মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯
walton1

বাঁশখালীতে সাগরপথে চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে মারধর

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
  ০৭ নভেম্বর ২০২২, ১৩:৩০

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বঙ্গোপসাগর অংশে সাগরপথ ব্যবহারে চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় এমরানুল হক (৩৯) নামে এক বাল্কহেড ব্যবসায়ী কে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগটি উঠেছে বাঁশখালী উপজেলার পশ্চিম বড়ঘোনার আজগর বাহিনীর বিরুদ্ধে।

 

জানা যায়, চট্টগ্রামের বাঁশখালী পশ্চিম বড়ঘোনা এলাকার বাল্কহেড ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশ কার্গো ট্রলার ভাল্ক হেড শ্রমিক ইউনিয়ন বাঁশখালী শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক এমরানুল হকের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি করে আসছিল একই এলাকার আজগর হোসাইন।

 

সাগরপথে বাল্কহেড চলাচল করায় এই চাঁদা দাবি করেন তিনি। এদিকে চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় ব্যবসায়ী এমরানকে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ভাল্কহেড জাহাজের সুকানি বেতন, বাজার ও জাহাজের জ্বালানি তেল কেনার টাকা দিতে যাওয়ার সময় পতেঙ্গা ১৪ নম্বর ঘাটে মারধর এবং নগদ ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। এরপর সর্বশেষ, শনিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১০টায় আবারও আজগর বাহিনীর সদস্যরা বাল্কহেড ব্যবসায়ী এমরানুল হককে মারধর করে ও নগদ ২ লক্ষ ৬৭ হাজার টাকা লুট করে নেয়। উপজেলার গণ্ডামারা ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ঘোনা নতুন মার্কেট এলাকার রহমানিয়া রোডে এ ঘটনা ঘটে।

 

জাহাজের নাবিক ও বাল্কহেডের সুকানি-শ্রমিকরা জানান, বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া চ্যানেলের গণ্ডামারা সাগরতীরবর্তী একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র বড়ঘোনা এলাকার নুরুল ইসলামের পুত্র আজগর বাহিনীর হাতে আজ অবধি মারধর ও হামলার শিকার হয়েছেন অনেকে। তবে অনেক ভুক্তভোগী ইজ্জত ও প্রাণ হারানোর ভয়ে মুখ খুলতে পারেনি। আবার অনেকে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। এ বাহিনীর বিরুদ্ধে কোথাও অভিযোগ করলে নেমে আসে নির্মম নির্যাতন। আমরা তাদের ভয়ে কেউ সাগরে যেতে পারি না।

 

বাল্কহেড ব্যবসায়ী এমরানুল হক বলেন, আজগর আমার কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি করে আসছিল। সে আগেও চাঁদা না দেওয়ায় আমাকে বেশ কয়েকবার মারধর করেছে। ২৪ সেপ্টেম্বরও আমার কাছ থেকে ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এ বিষয়ে বাঁশখালী সিনিয়ার জুড়িশিয়াল ম্যাজিট্রেট বরাবর অভিযোগ দিয়েছিলাম এবং সর্বশেষ শনিবার সকালে নতুন মার্কেটে ডাচ-বাংলা ব্যাংকে টাকা পাঠাতে গিয়েছিলাম আমি। সেখানে আগে থেকে ওৎপাতে থাকা আজগর, মীর কাশেম, বাদশা, জসীম, মাইমুনুর রশীদ সহ ১০ থেকে ১২ জন আমাকে মারধর করে। এ সময় আমার কাছে থাকা নগদ ২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। ওখানে মানুষজন যদি না থাকতো তাহলে তারা আমাকে মেরে ফেলতো। বর্তমানে আমি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিউরো সার্জারি বিভাগের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছি।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আজগর হোসাইন বলেন, ঐদিন সকালে আমরা বাজারে গিয়েছি। এমরানও বাজারে আসলো। আমি তাকে মারধর করিনি। আমার সাথে তো ওর জায়গাজমি নিয়ে বিরোধ নেই। সে সাগরপথে লোক সাপ্লাই দেয়। তার লাইসেন্স আছে কিনা দেখেন আগে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাটি আমি মৌখিকভাবে শুনেছি। এ ঘটনায় কেউ এ পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

যাযাদি/সাইফুল

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে