বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের শাহাদাতবার্ষিকী পালিত

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের শাহাদাতবার্ষিকী পালিত

‘দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের অবদান চিরকাল স্মরণ করব এবং তাদের স্বপ্নের দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করব’ এ প্রত্যয়কে ধারণ করে পালিত হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফের ৫০ তম শাহাদাতবার্ষিকী।

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) ফরিদপুরের মধুখালীতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

দুপুরে বীরশ্রেষ্ঠের নিজ গ্রাম মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের রউফনগরে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রন্থাগার চত্বরে তার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মোস্তফা মনোয়ার, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ মুরাদুজ্জামান মুরাদ, বীরশ্রেষ্ঠর বড় বোন জোহরা বেগম, কামারখালী ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুর রহমান বাবু সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। পরে বীরশ্রেষ্ঠর আত্মার শান্তি কামনায় মোনাজাতে অংশ নেন অতিথিবৃন্দ।

এদিকে সকালে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রন্থাগার চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বীরশ্রেষ্ঠর বড় বোন জোহরা বেগম সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এছাড়া বাদ মাগরিব স্থানীয় মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার সালামতপুর (বর্তমান রউফনগর) গ্রামের এ সাহসী বীর সেনানী ১৯৭১ সালের ২০ এপ্রিল যুদ্ধ চলাকালে পাক-হানাদারদের সঙ্গে সন্মুখযুদ্ধে যুদ্ধরত অবস্থায় বর্তমান রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচর থানার বুড়িঘাটের চিংড়িখাল নামক স্থানে শহীদ হন। সেখানেই এই বীর সন্তানকে সমাধিস্থ করা হয়। স্বাধীনতাযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য জাতি তাকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত করে।

সরকার তার জন্মস্থান ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের গ্রাম সালামাতপুরের পরিবর্তে রউফনগর নামকরন এবং নিজ গ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ করেছে। তার নামে এলাকায় কামারখালীতে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ ডিগ্রি কলেজ রয়েছে, কলেজটি সরকারিকরন করা হয়েছে। এছাড়া বীরশ্রেষ্ঠ উচ্চ বিদ্যালয় গন্ধখালী, সাভারে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ রাইফেলস স্কুল এন্ড কলেজ সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।

ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার অবহেলিত এক জনপদ সালামতপুর গ্রাম (বর্তমান রউফনগর)। মধুমতি নদীর কোল ঘেঁষে সামনের দিকে এগুলেই গ্রামটি। ১৯৪৩ সালের মে মাসে এ গ্রামেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ। তার পিতার নাম মুন্সী মেহেদী হোসেন মাতা মকিদুননেছা। তিন ভাই বোনের মধ্যে রউফ ছিলেন মা বাবার একমাত্র ছেলে সন্তান।

বাবা মেহেদী হোসেন স্থানীয় একটি মসজিদে ইমামতি করতেন। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে ছেলের লেখাপড়া বেশী দুর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেনি দরিদ্র পিতা। ফলে কামারখালী হাইস্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় আব্দুর রউফ ১৯৬৩ সালের ৭ মে তৎকালীন ইপিআর যা পরবর্তীতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে ভর্তি হন। ১৯৭১ সালে তিনি স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় চট্রগ্রামে ১১ নং উইংয়ে চাকুরিরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে গ্রামে ছুটে আসেন। মায়ের দোয়া আর ছোট বোনদের সঙ্গে দেখা করে চাকরিতে ফিরে যান এবং ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি কোম্পানিতে যোগদান করে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

যুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২০ এপ্রিল পাক-হানাদারদের সঙ্গে সন্মুখযুদ্ধে যুদ্ধরত অবস্থায় বর্তমান রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচর থানার বুড়িঘাটের চিংড়িখাল নামক স্থানে তিনি শহীদ হন। সেখানেই এই বীর সন্তানকে সমাধিস্থ করা হয়। স্বাধীনতাযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য জাতি তাকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত করে।

যাযাদি/ এমডি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে