মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯
walton1

ধর্মপাশায় ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি, দূর্ঘটনা এড়াতে বাঁশের সাঁকো ভরসা

ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধ
  ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬:৫২

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা সদরের মধ্যবাজারে  থাকা শয়তান খালী খালের ওপর নির্মিত সেতুটির পাটাতন দেবে যাওয়া ও পিলারসহ বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে গত পাঁচ বছর আগে। এই সেতুটির ওপর দিয়ে গত দুই বছর ধরে যানচলাচল বন্ধ থাকলেও  জন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। 

সোমবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে সেতুটি দেবে যাওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ভয়াবহ দূর্ঘটনা এড়াতে সেতুটির সংযোগ সড়কের দুই পাশে বাঁশের বেস্টনী দিয়ে জনচলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধ করে সেতুর দক্ষিণ পাশে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দিয়েছেন ধর্মপাশা সদর ইউপি চেয়ারম্যান জুবায়ের পাশা  হিমুর। 

উপজেলা প্রশাসন ও  এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ধর্মপাশা সদর ইউনিয়নের ধর্মপাশা মধ্যবাজারে শয়তানখালী খালের ওপর পাকা সেতুটি সরকারি অর্থায়নে ৪০থেকে ৪৫বছর আগে নির্মাণ করা হয়। পাঁচ বছর  আগে  সেতুটির পাটাতন দেবে যাওয়া ও পিলারের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়। 

এ অবস্থায় সেতুটির দুই পাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে গত  দুই বছর ধরে যানচলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্ত সেতুটির ওপর দিয়ে জনচলাচল স্বাভাবিক ছিল। যে কোনো সময় ঘটে যেতে পারতো প্রাণহানির ঘটনা । তাই ভয়াবহ দূঘটনা এড়াতে সোমবার দুপুরে সেতুটির দুই পাশের বাঁশের বেড়া দিয়ে জনচলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। 

ওইদিন বিকেলেই  জনচলাচলের জন্য সেতুটির দক্ষিণ পাশে একটি বাঁশের সাঁকে নির্মাণ করা হয়। সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ায় সাঁকোর ওপর দিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষজনকে চলাচল করতে দেখা যায়।

ধর্মপাশা সদর  ইউনিয়নের মহদীপুর গ্রামের বাসিন্দাা ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন খান বলেন, এই সেতুটির দুই পাশে  রয়েছে এলজিইডির  সড়ক। গত পাঁচ বছর ধরে এটি ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও  এলজিইডি কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।  আমাদের ইউপি চেয়ারমান বাঁশের এই সাঁকোটি নির্মাণ করে দিয়ে মানুষজনকে ভয়াবহ দূর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করেছেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডির) ধর্মপাশা উপজেলা প্রকৌশলী মো.শাহাব উদ্দিন বলেন, আমি ও ইউএনও স্যার সরোজমিনে গিয়ে সোমবার দুপুরে ধর্মপাশা বাজারের এই সেতুটি পরিদর্শন করেছি। সেতুটির অবস্থা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। 

যে কোনো সময় ধ্বসে যেতে পারে। তাই জনচলাচল বন্ধ রাখার জন্য বাজারের ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষজনদের সঙ্গে কথা বলেছি। নতুনভাবে এই সেতুটি নির্মাণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ধর্মপাশা সদর  ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান জুবায়ের পাশা হিমু বলেন, সেতুটি পাঁচবছর ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতুটির ওপর দিয়ে জনচলাচলের ফলে যেকোনো সময় প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল। তাই প্রশংসা বা বাহাবা পেতে নয়,বিবেকের তাগিদে জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে নিজস্ব অর্থায়নে এই সাঁকোটি নির্মাণ করে দিয়েছি। 

ধর্মপাশার ভারপ্রাপ্ত ইউএনওর দায়িত্বে থাকা উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অলিদুজ্জামান বলেন, ধর্মপাশা সদর ইউপি চেয়ারম্যান তাঁর নিজস্ব অর্থায়নে জনচলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর দক্ষিণ পাশে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দিয়ে প্রশংসার কাজ করেছেন। জন ও যান চলাচলের জন্য একটি অস্থায়ী সেতু নির্মাণের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

যাযাদি/মনিরুল

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে