নবীগঞ্জে মাইকে ঘোষণা দিয়ে গ্রামবাসীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত অর্ধ শতাধিক

নবীগঞ্জে মাইকে ঘোষণা দিয়ে গ্রামবাসীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত অর্ধ শতাধিক

নবীগঞ্জ উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের করগাঁও ও সাকোয়া গ্রামবাসীর মধ্যে শিশুদের মাছ ধরার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার বিকালে দুই গ্রামবাসীর ২ ঘন্টাব্যাপি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের শিশুসহ অর্ধ শতাধিক লোক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ সময় হামলায় প্রায় ৮/১০টি বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়।

পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাকাঁ গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন বলে সূত্রে জানা গেছে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সন্ধ্যায় আহতদের উদ্ধার করে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বর আহত ৭ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে বাহুবল এর সার্কেল এসপি আবুল খায়ের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি উভয় পক্ষকে এলাকায় শান্তি শৃংখলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

এদিকে সোমবার (২ আগষ্ট) দুপুরে করগাওঁ গ্রামে ৫ গ্রামের বৈঠক চলছে বলে জানাগেছে।

সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, সাকোয়া ও করগাঁও গ্রামে মধ্যবর্তী স্থানে আমন ক্ষেতে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সাকোয়া গ্রামের পুত্র বেনু মিয়ার পুত্র সমির মিয়া (১২) ও করগাঁও গ্রামের নুরুল মিয়ার পুত্র টুটুল মিয়া (১৩) স্থানীয় ফিসারীর পাশে একটি খালে মাছ ধরাকে কেন্দ্র দুই শিশু মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় করগাঁও গ্রামের জনৈক মুরুব্বী দুই শিশুর ঝগড়া মিমাংসা করতে গিয়ে সাকোয়া গ্রামের শিশুকে তাপ্পর মারেন। এ খবর সাকোয়া গ্রামের লোকজনের কাছে পৌছলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় করগাওঁ গ্রামবাসী গ্রামের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিলে করগাওঁ গ্রামের সাথে গুমগুমিয়া গ্রামের লোকজন জড়িয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ সাকোয়া গ্রামবাসী এবং করগাওঁ, গুমগুমিয়া গ্রামবাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ব্যাপক সংঘর্ষ বাধেঁ। ২ ঘন্টাব্যাপি এই সংঘর্ষে শিশু বাচ্চাসহ দুই গ্রামের প্রায় অর্ধশধাতিক লোক আহত হয়েছেন।

গুরুতর আহত অবস্থায় আছমত আলী, হাবিবুর রহমান, মাসুক মিয়া, তাউসিন আহমদ, খোকন মিয়া, জিয়াউর রহমান এবং এনামুল হককে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানা পুলিশের ইনচার্জ ডালিম আহমেদ এর নেতৃত্বে একদল পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে থানায় খবর দিয়ে আরও অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ২ ঘন্টার চেষ্টা এবং কয়েক রাউন্ড ফাকাঁ গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে নিয়ে আসেন।

নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ডালিম আহমদ জানান, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। উভয় গ্রামবাসীর সাথে সমঝোতার চেষ্টা করছে পুলিশ। বর্তমান আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ৫ গ্রামের বৈঠক চলছে করগাও গ্রামে।

যাযাদি/ এমডি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে