাচে পরিষ্কার ফেভারিট ছিল দক্ষিণ কোরিয়া। ফিফা র?্যাংকিংয়ে তাদের অবস্থান ২৩ নম্বরে। টানা ১৩ ম্যাচে অপরাজিত থেকে এ দিন মাঠে নামে তারা। আর ফিফা র?্যাংকিংয়ে জর্ডানের অবস্থান ৮৭ নম্বরে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে আগের ছয়বারের দেখায় কখনো তারা জিততে পারেনি। সেই তারাই এবার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ঘুচিয়ে দিল সব ব্যবধান। \হস্মরণীয় এই জয়ের নায়ক মুসা আল-তামারি। সতীর্থকে দিয়ে দলের প্রথম গোলটি করান তিনি, পরে নিজে করেন দুর্দান্ত এক গোল। ম্যাচজুড়েই আক্রমণে আধিপত্য করে জর্ডান। শ্রেফ ৩০ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য মোট ১৭টি শট নিয়ে ৭টি লক্ষ্যে রাখে তারা। দক্ষিণ কোরিয়ার ৮ শটের একটিও লক্ষ্যে ছিল না! তাদের সবচেয়ে বড় তারকা সন হিউং-মিন ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। আহমাদ বিন আলি স্টেডিয়ামে গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর ৫৩তম মিনিটে এগিয়ে যায় জর্ডান। মুসার দারুণ পাস বক্সে পেয়ে চিপ শটে আগুয়ান গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান ইয়াজান আল নাইমাত। ম্যাচের ৬৪ মিনিটে মুসার বাঁ পায়ের একটি শট দারুণভাবে ফিরিয়ে দেন দক্ষিণ কোরিয়ার গোলরক্ষক। দুই মিনিট পরই নজরকাড়া এক গোলে ব্যবধান বাড়ান মুসা।