​ অধ্যাপক সাইদা হত্যায় গ্রেপ্তার আসামি তিন দিনের রিমান্ডে

​  অধ্যাপক সাইদা হত্যায় গ্রেপ্তার আসামি তিন দিনের রিমান্ডে

গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর পানিশাইল এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সাইদা গাফ্ফারকে ( ৭১) হত্যা মামলার গ্রেপ্তার আসামি আনোয়ারুল ইসলামকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

শনিবার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শনিবার বিকেলে এই আদেশ দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি) অপরাধ মো. জাকির হাসান জানান, শনিবার বিকেলে আসামিকে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে গাজীপুরের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এ হাজির করে পুলিশ। পরে শুনানি শেষে ওই আদালতের বিচারক মেহেদী পাভেল সুইট মামলার একমাত্র আসামি আনারুলকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না সেটিও জানা সম্ভব হবে।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের কোনাবাড়ি জোনের সহকারী কশিনার আবু সায়েম নয়ন জানান, সাইদা গাফফার, কাশিমপুরের পাইনশাইল এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় একা থেকে পাইনশাইল এলাকায় অবস্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবাসন প্রকল্পে তাদের একটি ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজ করাচ্ছিলেন। গত ১১ জানুয়ারি সন্ধ্যার পর থেকে তার পরিবারের লোকজন মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও অধ্যাপক সাইদার কোনো সন্ধান পাচ্ছিলেন না। পরদিন ১২ জানুয়ারি তার মেয়ে মোসা. সাহিদা আফরিন এ ব্যাপারে কাশিমপুর থানায় একটি জিডি করেন।

ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ওই শিক্ষিকার প্লটে নির্মাণাধীন বাসায় আনারুল নামের এক রাজমিস্ত্রি কাজ করেন। ১১ জানুয়ারি কাজ শেষে রাজমিস্ত্রি আনোয়ারুল ও তার সহকারীরা সকলেই প্রকল্প এলাকা ত্যাগ করেন। পরদিন সহকর্মীরা কাজে যোগ দিলেও আনোয়ারুল অনুপস্থিত ছিলেন। পরে জিডির তদন্ত করতে গিয়ে প্রাপ্ত তথ্য এবং আনোয়ারুলের মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার রাতে তাকে গাইবান্ধা থেকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য মতে শুক্রবার সকালে প্রকল্প এলাকার ঝোপঝাড়ের ভেতর থেকে সাইদা গফফারের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। শুক্রবার বিকেলে তার লাশের ময়নাতদন্তের পরে তার লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রাতে ঢাকায় জানাজা শেষে তাকে মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

কাশিমপুর থানার এসআই দীপঙ্কর রায় জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আনোয়ারুল স্বীকার করেন ১১ জানুয়ারি বিকেলে কাজ শেষে নির্মাণ সামগ্রী ও মালপত্র কেনার টাকা নিয়ে প্রকল্প এলাকা থেকে ফেরার পথে প্রকল্পের ভেতরে নির্জন এলাকায় রাজমিস্ত্রি আনোয়ারুল অধ্যাপক সাইদা গাফ্ফারের সঙ্গে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় সাইদা চিৎকার করলে গলার ওড়না চেপে ধরে তার শ্বাসরোধ করে হত্যার পর সঙ্গে থাকা ১০ হাজার টাকা ও দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে রাতেই গাইবান্ধা পালিয়ে যায় বলে আনোয়ার জানায়।

গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক সানোয়ার জাহান জানান, হত্যাকারেণ্ডর পর আনারুল ইসলাম গাইবান্ধার পলাশবাড়ী এলাকার তার শ্বশুরবাড়িতে রাত যাপন করেন। পরদিন সে তার নিজ গ্রামের বাড়ি সাদুল্যাপুরে চলে যায়।

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গোয়েন্দা পুলিশ ও থানা পুলিশের দুটি টিম আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আসামির অবস্থান শনাক্ত করে। পরে পুলিশ গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর এলাকায় অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সাদুল্যাপুর থানার জাউলিয়া বাজার থেকে আনারুল অটোরিকশা যোগে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে নিহত অধ্যাপক সাইদা গাফফারের ব্যবহৃত একটি বাটন মোবাইল, একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সেট এবং নগদ ২ হাজার ৬৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

নিহতের ছেলে সাঈদ ইফতেখার জহির সাংবাদিকদের বলেন, পানিশাইল এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে আবাসন করা হয়েছে সেটি ছিল পুরোপুরি অরক্ষিত ঝোপজঙ্গলে ভরা। এখানে নামেমাত্র নিরাপত্তাকর্মীর ব্যবস্থা ছিল। সন্ধ্যার পর নিরাপত্তাকর্মীদের খুঁজেও পাওয়া যায় না। আবাসন এলাকার কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই আজ আমার মাকে হারাতে হয়েছে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে তিনি বাদী হয়ে কাশিমপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত আনারুল ইসলাম হলেন গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার বুজুর্গ গ্রামের আনসার আলীর ছেলে। হত্যার পর তার বাসাতেও লুটপাট হয়েছে। তবে কী কী লুট হয়েছে এখনো সঠিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

যাযাদি/ এমডি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

সকল ফিচার

ক্যাম্পাস
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
হাট্টি মা টিম টিম
কৃষি ও সম্ভাবনা
রঙ বেরঙ

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে