মুজিববর্ষ উপলক্ষে শেরপুরে ৩০টি ঘর পাচ্ছেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী আদিবাসী পরিবার

মুজিববর্ষ উপলক্ষে শেরপুরে ৩০টি ঘর পাচ্ছেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী আদিবাসী পরিবার

প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে সেমি পাকা বাড়ি পেয়েছেন শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, আদিবাসী সম্প্রদায়ের ৩০টি পরিবার পাচ্ছেন এ ঘর ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের হতদরিদ্র ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ৩০টি পরিবারকে আধাপাকা ইটের বাড়ি উপহার হিসেবে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসব পরিবার এমন বাড়ি পেয়ে আনন্দে অশ্রুসিক্ত হলেন ঝিনাইগাতী উপজেলার গৌরিপুর ইউনিয়নের বারুয়া গ্রামের রবিন্দ্র রাংসা।

তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, করোনাভাইরাসের এ দুর্যোগ মুহূর্তে আমাদেরকে শেখের বেটি ঘর দিছে, ১০ টাকা কেজি চাল দিছে। এদিকে আমাদের প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় সুবিধাভোগীদের মধ্যে। রেস্পিনা মারাক, সাদনা দিও, রশিলা মারাক, জ্যামিতি সংমা, নমিতা রানী হাজং, ঘর পেয়ে খুবই আনন্দিত।

তারা বলেন, আমরা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি এবং উনার সুস্থতা কামনা করি ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এই প্রকল্পে বরাদ্দ ধরা হয়েছে প্রতিটি ঘর ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা । মোট ৫১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এখানে ১০টির মতো ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে আরও ১০টি প্রায় শেষ পর্যায়ে । বাকি ১০টি ঘর প্রক্রিয়াধীনে রয়েছে বলে জানান ।

উপজেলার আদিবাসী নেতা ঝিনাইগাতী উপজেলার (ট্র্যাইবাল অ্যাসোসিয়েশনের) সভাপতি নবেশখক্সি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা আমাদের আদিবাসীদের জন্য অনেক কিছু করছে। পিছিয়ে পড়া এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে তাদের বাড়ি দেওয়ার পাশাপাশি সন্তানদের শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে শিক্ষা উপকরণ দেওয়া হয়েছে । এ হতদরিদ্র ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর আদি পেশা কৃষি। অন্যের বাড়িতে কাজ করে কষ্ট করে চলে তাদের জীবন জীবিকা। নুন আনতে পান্তা ফুরানো এসব পরিবার এই অবস্থাতেও আধাপাকা বাড়ি পেয়ে অশেষ কৃতজ্ঞ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি। এ ব্যতিক্রম উদ্যোগ আমাদের জন্য নতুন আশার আলো জাগিয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গত ২০১৯-২০-২১ অর্থবছরে উপজেলায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী আদিবাসীরা মোট ৩০টি সেমিপাকা (আধাপাকা) বাড়ি নির্মাণ করে দিচ্ছে। যেখানে প্রতিটি বাড়িতে রয়েছে চৌচালা টিনের ছাউনির দুটি ঘর। যার মোট দৈর্ঘ্য সাড়ে ১৯ ফুট এবং প্রস্থ সাড়ে ১০ ফুট। মেঝে পাকা করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ঘরে রয়েছে ২ করে স্টিলের দরজা ও ৫টি জানালা। ঘরের একপাশে করে দেওয়া হয়েছে রান্নাঘর, টয়লেট, স্টোররুম এবং অপর পাশে একটি পাকা বারান্দা ।

কাংশা ইউনিয়নের নিখিল চন্দ্র হাজং সুবিধাভোগী গৌরিপুর ইউনিয়নের হেমাসং সাংমা বলেন, ‘তাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা পাঁচজন। বাপ-দাদারা বাঁশের বেড়া ও টিনের ছাউনির কুঁড়েঘরে বসবাস করে আসছিল। আমরা দীর্ঘ বছর থেকে এ কুঁড়েঘরে কষ্ট করে বসবাস করে আসছি। যেখানে ঝড়বৃষ্টিতে ঘরে পানি পড়ত। বাচ্চাদের কষ্ট হতো। প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেওয়া বাড়িটি আমরা বিনামূল্যে পেয়েছি। গত এক মাস থেকে সেই বাড়িতে পরিবার নিয়ে বসবাস করছি। আমরা বহুত খুশি।’

ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুবেল মাহ্মুদ বলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। ইতিপূর্বে বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে সুবিধাভোগীদের বাছাই করা হয়েছে। এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী বাড়িগুলো তৈরি করে তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে তারা বাড়িতে বসবাস শুরু করেছেন।

যাযাদি/এস

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে