অপরিশোধিত তেলের দাম নিম্নমুখী

প্রকাশ | ১০ আগস্ট ২০২০, ০০:০০

যাযাদি ডেস্ক
আন্তর্জাতিক বাজারে সর্বশেষ কার্যদিবসে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডবিস্নউটিআই) ও ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আগের দিনের তুলনায় কমে এসেছে। এ ধারাবাহিকতায় ব্রেন্ট ক্রুডের ব্যারেল ৪৫ ডলারের নিচে নেমে গেছে। তবে এর পরও সাপ্তাহিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিলে সর্বশেষ সপ্তাহে ডবিস্নউটিআই ও ব্রেন্ট দুই ধরনের জ্বালানি তেলের গড় দাম বেড়েছে। মূলত করোনা মহামারির মধ্যেও চাহিদা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকায় জ্বালানি তেলের সাপ্তাহিক বাজার গতি ফিরে পেতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। খবর রয়টার্স ও অয়েলপ্রাইসডটকম। সর্বশেষ কার্যদিবসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দাঁড়িয়েছে ৪৪ ডলার ৪০ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ কম। এদিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলে ৬৯ সেন্ট কমেছে। অন্যদিকে দিন শেষে ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি ব্যারেল ডবিস্নউটিআই ৪১ ডলার ২২ সেন্টে বেচাকেনা হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ কম। এদিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জ্বালানি পণ্যটির দাম ব্যারেলে ৭৩ সেন্ট কমেছে। তবে এটা দৈনিক হিসাব। সাপ্তাহিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিলে সর্বশেষ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। ডব্লিউটিআইয়ের সাপ্তাহিক দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৪ শতাংশ। জ্বালানি তেলের সাপ্তাহিক বাজার পরিস্থিতিতে ঊর্ধ্বমুখিতার কারণ চিহ্নিত করতে গিয়ে দুটি বিষয়ের কথা জানান ট্র্যাডিশন এনার্জির মার্কেট রিসার্চ বিভাগের পরিচালক গ্যারি কুনিংহাম। প্রথমত, মহামারিকালে মার্কিন অর্থনীতির গতি আগের তুলনায় কিছুটা চাঙ্গা হয়েছে। দেশটিতে কর্মসংস্থান বেড়েছে। ফলে আগামী দিনগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়তে পারে। দ্বিতীয়ত, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উত্তোলন সীমিত রাখার চুক্তি এগিয়ে নিচ্ছে ওপেক পস্নাসভুক্ত দেশগুলো। চুক্তির শর্ত মানার পরও জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন আরও কমিয়ে আনতে চাইছে ওপেকের প্রভাবশালী সদস্য ইরাক। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণে এ দুটি বিষয় প্রভাব ফেলেছে বলে জানান গ্যারি কুনিংহাম। চাহিদা বৃদ্ধির বিপরীতে উত্তোলন খাতের লাগাম কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে টেনে ধরা সম্ভব হলে আগামী দিনগুলোয় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আরও চাঙ্গা হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।