জননী জন্মভূমি বাংলাদেশঅতঃপর ধারাবাহিকতায় '৭১ ডিসেম্বর ১৬। দেশ ভূখ--বলয়ে ধৃত বাংলাদেশ রাজনৈতিক রাষ্ট্রীয় পরিচয়কে আত্মস্থ করে নিয়ে স্বতন্ত্র এক অখ- সামগ্রিকতায় উত্তরিত হয়ে গেল। এরপর আমরা ৪৩ বছর পার করলাম। এর মধ্যে অনেক চড়াই-উতরাই আছে। আছে সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, সীমাবদ্ধতা ও সঙ্কট। তারপরও আমরা জননী জন্মভূমি আমাদের দেশকে ভালোবাসি। দেশকে এগিয়ে নিতে চাই।ষ মুস্তাফা নূরউল ইসলাম প্রস্তাবনায় নিবেদন যে, দেশমাতার সৎ সন্তানের দাবি যদি আমাদের, তাহলে বিশেষ এ পবিত্র প্রত্যয় হৃদয় ধারণ করে; 'জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী।' প্রাসঙ্গিকতা এখন অতএব অবশ্যই এরই প্রসঙ্গ_ আপন দেশ বাংলাদেশ নিয়ে। মনে করি, স্বভাবতই খোঁজ আসবে_ 'কবে থেকে এবং দেখব কবে এ বাংলাদেশ? প্রত্যক্ষত সরাসরি জবাব অবশ্য- প্রসঙ্গ যদি বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন, সার্বভৌম-নেশন টেকে' বাংলাদেশের অবস্থান তবে তা অবশ্য সাম্প্রতিককালের।
প্রসঙ্গত বলা বাহুল্য, আজকের... বিস্তারিত
জাতীয় পতাকার রূপকার পটুয়া কামরুল হাসান১৯৭১ সালে ইয়াহিয়ার দানবমূর্তিসংবলিত পোস্টার এঁকে কামরুল হাসান বিশেষভাবে খ্যাতি অর্জন করেন। এখানে কামরুল হাসানের নেতৃত্বে কাজ করেন শিল্পী দেবদাস চক্রবর্তী, নিতুন কু-ু, জহির আহমদ প্রমুখ। এ শিল্পীরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে রচনা করেন একাধিক পোস্টার। এসব পোস্টারের মাধ্যমে পাকবাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে যেমন তীব্র ধিক্কার ও প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়, তেমনি মুক্তিযোদ্ধাদের মনে দেশের জন্য যুদ্ধের উৎসাহ ও উদ্দীপনাও সৃষ্টি হয়।আশফাক হোসেন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার রূপকার ছিলেন পটুয়া কামরুল হাসান। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে পাকিস্তানি স্বৈরশাসক ইয়াহিয়ার মুখোশ অঙ্কন করে ব্যাপক পরিচিতি পান। কামরুল হাসান ১৯২১ সালের ২ ডিসেম্বর বর্ধমান জেলার কালনা থানার নারেঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পুরো নাম এ এস এম কামরুল হাসান অর্থাৎ আবু শরাফ (শার্ফ) মোহাম্মদ কামরুল হাসান। তার ডাকনাম ছিল সাতন। কামরুল হাসানের জন্মের আগে তার মায়ের পর পর কয়েকটি সন্তানের মৃত্যু... বিস্তারিত
বাংলাদেশের গর্ব কিডনি গবেষক রফিকুল ইসলামবিজ্ঞান গবেষণায় সাফল্যের জন্য ড. রফিকুল ইসলাম লাভ করেছেন মিসৌরি একাডেমি অব সায়েন্সের (এমএএস) সম্মানসূচক 'আউটস্ট্যান্ডিং সায়েন্টিস্ট অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড।' প্রতিবছর এমএএস মিসৌরির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একজন কৃতী শিক্ষককে এই সম্মাননা প্রদান করে। একাডেমি অব সায়েন্সের কাজ হলো, বিজ্ঞান গবেষণায় অনুপ্রেরণা এবং মিসৌরির বিজ্ঞানীদের মধ্যে কার্যক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা প্রদানে উৎসাহিত করা।শফিক আহমেদ কিডনি গবেষক রফিকুল ইসলাম ১৯৫৭ সালে দিনাজপুর সদরের পুলাহাটের শশড়া উপজেলার সরদারপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা একজন সামান্য মিল কর্মচারী ছিলেন। ৭ ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয় রফিক ছেলেবেলা থেকেই লেখাপড়ায় তুখোড়। পড়তেন দিনাজপুর মিউনিসিপ্যাল হাই (বাংলা) স্কুলে। স্কুলের উঁচু ক্লাসের ছাত্র থাকা অবস্থায়ই দেশের ডাকে যোগ দেন মুক্তিযুদ্ধে। ভারতের হামজাপুর ক্যাম্পে ট্রেনিং নিয়ে ডিসেম্বরের শুরুতে খানপুর যুদ্ধে অংশ নেন। দেশ স্বাধীনের পর আবারো লেখাপড়া শুরু করেন... বিস্তারিত
জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী অদ্বিতীয় বাঙালিচিন্তকবাঙালির মুক্তবুদ্ধির চর্চা ও চিন্তাবিশ্বের বহুবিচিত্র অঞ্চলে যারা পরিভ্রমণ করেছেন তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য কবীর চৌধুরী। সাহিত্য-শিল্প-রাজনীতি-ধর্ম-দর্শনবিষয়ক প্রবন্ধে নিজের অভিমত প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে অন্যের মত খ-ন করার চেষ্টা করেছেন। কবীর চৌধুরী মানবচেষ্টার কাছে কোনো অলৌকিক প্রসঙ্গকে প্রশ্রয় দেননি। তার সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধগুলো নিরঙ্কুশ বিশ্লেষণধর্মী নয়, বিষয়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সাহিত্যিকদের জীবনাচারকেও প্রবন্ধে তুলে ধরেছেন তিনি। ফলে তার প্রবন্ধ হয়ে উঠেছে সাহিত্য ও সাহিত্যিকের জীবনানুষঙ্গের যুগলচিত্র।তুষার প্রসূন কবীর চৌধুরী বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক। তিনি ১৯২৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার গোপাইরবাগ গ্রামের মুন্সী বাড়ি। পিতা খান বাহাদুর আবদুল হালিম চৌধুরী এবং মা আফিয়া বেগম। তার পুরো নাম আবুল কালাম মোহাম্মদ কবীর এবং ডাকনাম মাণিক। তবে তিনি অধ্যাপক কবীর চৌধুরী নামে সমধিক পরিচিত। কবীর চৌধুরীর ছোট ভাই শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী। ... বিস্তারিত
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীআবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর শ্রেষ্ঠ উপন্যাস 'নাম না জানা ভোর', শ্রেষ্ঠ গল্পগ্রন্থ 'সম্রাটের ছবি'। '৭৫-এর বিয়োগান্ত ঘটনা নিয়ে লিখেছেন নাটক, 'পলাশী থেকে ধানম-ি'। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'সর্বনাশের আশায়'। অসংখ্য পুরস্কারে তিনি ভূষিত হয়েছেন। বাংলা একাডেমি, ইউনেস্কো, একুশে পদক, স্বাধীনতা পদক, মানিক মিয়া স্মৃতি পুরস্কারসহ আরো দেশি-বিদেশি পুরস্কার তিনি পেয়েছেন। তার জন্য সবচেয়ে বড় পুরস্কার জনগণের ভালোবাসা। 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' গানের অমর স্রষ্টা হিসেবে বাঙালির হৃদয়ে চিরঅমর হয়ে থাকবেন।মাহমুদুল বাসার আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী ১৯৩৪ সালের ১২ ডিসেম্বর, বরিশাল জেলার উলানিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আলহাজ ওয়াহেদ রেজা চৌধুরী। মাতার নাম জোহরা খাতুন।
আলহাজ ওয়াহেদ রেজা চৌধুরীও বিখ্যাত রাজনীতিবিদ ছিলেন। তিনি কংগ্রেস করতেন। কবি আসাদ চৌধুরী বলেছেন, 'তার পিতা আলহাজ ওয়াহেদ রেজা চৌধুরী দক্ষিণ বাংলার বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। কংগ্রেস-খেলাফত করা মানুষ, শুনেছি আমাদের গ্রাম উলানিয়া থেকে ভোলায় শত শত লোক নিয়ে গিয়েছিলেন_ লবণ... বিস্তারিত
জাতীয় অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিমডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম ছিলেন একাধারে মিশনারি ও ভিশনারি। তার মতো মানুষ পাওয়া সৌভাগ্যের। যে দেশ ডা. ইব্রাহিমের মতো সন্তানকে জন্ম দিয়েছে সে দেশ, জাতি কখনো পিছিয়ে থাকতে পারে না। ঊষার আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে সেই দেশ, জাতি। কর্মজীবনের পুরো সময় তিনি জনহিতকর কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।বিথী বিশ্বাস বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সমধিক পরিচিত ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম। তিনি ১৯৬৫ সালে ডায়াবেটিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন যা বর্তমান বারডেম হাসপাতাল নামে পরিচিত। বাংলাদেশে ডায়াবেটিস রোগ সম্পর্কে সচেতনতা ও এর প্রতিকারে তার অবদান অনস্বীকার্য। বাংলাদেশের চিকিৎসা জগতের প্রথিতযশা এ ব্যক্তি ১৯১১ সালের ১ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ভরতপুর ইউনিয়নের খাঁড়োরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম শেখ মৌলভী মুহম্মদ কিসমতুল্লাহ এবং মায়ের নাম আজিম-উন-নিসা বিবি।... বিস্তারিত
ভাষাসৈনিক গাজীউল হকগাজীউল হকের সাহসিক আন্দোলনে সক্রিয়তা শুধু ভাষা আন্দোলনের সময়ই দেখা গিয়েছিল, তা নয়। তিনি অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আন্দোলন, সাংস্কৃতিক ও জাতীয় সংগ্রামের মতো আন্দোলনগুলোতেও অংশ নিয়েছেন প্রত্যক্ষভাবে।মিলন সব্যসাচী ভাষাসৈনিক গাজীউল হকের ছিল বর্ণিল এক জীবন। যিনি দেশ ও মানুষের জন্য আজীবন এক যুদ্ধের মধ্যদিয়েই জীবনকে দেখতে চেয়েছেন। তার অবদান ছিল অকৃত্রিম। হৃদয়ের গভীর থেকে দেশের প্রতি যে প্রেম গাজীউল হকের উৎসারিত হয়েছিল তা কখন-ই ভুলে যাওয়ার নয়। একাধারে তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, গীতিকার এবং ভাষাসৈনিক। ১৯৫২ সালের বাংলা ভাষা আন্দোলনের যেমন ছিলেন সক্রিয় একজন কর্মী, তেমনি দেশ ও মানুষের প্রতি পরম মমতায় তিনি দিয়ে... বিস্তারিত
টেবিল টেনিসের রানী লিনুজোবেরা রহমান লিনু খেলোয়াড়ি জীবন থেকেই আবাহনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত । এখনো সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। দায়িত্ব পালন করছেন আবাহনী লিমিটেডের টেবিল টেনিসের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। কাজ করছেন তৃণমূলের টেবিল টেনিস খেলোয়াড়দের নিয়েও। পুরনো শখের বশেই ১৯৯৩ সালে আজিমপুরে সাইক্লিং ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেছেন। মানবতাবাদী লিনু মাদকের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদী কণ্ঠ। খেলোয়াড়, সংগঠক বা মানবদরদি লিনুর প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটেছে সাহিত্য রচনায়ও।শামসুজ্জামান শামস প্রথম বাংলাদেশি ক্রীড়াবিদ হিসেবে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম ওঠান জোবেরা রহমান লিনু। ১৯৭৭ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে ১৬ বার জাতীয় টেবিল টেনিসে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় তিনি এ কৃতিত্ব অর্জন করেন। সামাজিক কর্মকা-ে বিশেষ অবদান রাখার জন্য তিনি ইউনিসেফের বিশেষ দূত নির্বাচিত হয়েছেন।
বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে অনেক স্মরণীয় দিন আছে। এ দিনগুলোর মধ্যে আলাদা বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল একটি দিন হচ্ছে ২০০২ সালের ২৪ মে। জাতীয়... বিস্তারিত
বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদআসলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এবং তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন একে অপরের পরিপূরক। চীনের মাও-চৌ এবং ভারতের গান্ধী-নেহরু জুটির মতো বাংলাদেশে মুজিব-তাজউদ্দীন জুটি অটুট থাকলে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হয়তো এভাবে সপরিবারে জীবন দিতে হতো না।মোহাম্মদ শাহজাহান ২৩ জুলাই ১৯২৫ সালে বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের জন্ম। ১৯৭১ সালে বাঙালি জাতির চরম সঙ্কটময় মুহূর্তে তাজউদ্দীন আহমদ বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে ৯ মাসের স্বাধীনতাযুদ্ধ খুবই প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা ও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেন।
১৯৭১ সালে ৪৬ বছর বয়সে তাজউদ্দীন আহমদ যুদ্ধকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হন। তাঁর অনন্য সাধারণ নেতৃত্বে ৯ মাসের যুদ্ধে একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি বিজয় অর্জন করে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেবে, 'স্বাধীন বাংলার প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু... বিস্তারিত
এটিএম শামসুজ্জামান ও প্রবীর মিত্র চলচ্চিত্রের দুই বন্ধুদেশীয় চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগের আমাদের এ দুই গুণী অভিনয়শিল্পী বাস্তব জীবনে স্কুলবন্ধুই শুধু নন, দুজনই প্রায় কাছাকাছি সময়ে অভিনয় জীবনে প্রবেশ করেছেন। এটিএম শামসুজ্জামান ১৯৬১ সালে তার চলচ্চিত্র জীবন শুরু করেন সহকারী পরিচালক হিসেবে এবং চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন আরো বছর চারেক পরে। আর প্রবীর মিত্র তার চলচ্চিত্র জীবন শুরুর আগে স্কুলে পড়া অবস্থায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি নাটকে প্রহরীর চরিত্রে অভিনয় করে এ জগতে পা রাখেন এবং ১৯৬৬ সালে প্রথম ডাক পান চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য।হাসনাত শাহীন কে না চায় তার সজীব-সচল উপস্থিতিকে মায়াময়, রঙ্গরসে ভরা পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত বাঁচিয়ে রাখতে? এ প্রশ্নের উত্তর সবারই জানা, তবু একবাক্যে বললে তা দাঁড়ায়_ সবাই চায়। হয়তো এমনটি চাইতেন ফ্রান্সের দুই ভাই 'অগাস্ট লুমিয়েঁ (১৮৬২-১৯৫৪) ও লুই লুমিয়েঁ (১৮৬৪-১৯৪৮)। হয়তো নয়, বরং বলা যায়, তারা আর সবার চেয়ে একটু বেশিই চাইতেন। বেশি চাইতেন বলেই মানুষের এমন সুপ্ত বাসনা-আকাঙ্ক্ষাকে সবার আগে বাস্তবে রূপ দিতে এগিয়ে এসেছিলেন। তারা... বিস্তারিত
হাসান আজিজুল হক ছোটগল্পের বরপুত্রগল্প লেখা প্রায় ছেড়ে দিয়ে লিখলেন তিন খ-ে আত্মস্মৃতি ও স্মৃতিকথনমূলক গ্রন্থ 'ফিরে যাই ফিরে আসি' (২০০৯, ইত্যাদি গ্রন্থপ্রকাশ), 'উঁকি দিয়ে দিগন্ত' (২০১১, ওই) এবং 'এই পুরাতন আখরগুলি' (২০১৪, ওই)। লিখলেন যে দুটি উপন্যাস 'আগুনপাখি' (২০০৬, ওই) ও 'সাবিত্রী উপাখ্যান' (২০১৩, ওই)_ তাও তার স্মৃতিসিক্ত।মোজাফ্ফর হোসেন স্মৃতি থেকে যত দূরে যাওয়া যায়, ততই নির্মোহ থেকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায় নিজেকে। কাজেই বয়সকালই স্মৃতিকথা লেখার উপযুক্ত সময়। আপাতদৃষ্টিতে প্রসঙ্গটা আইরনিক্যাল মনে হলেও এর সঙ্গে সাইকোলজিক্যাল সম্পর্ক জড়িয়ে আছে_ জীবনসায়াহ্নে এসে কার না শিশু হতে ইচ্ছা করে! মৃত্যুভাবনা থেকে বের হওয়ার জন্য শিশুকালে নিজের শিকড় গাড়া মনের একটা স্কেপিজম অবস্থা থেকেই হয়ে থাকে। অনেক সময় স্মৃতিকাতরতা (হাসান আজিজুল হকের ক্ষেত্রে হোমসিকনেসও বলা যেতে... বিস্তারিত
নির্মলেন্দু গুণ : কবিতাই যার নেশা প্রতিরোধের হাতিয়ারনির্মলেন্দু গুণ মহান কবিদের সারিতে অমরত্ব পাবেন কি-না তা ভবিতব্যই জানে; কিন্তু বক্তব্য প্রকাশের বাধাহীনতা, সংগ্রামী মানুষের পক্ষে সোজাসাপটা কথা এবং কবিতার পাঠকপ্রিয়তার একটা মাইলফলক হয়ে থাকবেন নিশ্চয়ই।কুমার দীপ 'শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্ত পায়ে হেঁটে/অতঃপর কবি এসে জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন।/তখন পলকে দারুণ ঝলকে তরীতে উঠিল জল,/হৃদয়ে লাগিল দোলা-/জনসমুদ্রে জাগিল জোয়ার, সকল দুয়ার খোলা-/কে রোধে তাঁহার বজ্রকণ্ঠ বাণী? গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তাঁর অমর কবিতাখানি:/এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,/এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম,/সেই থেকে স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের।' রেসকোর্স ময়দান যখন শিশু পার্ক হয়ে যায়, কবির বিরুদ্ধে যখন কবি চলে যায়, স্বাধীনতার... বিস্তারিত
উদ্ভিদবিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু১৯০৯ সালের কথা। নোবেল পুরস্কার একে একে ঘোষিত হচ্ছে। পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন মার্কোনি আর কার্ল ফারদিনান ব্রাউন (জার্মানি)। কিন্তু নোবেল পেলেন না আমাদের আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু। শুধু পেটেন্ট করেননি বলেই কি নোবেল পুরস্কার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন তিনি? নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে। সেই রহস্য আজো জানা গেল না।মনির তালুকদার জগদীশচন্দ্র বসুর পরিচিতিটা আমাদের কাছে উদ্ভিদবিজ্ঞানী হিসেবেই বেশি। উদ্ভিদের যে প্রাণ আছে তা সর্বপ্রথম তিনিই আবিষ্কার করেন। উদ্ভিদের প্রাণ ও সংবেদনশীলতা নিয়ে বেশ কাজ করেছিলেন বিক্রমপুরের এই খ্যাতিমান বিজ্ঞানী। প্রচলিত আছে জগদীশচন্দ্র আবিষ্কার করেন, গাছেরও প্রাণ আছে! এটা ভুল ধারণা। তাহলে জগদীশের আগে গ্রেগরি মেন্ডেল আর চার্লস ডারউইন কী করেছিলেন? গাছের প্রাণ না থাকলে মেন্ডেল কী করে মটরশুঁটির বংশগতি নিয়ে গবেষণা করলেন? আর ডারউইন-ই বা... বিস্তারিত
বিজ্ঞানচর্চা এবং বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহা১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে ১৬ ফেব্রুয়ারি দিলি্লর প্লানিং অফিসে যাওয়ার পথে স্ট্রোক করে তার মৃত্যু হয়। জ্ঞানের অন্বেষণে ও কর্তব্য সাধনে অবিচল নিষ্ঠা, অদম্য অধ্যবসায় এবং বৈজ্ঞানিক অবদানে সর্বপ্রকার সচেষ্ট হওয়া ছিল তার জীবনের আদর্শ। দেশের মানুষ প্রত্যাশা করে, বংশে এমন সুসন্তানের জন্ম হোক, যাতে কুল পবিত্র হয় ও জননী কৃতার্থ হন, মেঘনাদ সেই প্রত্যাশার বেশি পূরণ করেছেন, তিনি মুখ উজ্জ্বল করেছেন, দেশ জননীকে কৃতার্থ করেছেন।রথীন্দ্রনাথ সাহা বিগত শতকে এ দেশে যে কয়জন বিজ্ঞানী আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানচর্চার মানচিত্রে স্থান উজ্জ্বল করেছিলেন মেঘনাদ সাহা তাদের মধ্যে অন্যতম। শুধু অন্যতম নন বরং অনন্য। তার কারণ তিনি বিজ্ঞানচর্চার মধ্যেই তার কর্মজীবন সীমিত রাখেননি।
তিনি বিজ্ঞানকে সামাজিক উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে প্রয়োগ করে সমাজের সেবায় আত্মনিয়োগ করেছিলেন।
সে সময় বিদেশি শাসনের চাপে দেশ যখন অজ্ঞতা, কুসংস্কার ও দরিদ্রে মৃতপ্রায় সে যুগে ঢাকা জেলার অন্তর্গত (বর্তমান... বিস্তারিত
হুমায়ূন আহমেদ বিচিত্র জীবনের সুরকারযে মানুষটি তার লেখনী ও কাজের মধ্যদিয়ে আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন, স্বাভাবিকভাবেই তার মৃত্যু সেদিন কাঁদিয়েছিল স্বজনদের পাশাপাশি লাখো পাঠককে। সেদিন যেন নিস্তরঙ্গ হয়ে পড়েছিল চারপাশ। গণমাধ্যমের প্রধান খবর হয়েছিল তার মৃত্যুর সংবাদ।মাহমুদ শরীফ 'হুমায়ূন আহমেদ' একজন কিংবদন্তি লেখকের নাম। যার উপন্যাসে সৃষ্টি চরিত্রকে অনুসরণ করেও বাস্তবেই কেউ কেউ দলবেঁধে কিংবা একা একা ঘুরে বেড়ায় পথে-প্রান্তরে। তার বই পড়তে পড়তে হয়তো কেউ প্রবল উন্মাদনায় বলে ওঠে_ ইস! যদি হিমু হতে পারতাম! হয়তো কেউ কেউ নিজেকে হিমুই ভাবে। হুমায়ূন আহমেদ সেই নাট্যকার কিংবা কথকের এক উদাহরণ_ যার নাটক 'কোথাও কেউ নেই' এর পরিণতি কী হতে পারে এ আশঙ্কায় রাজপথে মিছিল... বিস্তারিত
বিপ্লবী বিনোদ বিহারী চৌধুরীবিপ্লবের মহানায়ক মাস্টারদা সূর্যসেনকে গুরু হিসেবে মান্য করতেন চিরঞ্জীব বিপ্লবী বিনোদ বিহারী চৌধুরী আর মহাত্মা গান্ধীকে শ্রদ্ধা করতেন নেতা হিসেবে। শুধু শ্রদ্ধা নয়, মহাত্মার আদর্শ ও দর্শনে তিনি আজীবন পথ চলেছেন, স্বৈরাচার-সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াই করেছেন। ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠায় অন্যায়, অসত্য ও অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন। তার দৃঢ়চেতা মনোভাব, মজ্জাগত মানবিক শ্রেয়বোধ, অসাধারণ স্মৃতিশক্তি, উচ্চ নৈতিক আদর্শসমৃদ্ধ বাগ্মিতা, অসীম সাহসিকতা ও কর্তব্যকর্মের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা তাকে সবার কাছে অনুকরণীয়, অনুসরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করে।রানা দাশগুপ্ত ত্রিশের দশকের বিপ্লবীদের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের শেষ যোগসূত্র ছিলেন বিনোদ বিহারী চৌধুরী। ১০৩ বছর বয়সে তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শুধু যে সেই যোগসূত্র চিরকালের জন্য ছিন্ন হলো তা নয়, ত্রিকালদর্শী এক মহান বিপ্লবীকেও হারাল এপার-ওপার বাংলার দেশপ্রেমিক মানুষ। মৃত্যুর আগে সম্মানিত হয়েছিলেন তার স্বদেশভূমি বাংলাদেশে আর ভারতে বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেমনিভাবে তাকে ভূষিত করেছিলেন স্বাধীনতা পদকে, অন্যদিকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রথীন্দ্র নারায়ণ... বিস্তারিত
সুন্দরবনের কিংবদন্তি শিকারি পচাব্দী গাজীপচাব্দী গাজী ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত বিনম্র স্বভাবের। বিস্ময়ের কথা হলো পচাব্দী শিকারে গেলে বাঘের হাতে প্রাণ হারাবে। তার পিতা স্বপ্নে তাকে বলে। তার পিতা, পিতামহ ও পিতৃব্য সবাই মৃত্যুর আগে অনুরূপ স্বপ্ন দেখেছিলেন কিন্তু বিশ্বাস করেননি। তাই সবারই বাঘের হাতে মৃত্যু হয়েছে। তাই পচাব্দী গাজী তার ভাগ্য আর পরীক্ষা করতে চাননি।এ কে আজাদ সুন্দরবন! নামটা শুনতেই কেমন জানি মনের মধ্যে রোমাঞ্চ জাগে। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের বঙ্গোপসাগরের তীর ঘেঁষে সুন্দরী-কেওড়া-গেওয়া-গরান ও অন্য বৃক্ষাদির দ্বারা পরিপূর্ণ লবণ পানিবাহিত যে বনটি বাংলাদেশের ঐতিহ্য বহন করে আছে, তার নাম সুন্দরবন।
বঙ্গোপসাগরের তীর ঘেঁষে অবস্থিত সুন্দরবনের সঙ্গে গাজীকালু, চম্পাবতী, বনবিবি, বানর, বাঘ, কুমীর, বনমোরগ, বাওয়ালী, বাদা ইত্যাদি বহু কিংবদন্তি হয়ে এখনো বিশ্বের কাছে প্রধান ম্যানগ্রোভ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে আছে।
এই বন... বিস্তারিত
ভিন্ন ধারার আধুনিক গদ্যশিল্পী রশীদ করীমমলয় ভৌমিক বাংলাদেশের উপন্যাসের আধুনিক নির্মাণশৈলীর অন্যতম পথিকৃত রশীদ করীম। এ দেশের উপন্যাসে নতুন দ্যুতি ছড়িয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতা পূরণের মাধ্যমে পাঠকের চিন্তার জগৎকে সমৃদ্ধ করেছেন প্রথমসারির তিনজন ঔপন্যাসিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ, শওকত ওসমান এবং রশীদ করীম। বাংলাদেশ পূর্বকালে এ তিন কথাশিল্পী বিশুদ্ধ সাহিত্যরুচি তৈরির ক্ষেত্রে এক অনন্য ভূমিকা পালন করেছেন। বাংলা উপন্যাসের ইতিহাস প্রায় ২০০ বছরের হলেও আধুনিক উপন্যাসের বয়স খুব বেশি নয়। আধুনিক মনস্ক নাগরিক জীবনবোধের পরিচয়... বিস্তারিত
বশির আহমেদ সঙ্গীতাঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রশিল্পীদের মূল্যায়নেও স্পষ্ট হয় যে, বশির আহমেদ কত বড় মাপের শিল্পী ছিলেন। এটা অস্বীকারের উপায় নেই যে, শ্রোতা যাকে হৃদয়ের মধ্যমণি বানায় তাকে কেউ ফেলে দিতে পারে না। শিল্পী বশির আহমেদের স্থান অসংখ্য ভক্তের হৃদয়ে। সঙ্গীতের প্রতি যে প্রগাঢ় মমতা আর ভালোবাসার দৃষ্টান্ত তিনি রেখে গেছেন, সেই ধারাবাহিকতায় নতুন প্রজন্মও সময়ের হাত ধরে উদীপ্ত হবে।হাসান মাহমুদ জীবনের পথ পাড়ি দিয়ে শিল্পী বশির আহমেদ গত ১৯ এপ্রিল চলে গেলেন না ফেরার দেশে। এই সত্য অনেক বেদনার, মেনে নেওয়া কঠিন। বাংলা সঙ্গীতাঙ্গনে তিনি ছিলেন উজ্জ্বলতম একটি নক্ষত্রের নাম। 'আমাকে পোড়াতে যদি এত লাগে ভালো' 'যারে যাবি যদি যা', 'আমি সাত সাগর পাড়ি দিয়ে'সহ অগণিত কালজয়ী গানের শিল্পী বশির আহমেদ। তিনি চলে গেছেন এটা যেমন সত্য, অনুরূপ সত্য যে, গানের মূর্ছনায় অসংখ্য ভক্ত-শ্রোতার হদয়... বিস্তারিত
মুহম্মদ জাফর ইকবাল সৃজনশীল কল্পলেখকবাঙালি জাতিকে গল্পের মাধ্যমে বিজ্ঞানমনস্ক করে তুলতে জাফর ইকবালের অবদান অনস্বীকার্য। এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের বিজ্ঞানমনস্ক দৃষ্টিভঙ্গির পাশাপাশি দেশপ্রেমিক, ইতিহাসসচেতন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জ্বল মানুষ তৈরি করার ক্ষেত্রেও এ ব্যক্তিত্বের অবদান আজ সর্বজনবিদিত।মাসুদ আহমদ মুহম্মদ জাফর ইকবাল একাধারে লেখক, পদার্থবিদ ও শিক্ষাবিদ। তিনি বাংলাদেশে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখা ও জনপ্রিয়করণের পথিকৃৎ। এ ছাড়াও তিনি শিশুসাহিত্যিক এবং কলাম লেখক। তিনি বাংলাদেশের কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে লেখক হিসেবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে। তার লেখা বেশ কয়েকটি উপন্যাস চলচ্চিত্রেও রূপায়িত হয়েছে। মুহম্মদ জাফর ইকবাল ১৯৫২ সালের ২৩ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন সিলেটে। তার পিতা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ফয়জুর রহমান আহমদ এবং মা আয়েশা আখতার খাতুন। জাফর ইকবালের গ্রামের... বিস্তারিত
চার দশকে নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নস্বাধীন দেশের নারীসমাজ তাদের অগ্রগতির জন্য রীতিমতো গর্ব করতে পারে। সত্যি যে, অনেক কিছুই এখনো আমাদের অধরা এবং অ-পাওয়া আছে। সেসব প্রাপ্তির জন্য বিলাপ না করে আরো কঠোর শ্রম দিতে হবে। যৌতুক নিরোধ, নারী নির্যাতন এবং বাল্যবিয়ে রোধে এখন সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন জোরদার হচ্ছে নারীদের ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততায়। তারপরও অাঁধার দেখা যায় যেসব কারণে, সেগুলো নির্মূল করতে হবে বুদ্ধি, যুক্তি, বিবেচনা, ধৈর্য ও বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর প্রতি আন্তরিক কল্যাণকর কাজের মাধ্যমে।বেগম জাহান আরা দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ মানবজাতিকে এক অপরিমেয় ধ্বংস ও সংঘর্ষের বিভীষিকায় ঢেকে দিয়েছিল। বিপন্ন ভীত-বিধ্বস্ত মানবজাতির সার্বিক অকল্যাণ রোধে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল জাতিসংঘ। ১৯৪৫ সালের অক্টোবরে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত হয় কয়েকটি সনদ। তার মধ্যে বিশ্বমানের শান্তি-নিরাপত্তা এবং উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ছিল শীর্ষে। ফলে মানুষের মৌলিক স্বাধীনতার দাবির প্রতি সমর্থন দেয়া সংস্থাটির অন্যতম প্রধান আদর্শ এবং কর্ম বলে স্বীকৃত হলো। আর জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছারিত হলো নারীর... বিস্তারিত
সুফিয়া কামাল জীবনালেখ্য ও তার দৃষ্টিভঙ্গিসুফিয়া কামাল নারীর সামাজিক শৃঙ্খল ভেঙে মুক্তির দিগন্ত উন্মোচন করার জন্য নিবেদিত ছিলেন। নারীর সামগ্রিক মুক্তির জন্য তার ভূমিকা ছিল সমসময়ের জন্য উদ্দীপনামূলক ও আগ্রহোদ্দীপক। সে কারণে তার অনুভব এমন- 'আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লাগে এই দেখে যে, মেয়েরা আগের তুলনায় এখন অনেক সাহসী হয়েছে। মেয়েরা এখন রাস্তায় বেরিয়ে অন্তত নিজেদের কথা বলতে শিখেছে। আমরা চেয়েছিলাম, মেয়েরা কথা বলতে শিখুক, সাহসী হয়ে উঠুক, নিজেদের অধিকার তারা বুঝতে পারুক। এটা এখন হয়েছে। এটা বড় আনন্দের।'গোলাম কিবরিয়া পিনু ১৯১১ সালের ২০ জুন (১০ আষাঢ়, ১৩২৮) বরিশালের শায়েস্তাবাদ নবাব পরিবারে সুফিয়া কামালের জন্ম। ডাকনাম ছিল হাসনা বানু। নানী রেখেছিলেন এই নাম আরব্য উপন্যাসের হাতেম তাইয়ের কাহিনী শুনে। সুফিয়া খাতুন নাম রেখেছিল দরবেশ নানা। তিনিই পরবর্তী কালে সুফিয়া কামাল। 'একালে আমাদের কাল' শীর্ষক লেখায় সুফিয়া কামাল তার জন্ম প্রসঙ্গে বলেছেন এভাবে- 'মাটিকে বাদ দিয়ে ফুল গাছের যেমন কোনো অস্তিত্ব নেই আমার মাকে বাদ দিয়ে আমারও... বিস্তারিত
বিবি রাসেল আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফ্যাশন মডেল ও ডিজাইনারবিশ্বসেরা সেলিব্রিটি ডিজাইনার স্টেলা ম্যাকার্থি, ভিভিয়েন ওয়েস্টউড এবং সাফিয়া মিনি্নর মতো খ্যাতিমান ফ্যাশন ডিজাইনারের নামের সঙ্গে উঠে আসে তার নাম। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাংলাদেশি এই ফ্যাশন মডেল এবং ডিজাইনার কাজের স্বীকৃতি হিসেবে জাতিসংঘের শান্তি পুরস্কার এবং স্বাধীনতা পদকসহ দেশি-বিদেশি অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন। বহির্বিশ্বে বিবি রাসেলকে উপস্থাপন করা হয় একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাংলাদেশি ফ্যাশন মডেল এবং ডিজাইনার হিসেবে। বাংলাদেশ যে বিবি রাসেলকে নিয়ে গর্বিত, এ কথা জোর দিয়ে বলা যায়।লাবণ্য তাপস আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাংলাদেশি ফ্যাশন মডেল এবং ডিজাইনার বিবি রাসেল। শিল্প ও নকশার মধ্য দিয়ে বাংলার ঐতিহ্য সংরক্ষণ, বৈচিত্র্য আর সৃজনশীলতার প্রসার ঘটানো যার নেশা ও শখ। গ্রামের মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ও নারী শক্তিকে জাগিয়ে তোলার চিন্তা-চেতনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে দারিদ্র্যবিমোচনের লক্ষ্যে যার অক্লান্ত ছুটে চলা, সেই 'আইকনের' নামই বিবি রাসেল। ফ্যাশন সচেতন মানুষের কাছে বিবি রাসেল নামটি অধিক পরিচিত। অনেকের কাছেই তিনি আবার 'বিবি আপা'।... বিস্তারিত
বীর প্রসবিনী জননী জাহানারা ইমামআমরা যথার্থই আশা করতে পারি, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তি, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ_ এসব পদক্ষেপ বর্তমানের ক্ষমতাসীন সরকার নিতেই পারে। কারণ, এরা তো মনে-প্রাণে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বৃহত্তম দল, নেতৃত্বের আধারে প্রতিষ্ঠিত। আজকের প্রধানমন্ত্রী ও সেদিনের বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা শহীদজননী জাহানারা ইমামের পাশে বেগম সুফিয়া কামালকে নিয়ে নরখাদক গোলাম আযমসহ ঘাতক-দালালদের বিচার ও ফাঁসির দাবিতে অনুষ্ঠিত মহাসমাবেশে উপস্থিত থেকে সেই কণ্ঠই সোচ্চার করেছিলেন।কামাল লোহানী যতদিন আমরা এ দেশকে জামায়াত-শিবির, রাজাকার-আলবদর, আলশামস, ঘাতক-দালালদের ঘৃণ্য চক্রান্তের রাহু থেকে মুক্ত না করতে পারব, ততদিন লাখো শহীদের অমূল্য প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এ স্বাধীনতা কণ্টকমুক্ত হবে না। তাই শহীদজননীর সূচিত গণআন্দোলন বাংলার মানুষের প্রাণে যে স্পন্দন সৃষ্টি করেছিল, তাকে আজ আবার জাগ্রত করতে হবে। করতে হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সৎ ও দেশপ্রেমিক জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে। গণঐক্যের দুর্ভেদ্য দুর্গ গড়ে তুলতে হবে আমাদের। তবেই... বিস্তারিত
সম্পাদক নূরজাহান বেগমবর্তমানে মেয়েদের জন্য আলাদা পত্রিকা ও পত্রিকার পাতায় আলাদা সাময়িকী প্রকাশের প্রয়োজন আছে। কারণ শিক্ষার দিক থেকে মেয়েরা এখনো পুরুষের তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছে। কর্মক্ষেত্রে তারা আজও পুরুষের সমকক্ষতা অর্জন করতে পারেনি। সামাজিক দিক দিয়েও মহিলাসমাজ পিছিয়ে। তাই যতদিন পর্যন্ত মেয়েরা সব দিক থেকে পুরুষের সমকক্ষতা অর্জন করতে না পারবে, ততদিন তাদের জন্য দৈনিক পত্রিকায় মহিলা বিভাগ বা মহিলা সাময়িকী প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা থাকবে।হুসনা খাতুন সাপ্তাহিক 'বেগম' পত্রিকার সম্পাদিকা নূরজাহান বেগম, বাংলাদেশের সাংবাদিকতা জগতে একটি বিশিষ্ট নাম। ১৯৪৭ সাল থেকে আজ পর্যন্ত সুদীর্ঘ সময় তিনি বেগম পত্রিকার মাধ্যমে এক বিরাট সামাজিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সাহিত্যজগতের কিংবদন্তি পুরুষ সওগাত সম্পাদক নাসিরউদ্দিনের তিনি একমাত্র সন্তান।
নূরজাহান বেগমের জন্ম ১৩৩১ (১৯২৫) সালে চাঁদপুর শহরের অন্তর্গত চালিতা গ্রামে। তার বাবা মুহাম্মদ নাসিরউদ্দিন পত্রিকা সম্পাদনা ও পরিচালনার জন্য কলকাতায় থাকতেন। মায়ের সঙ্গে দেশের... বিস্তারিত
হাসিমুখের সেই কবরীপ্রেমের ছবিতে রাজ্জাক-কবরী জুটি তো সর্বকালের সেরা। রাজ্জাক-কবরী জুটির 'আবির্ভাব', 'বাঁশরী', 'ময়নামতি', 'নীল আকাশের নিচে', 'আগন্তুক', 'অাঁকাবাঁকা', 'কত যে মিনতি', 'অধিকার', 'দীপ নিভে নাই', 'যে আগুনে পুড়ি', 'দর্পচূর্ণ', 'স্মৃতিটুকু থাক', 'রংবাজ', 'বেঈমান', 'অবাক পৃথিবী', 'কাচকাটা হীরে', 'উপহার' থেকে শুরু করে সর্বশেষ 'আমাদের সন্তান' পর্যন্ত ছবির কথা সিনেমাপ্রেমী দর্শকরা ভুলতে পারেননি।শোভন জামালী চলচ্চিত্রের মিষ্টি মেয়ে খ্যাত কবরী স্পর্শ করলেন অভিনয় জীবনের ৫০ বছরের মাইলফলক। ১৯৬৪ থেকে ২০১৪। পুরো ৫০ বছর। কবরী আজও মিষ্টি মেয়ে। পাশের বাড়ির মেয়েটির মতোই সি্নগ্ধ-নির্মল। চট্টগ্রামের মেয়ে কবরী। কিশোরী বয়সে সিনেমায় এসে দিনে দিনে হয়ে উঠেছেন পরিণত শিল্পী। একসময় হয়ে ওঠেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। সব ধরনের ছবিতেই অভিনয় করে নিজের প্রতিভাকে বিকশিত করতে থাকেন। যদিও গ্রামীণ চরিত্রে কবরী নিজেকে একজন অপ্রতিদ্বন্দ্বী শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।... বিস্তারিত
নীলিমা ইব্রাহিমনীলিমা ইব্রাহিম শিক্ষাজীবনেই সাহিত্যের প্রতি আকৃষ্ট হন। পরবর্তী জীবনে সাহিত্যকর্মে গভীরভাবে মনোনিবেশ করেন। প্রবন্ধ-গবেষণা, ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক, অনুবাদ, ভ্রমণকাহিনী ও আত্মকথা_ প্রতিটি ক্ষেত্রেই কম-বেশি সার্থকতা লাভ করেন। পিএইচডি অভিসন্দর্ভ ছাড়াও তিনি শরৎচন্দ্র, মাইকেল, মধুসূদন, বেগম রোকেয়া, বাংলা নাটক ও অন্যান্য বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেন। তার পাঁচটি উপন্যাস, চারটি নাটক ও ছোটগল্পের একটা সংকলন প্রকাশিত হয়। উপরোক্ত গ্রন্থগুলোয় নীলিমা ইব্রাহিমের ব্যক্তিমানসের স্বরূপ উপলব্ধি করা যায়।আবুল কালাম মনজুর মোরশেদ নীলিমা ইব্রাহিমের জন্ম ১৯২১ খ্রিস্টাব্দের ১১ অক্টোবর বাগেরহাটের মুলঘর গ্রামে। বিয়ের আগে তার নাম ছিল নীলিমা রায়চৌধুরী। তার পিতৃকুল আভিজাত্য ও অর্থনৈতিক দিক থেকে ছিল সমৃদ্ধ একটি বংশ। এ পরিবারে ব্রিটিশবিরোধিতা ও স্বাদেশিক আন্দোলনের যে প্রভাব ছিল নীলিমা রায়চৌধুরীও তা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি। পরিবারে রাজনীতি, অর্থনীতি, সাহিত্য চর্চার প্রভাব ধারণ করে নিজের জীবন গঠনে অগ্রসর হয়েছিলেন।
শৈশব জীবনে নীলিমা ইব্রাহিম ছিলেন অত্যন্ত দুরন্ত... বিস্তারিত
জনপ্রিয় ধারার লেখক রোমেনা আফাজরোমেনার শিক্ষাজীবন শুরু হয় বর্ধমান জেলার ধানবাগে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় তিনি বেশি দূর এগোতে পারেননি। স্কুল-কলেজের লেখাপড়ার দিকে বেশি অগ্রসর না হতে পারলেও সাহিত্য রচনায় তিনি বিরল প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। লেখা ছিল তার কাছে একটা নেশা।সেলিমা চৌধুরী রোমেনা আফাজ মহিলাদের সাহিত্যচর্চার ভুবনে রহস্য সিরিজ লেখার একচ্ছত্র সম্রাজ্ঞী এবং বাংলা উপন্যাসে একটি উল্লেখযোগ্য নাম। রচনা প্রাচুর্যে ও জনপ্রিয়তার দিক থেকে তিনি সত্যই একটি বিশেষ আসনের অধিকারী। বিশেষ করে এ দেশের কিশোর ও যুবক সবাই তার লেখার একনিষ্ঠ ভক্ত।
১৯২৬ সালে (১৩৩২ বাংলা) বগুড়ার শেরপুরে রোমেনা আফাজের জন্ম। তার বাবা কাজেমুদ্দীন একজন পুলিশ ইন্সপেক্টর ছিলেন। বাবার চাকরির সুবাদে তিনি বাবার সঙ্গে অখ- ভারতের... বিস্তারিত
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লাপ্রাপ্তি, অপ্রাপ্তি এ দুইয়ের পাল্লাটায় দেখা যায় তার জীবনে প্রাপ্তিটাই বেশি। এমনকি তিনি নিজেও তাই মনে করেন। শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিদেশেও অনেক সম্মান ও ভালোবাসা পেয়েছেন। যা শুধু তাকে নয়, তার অর্জনের মধ্য দিয়ে এই দেশকেও তিনি উঁচু স্থানে আসীন করেছেন পৃথিবীর মানচিত্রে। আর এত সম্মান তিনি পেয়েছেন যে, এটা নাকি তার কাছেও ছিল অকল্পনীয়।সুনন্দা আজাদ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা। ১৯৬৪ সালে পাকিস্তানি ছবি 'জুগনু' দিয়ে শুরু। তখন তার বয়স মাত্র সাড়ে ১২ বছর। এরপর বাংলা, হিন্দি, উর্দু, ইংরেজিসহ ১৮টি ভাষায় গান গেয়েছেন তিনি। এ পর্যন্ত গানের সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি। স্বীকৃতি হিসেবে মিলেছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
তিনি ঘরে একেবারেই সাধারণভাবে থাকেন। সালোয়ার-কামিজ আর ম্যাক্সিই পরেন বেশি। জায়গা এবং অনুষ্ঠানের ধরনের ওপর মূলত তার পোশাক নির্বাচন নির্ভর করে।... বিস্তারিত
জেব-উন-নেসা জামালজেব-উন-নেসা জামাল আর পাঁচজন গীতিকারের মতো কেবল নির্ধারিত নিয়ম-কানুন মেনে পদ্য রচনা করেই শেষ করেননি। তার গানে পরিচ্ছন্ন রুচির পরিচয় মেলে। কখনো একান্ত ব্যক্তিগত ভাবনাকে তিনি ঋজু ভঙ্গিতে উপস্থিত করেছেন, আবার কখনো ঝুঁকে পড়েছেন শব্দ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার দিকে। তার গানগুলোর মধ্যে গীতিকারের আন্তরিকতা ও দক্ষতার সমন্বয় ঘটেছে অনায়াসে।আলতাফ হোসেন জেব-উন-নেসা জামাল বাংলাদেশের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গীতিকার হিসেবে পরিচিত। ১৩৩২ বাংলা (১৯২৬) সালে রাজশাহী জেলায় নানাবাড়িতে তার জন্ম। তিনি বগুড়ার এক শিক্ষিত ও সংস্কৃতবার পরিবারের মেয়ে। বাবা মরহুম ডা. কসির উদ্দীন। শিক্ষানুরাগী, সঙ্গীতানুরাগী, অতিথিবৎসল, ন্যায়পরায়ণ চিকিৎসক কসির উদ্দীনের ডাক্তার হিসেবে সুনাম ছিল। তিনি ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে সশস্ত্র হানাদার বাহিনীকে প্রতিহত করতে গিয়ে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার ভার তুলে নিয়েছিলেন বলে তাকে জীবন দিতে... বিস্তারিত
দাবাড়ু রানী হামিদআমাদের দেশে আজও নারীরা বৈষম্যের শিকার। সুস্থ পরিবেশ সৃষ্টি হলে এ বৈষম্য থাকবে না। তবে বর্তমানে মেয়েরা আগের চেয়ে অনেক এগিয়ে এসেছে। রানী হামিদ যে উদ্যম নিয়ে ও সামাজিক বাধা-বিঘ্ন অতিক্রম করে খেলার পথ প্রশস্ত করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করেছেন তা স্বাভাবিকভাবেই এ দেশের ভবিষ্যৎ মহিলা দাবা ক্রীড়াবিদদের অনুপ্রাণিত করবে।হেলেনা চৌধুরী দাবা একটি চিন্তার খেলা। তাই এ খেলা খেলাধুলার মধ্যে বিশিষ্টতার দাবি রাখে। স্বাধীনতার পর হাঁটি হাঁটি পা পা করে যে মহিলা ক্রীড়াবিদ দাবা খেলাকে ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন তিনি হলেন রানী হামিদ। তারই পথ ধরে এগিয়ে এসেছেন আরো অনেক মহিলা খেলোয়াড়। প্রতিযোগিতামূলক দাবায় অংশগ্রহণকারী বাঙালি মেয়েদের সংখ্যা বাড়লেও সফল দাবাড়ু মনে হয় রানী হামিদই। বিভিন্ন... বিস্তারিত
কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক লায়লা সামাদপ্রগতিশীল চিন্তা-চেতনায় সচেতন লায়লা সামাদ সমাজকল্যাণমূলক কাজেও জড়িত ছিলেন। কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ছাড়াও তিনি ঢাকা লেডিস ক্লাবের সম্পাদিকা, মহিলা পরিষদ ও কর্মজীবী মহিলা ক্লাবের সহসভানেত্রী, জোন্টা ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ, বাংলাদেশ সোভিয়েত মৈত্রী সমিতি এবং আফ্রো এশীয় লেখক সংঘের সদস্য ছিলেন।নাজমুল হাসান এ দেশের সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে যে কয়েকজন নারী অগ্রপথিকের ভূমিকা পালন করে গেছেন তাদের মধ্যে লায়লা সামাদ ছিলেন অন্যতম। ত্রিশ-চলি্লশ দশকের পটভূমিকায় একজন নারীর সাংবাদিকতা পেশায় আগমন নিঃসন্দেহে সাহসী ব্যাপার ছিল। তিনি একাধারে কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিককর্মী, নাট্যকার, সমাজসেবী ছিলেন।
সাংবাদিক লায়লা সামাদের জন্ম ১৩৩৪ (১৯২৮) সালে কলকাতায়। পিতা খান বাহাদুর আমিনুল হক ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মচারী। মা তহমীনা খাতুন ছিলেন শের শাহের প্রধান... বিস্তারিত
সাহিত্যিক মাফরুহা চৌধুরীতবে একথা সত্যি যে, স্বাধীনতার পর আমরা উল্লেখযোগ্য যা অর্জন করেছি তা হচ্ছে উন্নয়ন কর্মকা-ে নারীর অংশগ্রহণ। এর ফলে নারীর প্রতি পুরুষ এখন আগের চেয়ে অনেক সচেতন, অনেক বেশি সহানুভূতিশীল, আন্তরিক হয়েছেন। সবাই উপলব্ধি করতে শুরু করছেন যে, নারীর সহযোগিতার সুফল পরিবার তথা সমাজের মঙ্গল বয়ে আনবে। তবুও সমঅধিকার না পাওয়া পর্যন্ত নারী আন্দোলন অব্যাহত রাখতেই হবে।মেরীনা চৌধুরী মাফরুহা চৌধুরী এ দেশে সাহিত্যিক হিসেবে, বিশেষ করে ছোটগল্পের লেখিকারূপে পরিচিত। কিন্তু তার পরিচয় শুধু লেখিকা হিসেবে নয়, সমাজে তার ভূমিকা একজন সাংবাদিক হিসেবে আরো বেশি সুপ্রতিষ্ঠিত। দীর্ঘদিন তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
পঞ্চাশ দশকের কথা। সে সময় স্কুল, কলেজ এবং হাসপাতালের নার্সিং, এ দুই ক্ষেত্রেই ছিল মেয়েদের চাকরি সীমাবদ্ধ। সংবাদপত্রে কাজ করা ছিল বিরল ঘটনা। এ কাজে মেযেরা কেউ আসত না। এখানে মূল... বিস্তারিত
বাংলা গানের অহঙ্কার সাবিনা ইয়াসমীনসাবিনা ইয়াসমীন; যিনি অসংখ্য কালজয়ী বাংলা গানের শিল্পী। তার কণ্ঠে অডিও, চলচ্চিত্র কিংবা রেডিওতে প্রচারিত অনেক গানই বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। একটা সময় ছিল চলচ্চিত্রের গান মানেই, সাবিনা ইয়াসমীন ও রুনা লায়লার গান। ১৯৬৭ সালে 'আগুন নিয়ে খেলা' চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে প্লেব্যাকের রাজ্যে পা রাখেন সাবিনা। শহীদ আলতাফ মাহমুদের সুর-সঙ্গীতে এ ছবিতে তিনি গেয়েছিলেন 'মধু জোছনার দীপালি' গানটি।শিমুল আহমেদ দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে গানের ভুবনে তার রাজত্ব। অসংখ্য জনপ্রিয় গানের শিল্পী হিসেবে সবখানেই তার সুখ্যাতি। বাংলা গানের শ্রোতারা তাকে 'গানের পাখি' হিসেবেই চেনেন। তার কণ্ঠে 'জন্ম আমার ধন্য হলো', 'সে যে কেন এলো না', 'সেই রেললাইনের ধারে', 'সব ক'টা জানালা খুলে দাও না', 'এই পৃথিবীর পরে', 'সুন্দর সুবর্ণ তারুণ্য লাবণ্য', 'চিঠি দিও প্রতিদিন', 'একটি বাংলাদেশ তুমি', 'এই মন তোমাকে দিলাম', 'আমি রজনীগন্ধা... বিস্তারিত
আমাদের সুবর্ণা মুস্তাফাআবৃত্তি, মঞ্চ, চলচ্চিত্র ও টিভি নাটকে সুবর্ণা মুস্তাফা প্রায় চার দশক ধরে কাজ করছেন। বেশকিছু মানসম্মত বাংলা চলচ্চিত্রেও তিনি অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। নানা কারণে চলচ্চিত্রে তিনি বেশি সময় দেননি। মঞ্চে তিনি দাপটের সঙ্গে থাকলেও সেখানে তার দর্শক ছিল সীমিত। ফলে টিভি নাটকের মাধ্যমেই তিনি এ দেশের মানুষের মনে চিরস্থায়ী আসন করে নিয়েছেন।আশরাফ হোসেন ক্লাস নাইনে পড়ার সময়ই সুবর্ণা মুস্তাফা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অভিনয়ে ক্যারিয়ার গড়বেন। আর এ স্বপ্ন দেখাটা হয়েছিল একমাত্র মায়ের অনুপ্রেরণাতেই। ১৯৬০ সালের ২ ডিসেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন সুবর্ণা মুস্তাফা। বাবা গোলাম মুস্তাফা ছিলেন টিভি নাটক ও চলচ্চিত্রের শক্তিমান অভিনেতা। আবৃত্তিকার হিসেবেও তার খ্যাতি ছিল দেশজুড়ে। মা হোসনে আরাও ছিলেন ভালো অভিনেত্রী, নাট্যকার ও রেডিও প্রযোজক। সুনিপুণ সাংস্কৃতিক পরিবেশের ভেতরই সুবর্ণা মুস্তাফা বেড়ে উঠেছেন। ভিকারুনন্নেসা নূন স্কুল... বিস্তারিত
অসামান্য সঙ্গীত প্রতিভা লায়লা আর্জুমান্দ বানুসঙ্গীতশিল্পী আমাদের দেশে আরো অনেকেই আছেন। অনেকেই ভালো গান করেন। কিন্তু লায়লা আর্জুমান্দ বানুর মতো শ্রোতাদের সুরের মোহজালে এমন বন্দি করার ঐন্দ্রজালিক ক্ষমতা আর কারো আছে বলে আমার জানা নেই।সাঈদা আখতার অসামান্য ও বিরল প্রতিভার অধিকারী এই লায়লা আর্জুমান্দ বানু আর নেই। উপমহাদেশের অবিস্মরণীয় এই সঙ্গীত প্রতিভা ২৮ মাঘ ১৪০১/১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৫ সালে মাত্র ৬৫ বছর বয়সে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তার অপূর্ব জাদুকরী কণ্ঠের অপরূপ সুরের দোলা আমাদের আর আপ্লুত করবে না। তার এই আকস্মিক তিরোধানে আমাদের সঙ্গীত জগতে যে শূন্যতার সৃষ্টি হলো তা পূরণ হওয়ার নয়।
পঞ্চাশ দশকে ঢাকা রেডিওতে নবীন সঙ্গীতশিল্পী লায়লা... বিস্তারিত
ববিতাকে খুব মনে পড়ে দর্শকদেররাখী সুলাইমান বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে একসময়ের সাড়াজাগানো নায়িকা ববিতা। শতাধিক ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রাঙ্গনে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন তিনি। ওপার বাংলার সত্যজিৎ রায় থেকে শুরু করে বাংলাদেশের এমন কোনো মেধাবী পরিচালক নেই যার ছবিতে তাকে দেখা যায়নি। তবে এখন চলচ্চিত্রে কাজ করছেন না। ব্যক্তিজীবন নিয়েই যেন তার ছুটে চলা।
একজন নায়িকা হওয়ার সুবাদে জীবনের অনেক কিছুরই প্রাপ্তি ঘটেছে। তবুও মাঝেমধ্যে ববিতা যখন নীরবে একা ভাবেন তখন ডাক্তার... বিস্তারিত
 
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close