ফটিকছড়িতে ইটভাটার মালিক-শ্রমিকদের মানববন্ধন

ফটিকছড়িতে ইটভাটার মালিক-শ্রমিকদের মানববন্ধন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা ইট প্রস্তুতকারী মালিক ও শ্রমিকদের উদ্যোগে এক বিশাল মানববন্ধন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের ফটিকছড়ি সদর মুক্তিযোদ্ধা চত্বরের সামনে পেট্রোল পাম্প থেকে রাজঘাট পর্যন্ত দুই ঘণ্টাব্যাপী দীর্ঘ এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন ইটভাটার কয়েকশ মালিক ও কয়েক হাজার শ্রমিক।

এসময় মালিক ও শ্রমিকরা সংবাদ মাধ্যমকে কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ‘ চট্টগ্রামকে নিয়ে আন্তর্জাতিক ভাবে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। দেশের যে উন্নতি সে উন্নতির ব্যাঘাত ঘটাতে এ ষড়যন্ত্র করছে একটি চক্র। আমরা আজ সংসারের ভরণপোষণ নিয়ে চিন্তিত। কিভাবে আমরা নিজে খাব, পিতা-মাতা, ছেলে, সন্তানকে খাওয়াব, সংসার চালাব, ভবিষ্যত কি হবে তা বুঝে পাচ্ছিনা।’ লাখ লাখ শ্রমিক আজ বেকার হয়ে পড়েছে। তাদের পিছনে তাদের পরিবার জড়িয়ে তাদের জীবনও এখন অনিশ্চিত। ফটিকছড়ি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিউল আজম জোর গলায় বলেন, আমরা কেন অবৈধ হব! যদি অবৈধভাবে ব্যবসা করি তাহলে কেন আমাদের মালিকদের কাছ থেকে আয়কর ভ্যাট নেয়া হয়? তিনি বলেন, আচ্ছা, মেনে নিলাম আমরা অবৈধ কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী- আপনি মানবতার মা, আমাদের মায়ের সমতুল্য আমাদের নির্দিষ্ট সময় দেয়া হোক আমরা ব্যবসা বন্ধ করে দিব। নতুন নীতিমালা মেনে ব্যবসা করব, তবে যে নীতিমালা করা হয়েছে সে অনুযায়ী বাংলাদেশের কোথাও ইটভাটা ব্যবসা করা যাবে বলে আমার মনে হয়না। তাই এ নীতিমালাও শীতিল করা হোক।

এসময় ফটিকছড়ি ইটভাটা প্রস্তুতকারী মালিক ও শ্রমিক সমিতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্বারকলিপি পাঠান।

স্বারকলিপিতে বলা হয়, সম্প্রতি মহামান্য হাইকোর্টের এক আদেশে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রামের ১০২টি ইটভাটা। এই গুড়িয়ে দেওয়া ইট ভাটার আগুনে নিভে যেতে বসেছে কয়েক লক্ষ পরিবার। ইটভাটা একটি মৌসুমী ব্যবসা। মাঝপথে এটি বন্ধ করা হলে তা হবে মৃত্যু যন্ত্রণার সামিল। সারাদেশে ইটভাটা কার্যক্রম যথাযথ কার্যক্রম চলমান থাকলেও চট্টগ্রাম আজ বৈষম্যের স্বীকার, হঠাৎ এ ইটভাটা উচ্ছেদ অভিযান কেন তা আমদের বোধগম্য নই। একটি ইট ভাটা চালু করতে প্রতিবছর ২কোটির বেশি টাকা শ্রমিকদের অগ্রিম পরিশোধ করতে হয়। স্বারকলিপিতে প্রধানমন্ত্রীকে আকুল আবেদন জানিয়ে তারা বলেন, ইটভাটা যদি উচ্ছেদ করা হয়, তবে তা সরিয়ে নেয়ার জন্য আমাদের নির্দিষ্ট সময় দেয়া হোক।

মালিক সমিতির কর্মকর্তা সফিউল আলমের সঞ্চালনায় এসময় মালিকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন- আমিনুল হক চৌধুরী, নাছির উদ্দীন কোম্পানি, রেজাউল করিম চৌধুরী, জয়নাল আবেদিন কোম্পানি, সাইদুল্লাহ জনি কোম্পানি, জুল ফিকার আলি ভুট্টো, শাহেদ, রাশেদ।

যাযাদি/এস

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে