বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৯ মাঘ ১৪২৯
walton1

নেত্রকোনায় জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে ঘিরে চাঙ্গা রাজনীতি

স্টাফ রিপোর্টার, নেত্রকোনা
  ০২ নভেম্বর ২০২২, ১০:৩৭

নেত্রকোনা জেলা আলীগের দীর্ঘ ৬ বছরের মাথায় ১লা ডিসেম্বর আসন্ন ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সারা জেলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বেশ উজ্জীবিত। সম্মেলনকে ঘিরে জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতি দীর্ঘদিন পর চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।

 

জেলা শহরের ছোটবাজারস্থ দলীয় কার্যালয়ে সভাপতি-সম্পাদক প্রার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি সম্মেলনকে বেশ জমিয়ে তুলেছে। জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়কে শোভা পাচ্ছে প্রার্থীদের ছবি সম্বলিত একাধিক তোরন। জেলা আলীগের সম্মেলনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে নেত্রকোনা সদর, মদন, খালিয়াজুরী, দূর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলা আলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন করা হয়েছে।

 

 প্রতিটি উপজেলার সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক পদে আলীগের নেতৃত্বের চমক এসেছে। এরই ধারাবাহিকতায় জেলা সম্মেলনেকে হচ্ছেন সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক এনিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা, জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। প্রার্থীরা তৃনমূল থেকে কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড পর্যন্ত জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

জেলা আলীগের সম্মেলনে সভাপতি পদে বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলী খান খসরু এমপি এবং জেলা আলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক-১ পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নজরুল ইসলাম খানের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। অন্যদিকে সাধারন সম্পাদক পদে বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ-২ নুর খান মিঠু, জেলা আলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক-৩ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি প্রশান্ত কুমার রায়, জেলা আলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. শামছুর রহমান ভিপি লিটনসহ বেশ কয়েকজন আলীগ নেতার নাম আলোচনায় রয়েছেন।

 

 

জানা গেছে, জেলা আলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী জেলা আলীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আশরাফ আলী খান খসরু এমপি বিগত নবম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-২, সদর-বারহাট্রা আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর তিনি প্রথমে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ২০০৪ সাল থেকে অদ্যাবধি তিনি জেলা আলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। আসন্ন সম্মেলনে তিনি সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।

 

 জেলা আলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী জেলা আলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক-১ তিনবারের পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নজরুল ইসলাম খান মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সাবেক গণপরিষদ সদস্য মরহুম আব্বাছ আলী খানের সুযোগ্য সন্তান।  নজরুল ইসলাম খান ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন। তিনি ১৯৭২ সালে নেত্রকোনা মহকুমা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, ১৯৭৪ সালে মহকুমা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৭৫ সালে সামরিক শাসনামলে গ্রেপ্তার এবং নির্যাতনের শিকার হন।

 

তিনি ১৯৭৯ সালে জেলা আলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, ২০০৪ সাল থেকে অদ্যাবধি জেলা আলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক-১ হিসেবে প্রতিটি সাংগঠনিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে নেতৃত্বের অগ্রভাবে রয়েছেন। নেত্রকোনা পৌরসভার উন্নয়নের রূপকার বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম খান সদ্য অনুষ্ঠেয় জেলা পরিষদ নির্বাচনে আলীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিরোধ যোদ্ধা অসিত কুমার সরকার সজলের নির্বাচন পরিচালনায় একজন দক্ষ সমন্বয়কের ভূমিকা রেখেছেন। নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকে বিজয়ী করা পর্যন্ত তিনি আলীগ প্রার্থীর পাশে থেকেছেন। জেলার প্রতিটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে এবং অনুষ্ঠানে মেয়র নজরুল ইসলাম খান মরহুম পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্বাছ আলী খান স্মৃতি পরিষদের ব্যানারে ব্যক্তিগতভাবে অসহায়দের মাঝে সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রেখেছেন।

 

কোভিড-১৯ সনাক্তের শুরুতেই জেলা আলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নজরুল ইসলাম খান সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণের মধ্য দিয়ে সংকট মোকাবেলায় মাঠে নামেন। নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে করোনার সঙ্কটে প্রতিদিন অসহায়দের পাশে থেকে সতায়তাকালে মেয়র নজরুল ইসলাম খান, মেয়রপত্মী, মেয়রপুত্র, নাতীসহ পরিবারের ৭ জন সদস্য করোনায় আক্রান্ত হন। ওই সময়ে মেয়র পরিবারসহ সকলের সুস্থতা কামনা করে জেলা সদরসহ বিভিন্ন মন্দির, আশ্রম, উপসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

জেলায় পারিবারিক ঐতিহ্য এবং সুদীর্ঘ সময় আওয়ামী রাজনীতিতে দক্ষতা এবং সাংগঠনিকভাবে নেতৃর্ত্বের সফলতায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মেয়র নজরুল ইসলাম খানকে জেলার সভাপতি হিসেবে বিজয়ী করার লক্ষ্যে দলীয় নেতাকর্মী এবং তৃনমূলের অনুসারীরা ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

জেলা আলীগের সাধারন সম্পাদক পদপ্রার্থী জেলা আলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক-২ নুর খান মিঠু বিগত জেলা সম্মেলনেও সাধারন সম্পাদক প্রার্থী হয়েছিলেন। তিনি রাজপথের একজন সক্রিয় নেতা এবং জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সফল সাধারণ সম্পাদক।

 

জেলা আলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী জেলা আলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার রায় ১৯৮২ সালে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। তিনি ১৯৮৫ থেকে ৮৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক, ১৯৮৯ থেকে ৯১ সাল পর্যন্ত জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৯৫ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০০৪ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত জেলা আলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পরবর্তীতে জেলা আলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

সাবেক ছাত্রনেতা প্রশান্ত কুমার রায় ১৯৮৯ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে কারাবরণ, ১৯৯১ সালে রাজপথে সক্রিয় নেতৃর্ত্বের কারণে কারাবরণ, ২০০১ সালে তত্তাবধায়ক সরকারের শাসনামলে দলীয় মিছিলে পুলিশের হামলা এবং ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় কারাবরণ করেন। ২০০৩ সালে চারদলীয় সরকারের সময়ে ময়মনসিংহ সিনেমা হলে বোমা হামলার মিথ্যা অভিযোগে প্রিন্সিপাল মতিউর রহমান, সাবের হোসেন চৌধুরী, প্রফেসর মুনতাসির মামুন এবং সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরের সাথে এক বছর ফাঁসির সেলে প্রশান্ত কুমার রায় অবরুদ্ধ ছিলেন। ২০০৭ সালে ১/১১ চলাকালীন নেত্রী গ্রেপ্তারের পরবর্তী সময়ে নেত্রকোনায় নেত্রীর মুক্তির আন্দোলনের মিটিং মিছিলে তিনি অগ্রনী ভূমিকা রেখেছেন। জেলা আলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় ২০১১ সালে নেত্রকোনা পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি ২০১৭ সালে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে জেলার সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বর্তমানে তিনি জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নেত্রকোনায় আলীগের ভীতকে আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

 

জেলা আলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী জেলা আলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. শামছুর রহমান লিটন। তিনি সারা জেলায় দলীয় নেতা কর্মীদের মাঝে ভিপি লিটন নামে পরিচিত। তিনি ১৯৯২ সালে নেত্রকোনা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্র সংসদের পাঠাগার সম্পাদক, ১৯৯৩-৯৪ শিক্ষাবর্ষে বিপুল ভোটে কলেজবার্ষিকী সম্পাদক এবং ১৯৯৬-৯৭ সালে কলেজ ছাত্র সংসদের ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) নির্বাচিত হয়ে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

 

তিনি ১৯৯৩ সালে জেলা ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক পরবর্তীতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যানির্বাহী কমিটির (লিয়াকত-বাবু) সদস্য, বাংলাদেশ আাওয়ামী লীগ উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক এবং ২০১৬ সাল  থেকে জেলা আলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ১৯৯৪ সালে বিএনপির ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাবরণ এবং ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ৩৬টি মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হন। জেলা শহরের রাজপথে নেতৃত্বের অগ্রভাবে থাকাবস্থায় ভিপি লিটন একাধিকবার মারাত্মকভাবে জখমের শিকার হয়েছেন। এখনো তার শরীরে ৮৬টির মতো স্প্রিন্টার বয়ে বেড়াচ্ছেন।

 

ওই সময়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল তারেক সিদ্দিকির সহায়তায় ভিপি লিটন সিএমএইচে চিকিৎসাসেবার সুযোগ লাভ করেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ভিপি লিটন ছাত্রজীবন থেকেই বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে সমৃক্ত রয়েছেন। আসন্ন জেলা সম্মেলন উপলক্ষ্যে জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়কে প্রার্থীদের ছবি সম্বলিত সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে একাধিক তোরন শোভা পাচ্ছে।  

 

যাযাদি/সাইফুল

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে