​ তারাকান্দায় চার বছর ধরে ক্লিনিকের ভবন পরিত্যক্ত

​  তারাকান্দায় চার বছর ধরে ক্লিনিকের ভবন পরিত্যক্ত

ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার নন্দীপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। জরাজীর্ণ ভবন যেকোন সময় ধ্বসে পড়ার আশংকা থাকায় ৪ বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ক্লিনিকে কমিউনিটি হেল্থ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইসসিপি) বসতে পারছেন না। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে ক্লিনিকের জমিদাতার বাড়িতে বসে কোন মতে চালাতে হচ্ছে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কমিউটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে চরমভাবে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার নন্দীপুর গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিক ভবনটি বেহাল অবস্থায় রয়েছে। পলেস্তেরা উঠে গিয়ে ইটগুরো ক্ষয়ে ক্ষয়ে যাচ্ছে। দেয়ালের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। মেঝের কিছু অংশ দেবে গিয়ে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। ছাদে কয়েক জায়গায় ফুটো হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টি আসলে ছাদ চুঁয়ে পানি পড়ে ঘরের ভেতরে। দরজা জানালাগুলো ভেঙ্গে গেছে। ছাদে কার্ণিশ বরাবর চারদিকে ফাটল ধরেছে। ছাদের ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। রোগীদের বসার জায়গা নেই। যে কোন সময় ভবনটি ধ্বসে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ ভয়ে সেবাগ্রহীতারা প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও ক্লিনিকে আসতে চান না।

জানাযায়, দেশের প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার সারা দেশে কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করে। এসব ক্লিনিকের মাধ্যমে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, প্রজনন স্বাস্থ্য, পরিবার-পরিকল্পনা সেবা, টিকাদান কর্মসূচি, পুষ্টি, স্বাস্থ্যশিক্ষা, পরামর্শসহ বিভিন্ন সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে। সরকারের এ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পৃথিবীর একটি রোল মডেল। কিন্তু তারাকান্দার এ ক্লিনিকটি পরিত্যক্ত হওয়ায় এলাকাবাসীর অনেকেই এসব সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৯৮ সালে নির্মিত ভবনটিতে ২০১৫ সালে ফাটল দেখা দেয়। এরপর থেকেই ভগ্নদশা বাড়তে থাকে। এখন ভবনটিতে ৩/৪ বছর ধরে ক্লিনিক কার্যক্রম বন্ধ। ভবনটি পরিত্যক্ত হওয়ার পর কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম চলে ওই ক্লিনিকের জমিদাতা এবং সভাপতির বাড়িতে।

কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইসসিপি তানিয়া আক্তার পপি জানান, ভবনটি পরিত্যক্ত হওয়ার পর ক্লিনিকের সেবা কার্যক্রম চালু রাখতে বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে জমিদাতার বাড়িতে উঠতে হয়েছে। সেখান থেকেই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি স্বাস্থ্য সেবা পরিচলানার স্বার্থে দ্রুত ভবনটি সংস্থার অথবা নতুন একটি ভবন নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

কমিউনিটি ক্লিনিকের জমিদাতা ও সভাপতি আবুল কাশেম জানান, ভবনটি পরিত্যক্ত হওয়ায় প্রায় ৪ বছর ধরে ক্লিনিকের সকল কার্যক্রম তার বাড়ি থেকেই পরিচালনা হয়ে আসছে। নতুন ভবন নির্মাণ করে তাঁদের নিজস্ব ভবনে সেবা দিলে সবার জন্যই ভালো হয়। সেজন্য তিনি সরকারের উর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কমনা করেছেন।

নন্দীপুর গ্রামের আনারুল নামের একজন সেবা গ্রহীতা জানান, এই এলাকার ক্লিনিকটি কয়েক বছর ধরে পরিত্যক্ত হয়ে আছে। এতে জনগনের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জায়েদ মাহবুব খান জানান, পরিত্যক্ত কমিউনিটি ক্লিনিক পুণনির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে।বরাদ্দ পেলে নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে।

যাযাদ/এসএইচ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে