পরবর্তী সংবাদ
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কেন ও কীভাবে করবেন?আবরার মাসুদ জনাব তারেক এবং তার স্ত্রী রাবেয়া তাদের পাঁচ বছরের সন্তান নুবাকে স্কুলে ভর্তি করাতে নিয়ে গেলে জন্মনিবন্ধনের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারেন। নুবার জন্মের পর জন্মনিবন্ধন করা হয়নি। অথচ স্কুলে ভর্তি হতে হলে জন্মনিবন্ধন সনদ জমা দিতে হয়। নুবার জন্মনিবন্ধন করতে গিয়ে তারা আরো জানতে পারেন, বাংলাদেশ সরকার ২০০৪ সাল থেকে জন্ম ও মৃত্যু দুটোরই নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করেছে। শুরুতে বিষয়টি তাদের জন্য কিছুটা বিরক্তিকর মনে হলেও পরে এর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারেন তারা।
জন্ম ও মৃত্যুর নিবন্ধন আমাদের সবার জন্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেতে হলে এবং সামাজিক নিয়ম-শৃঙ্খলা গড়ে তোলার স্বার্থে জন্মনিবন্ধন খুব প্রয়োজন। বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে ও জাতীয় বিভিন্ন প্রয়োজন পূরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০০৪ সালে জন্ম ও নিবন্ধন আইন করে এবং দেশের সব নাগরিকের জন্মনিবন্ধনের উদ্যোগ নেয়। উল্লেখ্য, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ কার্যকর হওয়ার পর দুই বছরের মধ্যে সব জীবিত ও মৃত ব্যক্তির জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সম্পন্ন করার কথা।
জন্ম নিবন্ধিত হলে বয়স নির্ধারণ সঠিক হয় এবং প্রত্যেক ব্যক্তির পরিচয় লিপিবদ্ধ থাকে। বাল্যবিবাহ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়। ভোটার তালিকা, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ইত্যাদি জালিয়াতি বন্ধ করা সম্ভব। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধিত হলে জনসংখ্যা শুমারিতে সুবিধা হয়।
স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে জন্মনিবন্ধনের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি দায়িত্বপ্রাপ্ত যেমন সিটি করপোরেশন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী, মৃত্যুবরণকারী অথবা স্থায়ীভাবে বসবাসকারী ব্যক্তিদের জন্য সিটি করপোরেশনের মেয়র বা তিনি যে কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেবেন সেই কর্মকর্তা বা কমিশনার। পৌরসভা এলাকায় পৌরসভার চেয়ারম্যান বা প্রশাসক বা তিনি যে কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেবেন সেই কর্মকর্তা বা কমিশনার। ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় ইউপি চেয়ারম্যান বা সরকার যে কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেবেন সেই কর্মকর্তা বা ইউপি সদস্য। ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট বা তিনি যে কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেবেন সেই কর্মকর্তা এবং বিদেশে জন্মগ্রহণকারী ও মৃত্যুবরণকারী কোনো বাংলাদেশির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত বা তিনি যে কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেবেন সেই কর্মকর্তা এই দায়িত্ব পালন করবেন।
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪-এর ধারা ৯ অনুসারে জন্মনিবন্ধনের দায়িত্বে আরো কিছু কর্মকর্তা বা কর্মচারী নিয়োজিত আছেন। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের জন্য নিবন্ধকের কাছে তথ্য পাঠাতে পারেন বেশ কিছু ব্যক্তি। এদের মধ্যে রয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এবং সচিব, গ্রামপুলিশ, সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার কাউন্সিলর, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন অথবা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মী ও পরিবারকল্যাণ কর্মী, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ খাতে নিয়োজিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের (এনজিও) মাঠকর্মী, কোনো সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক বা মাতৃসদন বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে জন্মগ্রহণ ও মৃত্যুবরণের ক্ষেত্রে তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার অথবা ডাক্তার বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা, কোনো গোরস্থান বা শ্মশানঘাটের তত্ত্বাবধায়ক (যিনি গোরস্থান বা শ্মশানঘাট দেখাশোনা করেন), নিবন্ধক নিয়োজিত করেছেন এমন কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী, জেলখানায় জন্ম-মৃত্যুর ক্ষেত্রে জেল সুপার বা জেলার বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোনো ব্যক্তি, পরিত্যক্ত শিশু বা সাধারণ স্থানে থাকা পরিচয়হীন মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং নির্ধারিত অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান।
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধকের বেশ কিছু দায়িত্ব রয়েছে যেমন সব ব্যক্তির জন্ম ও মৃত্যু যাতে নিবন্ধন হয় সে ব্যবস্থা করা, নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ এবং ফরম, রেজিস্ট্রার ও সনদ সংগ্রহ অথবা ছাপানো, নিবন্ধনসংক্রান্ত নথিপত্র বা নিবন্ধন বই সংরক্ষণ করা, জন্ম ও মৃত্যু সনদ সরবরাহ করা এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত অন্য কোনো দায়িত্ব পালন করা।
শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে শিশুর পিতা-মাতা, অভিভাবক বা অন্য কোনো ব্যক্তি শিশুর জন্মসংক্রান্ত তথ্য নিবন্ধককে প্রদান করবেন। মনে রাখা দরকার, শিশু নিবন্ধনের আগেই শিশুর নাম ঠিক করতে হবে। শিশুর নাম ঠিক না হলে নিবন্ধনের ৪৫ দিনের মধ্যে নাম ঠিক করে নিবন্ধকের কাছে দিতে হবে। দেরিতে নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত বিলম্ব ফি দিতে হবে। শিশু যে এলাকায় জন্মগ্রহণ করেছে সেই এলাকায় তার জন্মনিবন্ধন করতে হবে। আবার কোনো ব্যক্তি মারা গেলে মারা যাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ওই ব্যক্তির স্ত্রী/স্বামী, পুত্র, কন্যা, অভিভাবক বা অন্য কোনো ব্যক্তি মারা যাওয়ার খবরটি নিবন্ধককে জানাবেন। এ ক্ষেত্রেও দেরিতে বিলম্ব নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত ফি প্রদান করতে হবে।
কোনো ব্যক্তির বয়স, জন্ম, মৃত্যু প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো অফিস বা আদালতে বা স্কুল-কলেজে বা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জন্ম বা মৃত্যু সনদ একটা দলিল হিসেবে কাজ করে। অন্য কোনো আইনে যাই থাক না কেন কিছু বিষয়ে বয়স প্রমাণের জন্য জন্ম সনদ ব্যবহার বাধ্যতামূলক যেমন পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে; বিয়ে রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির (ভর্তিকালীন জন্মনিবন্ধন সনদ প্রদান সম্ভব না হলে ৪৫ দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে) ক্ষেত্রে; সরকারি-বেসরকারি বা স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ লাভের ক্ষেত্রে; ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষেত্রে; ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে; জমি রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত অন্য কোনো ক্ষেত্রে।
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন না করলে আইন অনুযায়ী শাস্তি ভোগ করতে হবে। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইনের বিধান বা এর আওতায় প্রণীত বিধি লঙ্ঘনকারী নিবন্ধক বা কোনো ব্যক্তি অনধিক ৫০০ টাকা অর্থদ- অথবা দুই মাস বিনাশ্রম কারাদ- অথবা উভয় দ-ে দ-নীয় হবেন। উল্লেখ্য, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জন্য কোনো ক্ষুব্ধ ব্যক্তি অথবা নিবন্ধক ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই আইনে মামলা দায়ের করতে পারবেন। শৈশব থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের সব ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন সনদপত্র অত্যন্ত জরুরি। তাই প্রতিটি শিশুর জন্মের পর জন্মনিবন্ধন এবং মৃত্যুর পর মৃত্যু নিবন্ধন করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।
 
পরবর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close