মহাদেবপুরে মুরগির খামারে সফল প্রবাসফেরত বাবলু

মহাদেবপুরে মুরগির খামারে  সফল প্রবাসফেরত বাবলু

অভাবের সংসার, নুন আনতে পান্তা ফুরোয় অবস্থা। স্কুলের বেতনের টাকা ঠিকমতো দিতে পারেননি বাবলু রহমান। অষ্টম শ্রেণিতেই পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়। সংসারের খরচ মেটাতে পাড়ি জমান সৌদি আরব। ১০ বছর কঠোর পরিশ্রম করে ফিরে আসেন দেশে। টাকা নিয়ে তো আর বসে থাকা যায় না। ৩০০ মুরগি দিয়ে শুরু করেন খামার। শুরুতেই তার খামারে ব্রয়লার মুরগি পালন করলেও এখন রয়েছে পাঁচ হাজার সোনালি মুরগি।

দেশের উত্তরাঞ্চলের খাদ্যভাণ্ডার খ্যাত নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার রাইগাঁ ইউনিয়নের কুড়াইল গ্রামে দেড় একর জায়গার ওপর বাবলুর বাড়ি। বাড়ির উত্তর ও দক্ষিণে দুটি সোনালি মুরগির খামার। তার পাশেই রয়েছে ফসলি জমি ও বায়োগ্যাস প্লান্ট। খামারের সব জ্বালানির জোগান দেয় এই প্ল্যান্ট। শুধু মুরগির খামারই নয়, করেছেন মাছ ও গরুর খামারও। মুরগি, মাছ, গরু- তিনে মিলে সমন্বিত খামারি এখন ৪৫ বছরের বাবলু। তার কাজে উৎসাহী হয়ে আত্মকর্মী হয়ে উঠছেন আশপাশের তরুণ যুবকরা। তিনি এখন সফল খামারি হিসেবে এলাকায় বেশ পরিচিত।

সরেজমিন দেখা যায়, ৬ বছর বয়সি শিশু আব্দুলাহকে সঙ্গে নিয়ে খামারে খাবার দিচ্ছেন বাবলু। ৪৪ ফুট দীর্ঘ ও ৩৪ ফুট প্রস্থের টিনের ছাউনির ঘর তারজালি দিয়ে ঘেরা। ১০০ গজ দূরেই পুকুর পাড়ে আরেকটি খামার। উঠানে বাঁধা রয়েছে ৪টি গরু। খামারে মোটা অঙ্কের লাভ এলে সম্প্রতি তিনি কিনে ফেলেন একটা গরু।

জানতে চাইলে বাবলু রহমান বলেন, ‘২০০৩ সালে সংসারে অভাবের কারণে বিদেশে যাই। টাকার অভাবে পড়াশোনা হয়নি, কিন্তু এখন মোটামুটি চলে। বাবা-মাসহ পবিত্র হজ্ব পালন করেছি। ১৬ বিঘা জমি রয়েছে। ২০১৪ সালে দেশে ফিরে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতায় পোল্ট্রি পালন শুরু করি। বর্তমানে পাঁচ হাজার মুরগি পালন করছি। প্রতি পিস বাচ্চা কিনেছি ২০ টাকা দরে। এ পরিমাণ মুরগি পালন করতে প্রায় ছয় লাখ টাকা খরচ হয়।’

তিনি বলেন, ‘এক হাজার সোনালি মুরগি বিক্রির উপযোগী হতে খাবার খায় ৪০-৪৫ বস্তা। গড় ওজন হয় ৮০০-৯০০ গ্রাম। বছরে ৩ চালান মুরগি বিক্রি করা যায়। ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করলে প্রতি চালানে ৫০-৬০ হাজার টাকা লাভ হয়। এবার করোনার কারণে তেমন একটা লাভ করতে পারিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মুরগির খামার অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ। প্রান্তিক খামারিদের একবারের বেশি লোকসান হলে তারা আর দাঁড়াতে পারে না। সরকার তেমন কোনো সহযোগিতাও করে না। জমিজমা বিক্রি করে দেউলিয়া হয়ে পরিবারের সদস্যদের অনিশ্চিত জীবনযাপন করতে হয়। তবে, শিক্ষিত ও পরিশ্রমীরা খামার করতে পারেন। এর আগে দেশে পোল্ট্রি নীতিমালা খুবই প্রয়োজন। দেশে উৎপাদিত ডিম-মুরগি বিদেশে রপ্তানি করতে পারলে উৎসাহ বাড়ত; সেইসাথে খামারিরা অধিক লাভবান হতো।’

সব মিলে বাবলুর খামারের আর্থিক চিত্রটি কেমন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, অধিক লাভ আর ভালো লাগা আছে বলেই রাতদিনের পরিশ্রমকে পরিশ্রম বলে মনে হয় না। বাবলুকে দেখে উৎসাহিত হয়ে মুরগির খামার করে অন্তত পাঁচজন যুবক সফল হয়েছেন। তাদের মধ্যে সোবহান ও বায়োজিদ ইসলাম অন্যতম। তারা বলেন, বাবলুর সফলতা তাদের এই পথে এনেছে।

মহাদেবপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার (ইউএলও) দায়িত্বে থাকা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘উপজেলার রাইগাঁ ইউনিয়নে অনেক খামার রয়েছে। সবগুলো খামারে সোনালি মুরগি পালন করা হয়। প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে নিয়মিত খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। তাছাড়া খামারিরা মোটামুটি অভিজ্ঞ।’

যাযাদি/এস

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে