​ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে, শয্যার চারগুন রোগী

​ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে, শয্যার চারগুন রোগী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। প্রতিদিনই ২৫০ শষ্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। অতিরিক্ত রোগী থাকায় বেড না পেয়ে রোগীদেরকে হাসপাতালের বারান্দায় ফ্লোরিং করতে হচ্ছে। রোগীদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশী।

বিপুল সংখ্যক রোগীর চাপ সামলাতে হিমসিম খাচ্ছে চিকিৎসক ও সেবিকারা। তবে ডায়রিয়ার রোগীদের জন্য হাসপাতালে স্যালাইন ও ওষুধের কোন সংকট নেই। তবে কয়েকজন রোগী বলেন, মাঝে মধ্যে বাইরে থেকে ক্যানোলা কিনতে হচ্ছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন মূলত সচেতনতার অভাবে ডায়রিয়ার রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সুস্থ থাকার জন্য মানুষকে বিশুদ্ধ পানি পান ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

সরজমিনে বুধবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের চারতলার ডায়রিয়ার ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে রোগীদের উপচেপড়া ভীড়। বুধবার দুপুর দেড়টা পর্যন্ত হাসপাতালে ছিলো ১২০ জন ডায়রিয়ার রোগী। এর মধ্যে দুপুর পর্যন্ত ভর্তি হয় নতুন ১৪ জন রোগী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডায়রিয়া ওয়ার্ডের একজন নার্স বলেন, হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ১৮টি বেড ছিলো। রোগী বাড়ার পর ওয়ার্ডে আরো ১০টি বেড স্থাপন করা হয়েছে। ২৮টি বেডের বিপরীতে বুধবার দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালে নতুন পুরানো মিলে ১২০জন রোগী রয়েছে। তাই রোগীদেরকে বাধ্যতামূলক হাসপাতালের বারান্দায় ফ্লোরিং করতে হয়েছে।

ডায়রিয়া ওয়ার্ডে থাকা রোগীদের নথিপত্র দেখে জানা গেছে, গত ২৩ নভেম্বর হাসপাতালে ৩০জন, ২৪ নভেম্বর ২৯জন, ২৫ নভেম্বর ২৭জন, ২৬ নভেম্বর ২৩জন, ২৭ নভেম্বর ৪৪জন, ২৮ নভেম্বর ৪২জন, ২৯ নভেম্বর ৩০জন, ৩০ নভেম্বর ৩০জন ও ১ ডিসেম্বর দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ১৪জন রোগী ভর্তি হয়।

এর মধ্যে ২৩ নভেম্বর ২৯জন, ২৪ নভেম্বর ২০ জন, ২৫ নভেম্বর ৩১জন, ২৬ নভেম্বর ৭জন, ২৭ নভেম্বর ২৪জন, ২৮ নভেম্বর ২৪জন, ২৯ নভেম্বর ২৪জন, ৩০ নভেম্বর ৩১জন ও ১ ডিসেম্বর দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ১৬জন রোগী সুস্থ্য হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করে।

হাসপাতালে ভর্তি থাকা পৌর এলাকার ভাদুঘর গ্রামের তিন মাস বয়সী শিশু ইশানের মা রেহেনা বেগম বলেন, তিনি তার শিশুকে নিয়ে চারদিন আগে হাসপাতালে এসেছেন। সীট না পাওয়ায় হাসপাতালের বারান্দায় ফ্লোরিং করে আছেন। তিনি বলেন, শীতের দিনে ফ্লোরিং করে থাকতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। তিনি বলেন, হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে স্যালাইন ও অনুসাঙ্গিক ঔষধ দেয়া হচ্ছে। স্যালাইন দেয়ার পর বাচ্চার বমি বন্ধ হয়েছে, তবে এখনো বাচ্চাটা পুরোপুরি সুস্থ হয়নি।

আশুগঞ্জ উপজেলার আড়াইসিধা গ্রামের সুমি আক্তার বলেন, তিনি তার চারমাস বয়সী শিশু নাহিদকে নিয়ে দু’দিন আগে হাসপাতালে এসেছেন। হাসপাতাল থেকে স্যালাইন ও ইনজেকশন বিনামূল্যে দেয়া হয়। তবে ক্যানোলা হাসপাতালের বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে। তিনি বলেন, বাচ্চাটা আগের চেয়ে সুস্থ।

সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও থেকে আসা শুকতারা বেগম বলেন, তিনি তার ৬ মাস বয়সী বাচ্চা আইরিন কে নিয়ে মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালে এসেছেন। হাসপাতাল থেকে স্যালাইন ও ইনজেকশন দেয়ার পর বাচ্চার অবস্থা আগের চেয়ে ভালো। বুধবার থেকে বাচ্চাকে খাবার স্যালাইন দেয়া হয়েছে।

ডায়রিয়া ওয়ার্ডের দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্স হাবিবা সুলতানা বলেন, প্রতিদিনই নতুন রোগী আসছে। দিন-রাত দু’সময়েই রোগী আসছে। হাসপাতালে আমরা সাধ্যমত তাদেরকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেন, হাসপাতাল থেকেই রোগীদেরকে বিনামূল্যে ইনজেকশন, স্যালাইন, খাবার স্যালাইনসহ সব ধরনের ঔষধ দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, রোগীর সংখ্যা বেশী হওয়ায় রোগীদেরকে বেড দেয়া যাচ্ছেনা। তাই বাধ্য হয়ে রোগীদেরকে ফ্লোরিং করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, বুধবার দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালে নতুন পুরানো মিলিয়ে ১২০জন রোগী রয়েছে। অথচ ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বেড আছে মাত্র ২৮টি।

এ ব্যাপারে ২৫০ শষ্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোহাম্মদ ওয়াহীদুজ্জামান বলেন, মূলত সচেতনতার অভাবেই মানুষের ডায়রিয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, খাল-বিলের পানি কমতে থাকায় পানির মধ্যে জীবানুর সৃষ্টি হয়েছে। এই পানি ব্যবহারের ফলেই মূলত লোকজনের ডায়রিয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, লোকজন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকলে, সাবান দিয়ে হাত ধোঁয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে ডায়রিয়া কমে যাবে। এছাড়াও বাচ্চাদের ব্যাপারে অভিভাবকদের আরো যত্নশীল হতে হবে। তাদেরকে ধূলা-বালিতে যেতে দেয়া যাবেনা। তিনি হাসপাতালে ডায়রিয়ার রোগী বাড়ার কথা স্বীকার করে বলেন, রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমানে স্যালাইন ও ঔষধপত্র মজুদ আছে। রোগীদেরকে বিনামূল্যে ইনজেকশন, স্যালাইন ও খাবার স্যালাইন দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি আরো খারাপ হলেও আমরা রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে প্রস্তুত আছি। প্রয়োজনে ডায়রিয়ার ওয়ার্ডের সংখ্যা বাড়ানো হবে। কোন ডায়রিয়ার রোগীকে হাসপাতাল থেকে ফেরত দেয়া হবে না। তিনি বুধবার দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালে ১২০জন রোগী ভর্তি থাকার কথা স্বীকার করেন।

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

সকল ফিচার

ক্যাম্পাস
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
হাট্টি মা টিম টিম
কৃষি ও সম্ভাবনা
রঙ বেরঙ

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে