যথাযথ পদক্ষেপ নিন

৮.১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন

প্রকাশ | ২১ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক
প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্য নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। মনে রাখা দরকার, প্রবৃদ্ধি অর্জনে অগ্রগতির ধারা বজায় রাখতে হলে যথাযথ উদ্যোগও অব্যাহত রাখা জরুরি। সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় খবরের মাধ্যমে জানা গেল যে, চলতি অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন প্রথমবারের মতো ৮ শতাংশের ঘর ছাড়িয়ে যাবে বলে প্রাক্কলন করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বু্যরো। অর্থবছরের প্রথম আট মাসের (জুলাই-ফেব্রম্নয়ারি) তথ্য বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বু্যরো যে হিসাব করেছে, তাতে ২০১৮-১৯ অর্থবছর শেষে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে রেকর্ড ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। এ ছাড়া এর পাশাপাশি এবার বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়ে ১ হাজার ৯০৯ ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করছে সরকার। তথ্য মতে, অর্থমন্ত্রী জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে (এনইসি) এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। আমরা বলতে চাই, রেকর্ড প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ হলে এবং মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেলে তা সন্দেহাতীতভাবেই ইতিবাচক বাস্তবতাকে স্পষ্ট করবে। ফলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপও অব্যাহত রাখতে হবে। উলেস্নখ্য, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বু্যরোর চূড়ান্ত হিসাবে গত অর্থবছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। আর গত অর্থবছর বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ছিল এক হাজার ৭৫১ ডলার। বলা দরকার, প্রায় এক দশক ৬ শতাংশের বৃত্তে 'আটকে' থাকার পর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের 'ঘর' অতিক্রম করে। এরপর তা ৮ শতাংশের ঘরে পৌঁছাতে সময় লাগলো মাত্র তিন বছর। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বু্যরোর প্রাক্কলন অনুযায়ী চলতি অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার দাঁড়াবে প্রায় ২৫ লাখ ৩৬ হাজার ১৭৭ কোটি টাকায়। গত অর্থবছরে জিডিপির আকার ছিল ২২ লাখ ৫০ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা। ফলে এবার যেটা দাঁড়াবে তা অর্জন স্বাভাবিকভাবেই ইতিবাচক বলেই বিবেচিত হবে। আমরা এটাও উলেস্নখ করতে চাই যে, কিছুদিন আগে এডিবি আয়োজিত 'রিজিওনাল ইকোনমিক আউটলোক' প্রকাশ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ৪ ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে বলে জানিয়েছিল একইসঙ্গে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বেশ কয়েকটি পরামর্শও উঠে এসেছিল। আগামীতে ঋণের উচ্চ সুদের হার বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি এমনটিও এসেছিল আলোচনায়। আমরা মনে করি, বড় ধরনের ঝুঁকির বিষয় সামনে আসলে তা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কেননা, ঝুঁকি মুক্ত না হলে প্রবৃদ্ধি অর্জনে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে যা কাম্য হতে পারে না। এ ছাড়া উচ্চ সুদের হারের ফলে মূলধন অন্যত্র চলে যাচ্ছে, ব্রেক্সিট কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অস্থিরতার প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পড়তে পারে এসব বিষয়ও আলোচনায় এসেছিল। আমরা মনে করি, প্রবৃদ্ধি ও বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির যে বিষয়টি এবার সামনে আসল সংশ্লিষ্টরা তা আমলে নিয়ে এই ধরনের বিষয়গুলোও ভাববে- যেন আগামী দিনেও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে সঠিক পদক্ষেপ নিশ্চিত হয়। সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, প্রবৃদ্ধির অগ্রগতি বজায় রাখতে যেমন সংশ্লিষ্টদের কাজ করতে হবে, একইসঙ্গে মনে রাখতে হবে দেশকে এগিয়ে নেয়ার পথে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের বিষয়ও আছে। ফলে এ ক্ষেত্রে সুষ্ঠু পদক্ষেপ গ্রহণেরও কোনো বিকল্প নেই।