নকলায় প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

নকলায় প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে প্রতিমা তৈরির ধুম পড়েছে। কারিগরদের দম ফেলার সুযোগ নেই। কয়েক দিন পর প্রতিমার গায়ে পড়বে রঙের আঁচড়।

শেরপুরের নকলা পৌরশহরের উত্তরবাজার হাইওয়ের পাশে শত বছরের পুরোনো শ্রী শ্রী কালীমাতা মন্দির। এই মন্দিরের ভেতরে এখন শোভা পাচ্ছে ছোট-বড় প্রতিমা। বাঁশ-কাঠ, খড় আর কাদা মাটি দিয়ে তৈরি প্রতিমাগুলো দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন সনাতন ধর্মের লোকজন।

সোমবার দুপুরে ওই মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা। দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে এই মন্দিরে প্রতিমা তৈরি করে আসছেন ধীরেন পাল (৬৫)। তিনি বলেন, আগামী ৬ অক্টোবর ভোর পাঁচটায় মহাপঞ্চমী দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব শুরু। ১৫ অক্টোবর পৌরশহরের সুবর্ণখালী ব্রীজ এলাকায় সুবর্ণখালী নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই উৎসব। ১১ অক্টোবর মহাষষ্ঠী পূজা থেকে মন্ডপে মন্ডপে বেজে উঠবে ঢাকঢোল আর কাঁসার শব্দ।

ধীরেন পাল বলেন, প্রায় মাস খানেক আগে থেকে তিনি প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেছেন। এ পর্যন্ত কয়েকটি প্রতিমা সেট তৈরি করেছেন। প্রতি সেটে দুর্গার সঙ্গে থাকে অসুর, সিংহ, মহিষ, গণেশ, সরস্বতী, কার্তিক ও লক্ষ্মী প্রতিমা।

তিনি বলেন, আগে একটা প্রতিমা সেট তৈরি করতে খরচ হতো ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু এখন বাঁশ, কাঠ, কাদা মাটিসহ প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম অনেক বেশি। তাই প্রতি সেট প্রতিমা তৈরিতে খরচ হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা।

নকলা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ কুমার বণিক অভি যায়যায়দিনকে বলেন, গত বছর উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে ১৮টি মন্ডপে দুর্গাপূজা হয়েছে। এবার ১টি বেড়ে ১৯টি মন্ডপে এই পূজা হবে। এবছর দেবীর আগমন হবে ঘোড়ায় চড়ে ও প্রস্থান হবে দোলায়।

নকলা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দেবজিৎ পোদ্দার ঝুমুর যায়যায়দিনকে বলেন, ১১ অক্টোবর ভক্তদের উপস্থিতিতে সুবর্ণখালী নদীতে প্রতিমা বিসর্জন উৎসব হবে। এটিই দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিমা বিসর্জন উৎসব। তাই নিরাপত্তার ব্যাপারে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা আমরা প্রতিবছরই পেয়ে থাকি।

নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুশফিকুর রহমান বলেন, সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে হিন্দু ধর্মালম্বীদের সর্ববৃহৎ উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের লক্ষ্যে আমরা ইতিমধ্যে কয়েকটি উদ্যোগ হাতে নিয়েছি। জেলা পুলিশ সুপার হাসান নাহিদ চৌধুরী স্যারের নির্দেশে ইতিমধ্যে আমরা প্রত্যেকটি মন্ডপ পরিদর্শন করেছি এবং পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্ধদের সাথে আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। কোন অপ্রিতিকর ঘটনা যেন ঘটতে না পারে সেজন্য পুলিশী নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হবে এবং মন্ডপগুলো মনিটরিং করা হবে। আমাদের প্রত্যেক ইউনিয়নের বিট অফিসাররা সার্বক্ষণিক টহলে থাকবেন এবং মন্দির কমিটির লোকজনদেরও যে কোন সমস্যায় যোগাযোগ রাখতে বলা হয়েছে। প্রত্যোকটা মন্ডপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যোগাযোগ নাম্বার ঝুলিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যাযাদি/ এমডি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে