পরকীয়ার জেরে ডেকে নিয়ে বিষ খাইয়ে ইমামকে হত্যা!

প্রকাশ | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪:০৪

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে মুঠোফোনে আনোয়ারা উপজেলার গহিরায় ডেকে নিয়ে হাফেজ ইলিয়াছ (২৮) নামে মসজিদের এক ইমামকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নারীসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গহিরা গ্রামের জাফর আহমদের বাড়িতে মধ্যরাতে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গেলে এ ঘটনা ঘটে। নিহত এক সন্তানের জনক ইমাম হাফেজ মো. ইলিয়াছ চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের সেনায়েত আলীর বাড়ির মৃত্যু আবুল কালামের পুত্র। তিনি চট্টগ্রাম নগরীর একটি জামে মসজিদে চাকরি করতেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রাত তিনটার সময় রায়পুর ইউনিয়নের গহিরা গ্রামের ফকিরহাট এলাকায় বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত ইলিয়াছকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। ওই সময় উদ্ধার করে আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করে। এ ঘটনার পর পুলিশ মো. খোরশেদ (৩০) ও জান্নাতুল মাওয়া রিফা (২৭) নামের দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁরা সম্পর্কে ভাই-বোন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, নিহত হাফেজ ইলিয়াছ বছরখানেক আগে রায়পুর ইউনিয়নের গহিরার বাইঘ্যার ঘাট এলাকায় একটি মসজিদে ইমামতি করতেন। এ সময় স্থানীয় জাফরের স্ত্রী জন্নাতুল মাওয়া রিফার সঙ্গে পরকীয়ায় সম্পর্ক হয়। পরে তাদের সম্পর্কের বিষয়টি জানাজানি হলে, স্বামী জাফর নিপাকে তালাক দেন । পাশাপাশি ইলিয়াছকেও ১বছর আগে মসজিদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয় কর্তৃপক্ষ।

নিহত হাফেজ ইলিয়াছের ছোট ভাই মো. ইউসুফ বলেন, রাত ১টা ২১ মিনিটে আমার মোবাইলে একটি বার্তা আসে ভাইয়ের মোবাইল থেকে, বার্তায় লেখা ছিল ‘ইউসুফ রিফার ভাইয়েরা আমাকে এনে বিষ খাওয়াই দিচ্ছে’ আমি গহিরা। খুদে বার্তা পেয়ে আমরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আনোয়ারায় ছুটে আসি। পরে এখানে এসে আমরা হাসপাতালে ভাইকে মৃত্যু দেখতে পায়। তারা মুলত আমার ভাইকে মুঠোফোনে কল ও এসএমএস দিয়ে ডেকে এনে বিষ খাইয়ে খুন করেছে।

এদিকে এ ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে দাবি করে নিহত ইলিয়াছের স্ত্রী নাহিদা আকতার (২৬) বলেন, ২০২০ সালের ১৩ জুলাই আমাদের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের দুই মাস পরে গহিরা এলাকার একটি মসজিদে চাকরি নেন আমার স্বামী। সেখানে জাফর আহমেদ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার (স্বামী) পরিচয় হয়। এরপর আমরা শুনতে পাই জাফর আহমদের স্ত্রীর সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা। তাদের সম্পর্কের বিষয়টি জানাজানি হলে জাফর তার স্ত্রীকে তালাক দেন এবং আমার স্বামীও চাকরি ছেড়ে বাড়ি চলে আসেন। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমার স্বামীকে মেরে ফেলা হয়েছে। আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর্জা হাছান বলেন, প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে পরকীয়াজনিত কারনে তার মৃত্যু ঘটেছে। ঘটনায় জড়িত সন্ধেহে জন্নাতুল মাওয়া নিপা নামে এক মহিলা ও মহিলার ভাইসহ ২ জনকে আটক করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে আসামি করে নিহতের ভাই ইদ্রিস একটি হত্যা মামলা করেছেন। ওই মামলায় নারীসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে। অন্য আসামিদেরও আটকের চেষ্টা চলছে।

যাযাদি/এসএস