মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯
walton1

হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ভেসাল জাল!

সোহেল মিয়া, রাজবাড়ী
  ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:৫৮

নদীমাতৃক দেশ আমাদের এই সোনার বাংলাদেশ। প্রকৃতির বিচিত্র দানে অপরূপ রুপে সজ্জিত এই দেশ। বাংলা নামের এ জনপদকে অধিক সমৃদ্ধ করে রেখেছে হাজার হাজার খাল-বিল, হাওড়-বিল ও নদী-নালা। আর এ কারণেই বাংলা হয়েছে নদীমাতৃক বাংলাদেশ। মানব সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকেই মানুষের জীবনযাত্রার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে নদ-নদী।

এমন এক সময় ছিল বাংলার মানুষের জীবনজীবিকার সাথে মাছ ধরা ছিল অন্যতম একটি পেশা। পাড়ায় পাড়ায় গড়ে উঠেছিল জেলা সম্প্রদায়। কিন্তু সময়ের আবর্তনের সাথে সাথে আজ হারিয়ে যেতে বসেছে সব।  অস্বিত্ব সংকটে ভুগছে জেলে সম্প্রদায়। ভেসাল জাল পুস্তুকের কথা হলেও স্থানীয় গ্রামের ভাষায় একে বেয়াল জাল বা খেয়া জাল বলে। গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে এ নামেই বেশি পরিচিত।

একটা সময় দেশের খালে-বিলে বর্ষা মৌসুমে ভেসাল জাল দিয়ে মাছ শিকার করতো জেলে সম্প্রদায়। প্রতিটি নদ-নদীতেই দেখা মিলত বাঁশ-সুতো দিয়ে তৈরি মাছ শিকারের বিশেষ এই যন্ত্র ভেসাল জাল। ঝাঁক বেঁধে উঠতো দেশীয় প্রজাতির নানা প্রকারের মাছ।

কিন্তু  বৈরি আবহাওয়া ও জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব, অবৈধ দখল আর অপরিকল্পিত ভাবে জলাশয় ভরাটের ফলে আজ যেমন মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে দেশের খাল-বিল, নদী-নালা। ঠিক তেমনি বিলুপ্তির পথে ভেসাল জাল। কোন এক সময় ভেসাল জাল সচরাচর চোখে পড়লেও বর্তমান কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে। এখন আর চোখে পড়েনা বাংলার এক সময়ের মাছ শিকারের জনপ্রিয় এই ভেসাল। নদীর অস্বিত্ব সংকটের সাথে সাথে আজ দেশীয় প্রজাতির মাছ ও মাছ ধরার বিশেষ এই পদ্ধতিও হারিয়ে যাচ্ছে।

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির সদর ইউনিয়নের ভীমনগর গ্রামের জেলে রমেন সেন  বলান, আমার বয়স এখন প্রায় ৮৫ বছর। এমন এক সময় ছিল সারা রাত ধরে চন্দনা নদীতে ভেসাল দিয়ে মাছ ধরতাম। প্রতি রাতে যে মাছ পেতাম তা দিয়েই চলত আমাদের সংসার। এখন চন্দনা নদীতে পানি থাকে না। ২-৩ মাস বর্ষা মৌসুমে একটু পানি থাকলেও আগের মতো আর মাছ পাওয়া যায় না। নদীতে যদি পানিই না থাকে তাহলে ভেসাল জাল থাকবে কি রে? পানি নেই, মাছ নেই তাই ভেসাল জালও নেই। 

বহরপুর ইউনিয়নের বারুগ্রাম আবাসনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার খালে বেশ কয়েকটা ভেসাল রয়েছে। কথা হয় ভেসালের মালিক আমিরুল হোসেনের সাথে। তিনি জানান, আবাসনের এই বিলে বর্ষা মৌসুমে একটু পানি থাকে। তখন ভেসাল দেই আমরা। পানি শুকিয়ে গেলেই ভেসাল খুলে বাড়ি নিয়ে যাব। একটি ভেসাল দিতে যে খরচ সে খরচও এখন উঠতে চায়না। বিলে এখন মাছ নেই।

বালিয়াকান্দি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল মান্নাফ বলেন,  ভেসাল মাছ শিকারের একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি। এটি গ্রামীণ জনপদের ঐতিহ্যবহন করে। মাছ শিকারের এই প্রক্রিয়াটি আজ সময়ের সাথে সাথে হারিয়ে যাচ্ছে। আগে গ্রামাঞ্চলের নদী-নালা, খাল-বিলে প্রচুর ভেসাল দেখা যেত। বাস্তবতা এখন ভিন্ন। বৈরি আবহাওয়া ও জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব, অবৈধ দখল আর অপরিকল্পিত ভাবে জলাশয় ভরাটের ফলে অস্বিত্ব সংকটে ভুগছে নদীগুলো। যার কারণে ভেসালও এখন আর তেমন চোখে পড়েনা।

যাযাদি/সাইফুল
 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে