নীতিমালার অভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কাগোর্ পরিবহনশিল্পের অগ্রগতি

প্রকাশ | ০১ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

যাযাদিন রিপোটর্
নীতিমালার অভাবে কাগোর্ পরিবহন ও সরবরাহ শিল্পের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ধারাবাহিক উন্নয়নের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চাহিদা বাড়ছে এ শিল্পের। তবে নীতিমালা, সরকারি সঠিক দিকনিদের্শনা, দক্ষ জনশক্তি ও জবাবদিহিতা না থাকার কারণে কাগোর্ পরিবহন শিল্পের অগ্রগতি থমকে আছে। বতর্মানে দেশীয় এক হাজার ও আন্তজাির্তক ২০টি সরবরাহ ও কাগোর্ পরিবহন কোম্পানি বাংলাদেশে কাজ করছে। যারা আমদানি ও রপ্তানি খাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ২০১৭-১৮ অথর্বছরে ৫২.৮৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। একই সময়ে ৩৬.৬৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। এই শিল্পে বিদেশি কোম্পানিগুলো স্থানীয় কোম্পানির সঙ্গে যৌথ মুলধনী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে। এর ফলে স্থানীয় খাত সংশ্লিষ্টদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়। সরবরাহ কোম্পানি সড়ক, সাগর ও আকাশপথে পণ্য পরিবহন সুবিধা দিয়ে থাকে। বাংলাদেশ কাগোর্ পরিবহন সমিতির (বিএএফএফএ) সিনিয়র সহসভাপতি আমিরুল ইসলাম চৌধুরী মিজান বলেন, এই শিল্প আমদানি ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সমান্তরালভাবে বাড়ছে। ২০১৭ সালে এই খাতের মোট ব্যবসা ১.৫ বিলিয়ন ডলারে পেঁৗছে। তবে এ খাতের অগ্রগতিতে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। একটি সবর্জন গ্রহণযোগ্য নীতিমালার অভাব প্রকট আকার ধারণ করেছে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, গত ৩০ বছর ধরে এই খাত মানসম্পন্ন অবকাঠামোর অভাব এবং মানহীন যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমেই বেড়ে উঠেছে। মিজান বলেন, অভ্যন্তরীণ সরবরহ ব্যবস্থায় রেল এবং সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা গুরুত্বপূণর্ ভ‚মিকা রাখে। তবে আমদানি-রপ্তানি ব্যবসার ৮০ শতাংশ সাগরপথে হয়ে থাকে। বাকি ২০ শতাংশ আকাশ এবং স্থলপথে হয়। সরবরাহ কোম্পানি পণ্য পরিবহনে লোড করা থেকে শুরু করে গুদামে পেঁৗছে আনলোড করা পযর্ন্ত সব ধরনের দায়িত্ব পালন করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোন ধরনের অভিজ্ঞ জনবল ছাড়ায় বাংলাদেশে এই শিল্পের যাত্রা শুরু হয় ১৯৯১-৯২ সালে। ওই সময় উদ্যোক্তারা দক্ষ জনবল না থাকা এবং যোগাযোগ দক্ষতা না থাকার কারণে অনেক ভোগান্তিতে পড়েন। মিজান বলেন, এই খাত কীভাবে পরিচালিত হবে সে বিষয়ে কোনো নীতিমালা না থাকায় সরকারি কমর্কতার্, আমদানি ও রপ্তানিকারক সবাই সমস্যায় পড়ে। শিল্প প্রথম থেকেই নানা সমস্যার মধ্যে পড়ে কিন্তু আন্তজাির্তক মান অজের্নর চেষ্টা অব্যাহত ছিল। উদ্যোক্তারা শুধু তাদের সাধারণ জ্ঞান ব্যবহার করে এ খাতকে এগিয়ে নেয়। কারণ এ ধরনের ব্যবসার জন্য তাদের কোনো ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ছিল না। যখন থেকে বাষির্ক আমদানি-রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নিত হয়, তখন থেকে এ খাতের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। গত ৩০ বছরে এই শিল্প সরাসরি ৪০ হাজার কমর্সংস্থান সৃষ্টি করেছে। এখনো পযর্ন্ত দক্ষ জনবলের অভাব রয়েছে। কুয়েতভিত্তিক এজিলিটি গেøাবাল ইন্টিগ্রেটেড লজিস্টিকস তাদের এজিলিটি ইমাজিির্নং মাকের্টস লজিস্টিকস ইনডেস্ক (এইএমএলআই) ২০১৮ বলেছে, এ খাতের উন্নয়নের সূচকে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সময়ে অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক অগ্রগতি করেছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পে উচ্চাভিলাষী বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এর বাইরে দেশব্যাপী ওষধ শিল্প, স্টিল, জাহান নিমার্ণ এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজত শিল্পের প্রসার ঘটছে। যার কারণে সরবরাহ ও কাগোর্ পরিবহন শিল্পের পরিধি বাড়ছে। এইএমএলআই সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ বতর্মানে বিশ্বব্যাপী ৪৫টি উদীয়মান বাজারের মধ্যে একটি। বিএএফএফএ-এর প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম বলেন, এ খাতের উদ্যোক্তারা আমদানি-রপ্তানিকারকদের পণ্য জাহাজিকরণ, মোড়ক এবং সরবরাহ সুবিধা দিচ্ছে। তিনি ব্যবসা পরিচালনা এবং নতুন ব্যবসা খেঁাজার জন্য যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জানতে চাইলে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সহসভাপতি মোহাম্মদ নাসির বলেন, কাগোর্ পরিবহন খাতের জন্য কোনো নীতিমালা নেই। আমরা এ খাতের জন্য একটি নিদেির্শকা বা নীতিমালা তৈরির জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছি। রপ্তানি বাজারের কথা চিন্তা করে সরকারের উচিত হবে বৈশ্বিক মান বজায় রেখে এ খাতের জন্য একটি নীতিমালা তৈরি করা। দেশের অথর্নীতির প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সমান্তরালভাবে এ খাতটি এগিয়ে যাচ্ছে। এখনই একটি নীতিমালা না করা গেলে অগ্রযাত্রা বাধার সম্মুখীন হবে।