পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি সমস্যাক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ই পার্বত্য শান্তিচুক্তি করা সম্ভব হয়েছিল। সুতরাং পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি সুরক্ষায় তাদের আগ্রহ ও কর্মকৌশল ইতিবাচক পর্যায়ে রয়েছে সে বিষয়ে দ্বিমত করব না। তবে এ সমস্যা দ্রুত গ্রহণযোগ্য উপায়ে সমাধান হোক এটাই সবার প্রত্যাশা।লুৎফর রহমান গত ৪ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ের পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এক সম্মেলনে পার্বত্য সমস্যার যে বিষয়গুলো এখনো বাস্তবায়িত হয়নি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা আশু বাস্তবায়নে তাগিদ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, পার্বত্য শান্তি চুক্তির মোট ৭২টি ধারার ৪৮টি বাস্তবায়ন হয়েছে। ১৫টির আংশিক এবং বাকি ১১টি ধারার বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে। পার্বত্য চুক্তির যে ধারাগুলোর কাজ এখনো চলছে তার মধ্যে সেখানকার ভূমি সমস্যা একটি অন্যতম ধারা। অন্য যে ধারাগুলো সরকার সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করেছে এবং যেগুলোর আংশিক বাস্তবায়ন হয়েছে সেগুলোর বাইরে এই ভূমি সমস্যাকে পার্বত্য অঞ্চলের একটি অন্যতম বড় ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি সমস্যা নানা কারণে বর্তমানে জটিল পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। সেগুলোর বিস্তারিত আলোচনা আজকের নিবন্ধের অংশ। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিভিন্ন কারণে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যম-িত। জনসংখ্যার বৈচিত্র্য, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ভৌগোলিক অবস্থান, ভূমির গঠন এর স্বরূপকে আলাদা করে তুলে ধরেছে। ২০১৩ সালের সর্বশেষ হিসাব অনুয়ায়ী, পার্বত্য অঞ্চলে মোট জনসংখ্যা ১৬, ৯৮, ২৯১ জন। বাঙালি ছাড়া এ অঞ্চলে ১৩টি জাতিগোষ্ঠীর বসবাস। এদের মধ্যে চাকমা, মারমা, খিয়াং, চক, লুসাই অন্যতম। পার্বত্য চট্টগ্রামে মোট জনসংখ্যার মধ্যে বাঙালি ৪৭%, চাকমা ২৬%, মারমা ১২% এবং বাকি ১৫% অন্যান্য বিভিন্ন পাহাড়ি জনগোষ্ঠী। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ভূমি সমস্যার ভেতরের বিষয় বোধগম্য করতে হলে এইসব জাতিগোষ্ঠীর স্বাতন্ত্র্য ইতিহাস অবশ্যপাঠ্য। কারণ পাহাড়ি জনগণের ভূমিসমস্যা একদিনের বা কয়েক মাসের সৃষ্ট কোনো সমস্যা নয়। বর্তমান চট্টগ্রাম বা ১৬ শতকের চাটগাঁওয়ে বঙ্গোপসাগরের পথ ধরে প্রথম পর্তুগিজদের আগমন ঘটে। পর্তুগিজরা আরাকান রাজাকে বিশেষ সুবিধা দেয়ার মাধ্যমে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ব্যবসা করার সুযোগ পায়। মূলত এই সুযোগটা ছিল ব্যবসার বিনিময়ে কর আদায়। কিন্তু পর্তুগিজদের আরাকান রাজ কর্তৃক ব্যবসা অনুমোদন প্রদান শুধু কর বা রাজস্ব আদায় ছিল না। এর পেছনে সামরিক কৌশলগত কারণ ছিল। বিশেষ করে পর্তুগিজদের নৌযান এবং অস্ত্র জ্ঞান ছিল এর পেছনের অন্যতম কারণ। চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলে ১৬০০ সালের পূর্ব থেকে বেশকিছু যাযাবর গোষ্ঠী অস্থায়ীভাবে ঘুরে বেড়াত। তাদের জীবিকা ছিল 'জুম' নামক এক ধরনের চাষাবাদ। ১৬০০ সালের দিকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে কিছুসংখ্যক আসা লোক এ অঞ্চলে স্থায়ীভাবে বর্তমান খাগড়াছড়িতে বসবাস শুরু করে। চাকমাদের বিভিন্ন সাহিত্য, পুরাণকথা থেকে জানা যায়, চাকমাদের আদিবাস ছিল আরাকান রাজ্যেও চাম্পাকনগরে। ১৬৬০ সালের দিকে তারা নাফ নদী অতিক্রম করে এসে চট্টগ্রামের দক্ষিণ অংশ রামুতে বসবাস শুরু করে। ১৬৫৭ সালের দিকে যখন সম্রাট শাহজাহান অসুস্থ তখন তার সন্তানদের মধ্যে সিংহাসন নিয়ে চরম দ্বন্দ্ব শুরু হয়। শাহজাহান পুত্র শাহসুজা তখন বাংলার সুবেদার। সিংহাসন নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্বে সুবেদার শাহ সুজা তার ভাই আওরঙ্গজেবের কাছে পরাজিত হলে তিনি তার পরিবার এবং সৈন্যসহ উখিয়ায় আসেন এবং সেখানেই অবস্থান করেন। এরপর থেকে চাকমারা মোগলদের অধীন আসে। কিন্তু আরাকান রাজ সান্দা কর্তৃক সুজার মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে পরিস্থিতে পাল্টে যায়। শাহ সুজা স্বভাবতই সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং এরই সূত্র ধরে আরাকানদের হাতে শাহসুজা পরিবারসহ নিহত হন। সুজার এই নির্মম হত্যাকা- ফতেহ খান কর্তৃক দিলি্লতে আওরঙ্গজেবের কাছে পেঁৗছালে তিনি প্রচ- ক্ষিপ্ত হন এবং শায়েস্তা খানকে আরাকান আক্রমণের জন্য পাঠান। শায়েস্ত খান তার ছেলে উমেদ খানসহ আরাকান আক্রমণ করেন এবং দখল করেন। পরে চট্টগ্রামের আরো যেসব এলাকা আরাকানদের অধীন ছিল সেইসব অঞ্চলও তার দখলে আনেন। চট্টগ্রাম দখলের পর উমেদ খানকে চট্টগ্রামের নওয়াব মনোনীত করা হয়। চট্টগ্রাম মোঘলদের অধীন আসে মূলত ১৬৫৭ সালের পরে। এর ১৭১০ সালের দিকে বাংলার নবাব কোম্পানি প্রদত্ত বিনিময় সেবার মাধ্যমে বাংলার অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে চট্টগ্রাম অঞ্চলকেও কোম্পানির অধীন দেয়া হয়। ১৭৬৫ সালের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার দেওয়ানি লাভ করলে পূর্বের বিনিময় সেবা বন্ধ হয়ে যায়। কোম্পানি তাদের পছন্দের দুই মোঘল রাজাকে চট্টগ্রামের রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব অর্পণ করে। এর একজন চাকমা রাজা শের দৌলত খান এবং আরাকান থেকে আসা বোমাং রাজা পোয়াং। এই অঞ্চলের মগ এবং খুমি জাতিগোষ্ঠী বোমাং রাজার অধীন ছিল। কোম্পানির নিযুক্ত রাজারা তাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে জনগণের ওপর বেশি পরিমাণে কর ধার্য করে যা এই অঞ্চলের মানুষের বিক্ষুব্ধ করে তোলে। এই সুযোগে বার্মার রাজা বুদ্ধবায়া ১৭৮৪ সালে আরাকান আক্রমণ করে। বার্মিজ রাজা কর্তৃক আক্রমণের ফলে এ অঞ্চলে বিশেষ করে কক্সবাজার অঞ্চলে মারমাদের আগমন বৃদ্ধি পায়। পরে ক্যাপ্টেন কক্স এসব মারমাদের একত্রিত করে কক্সবাজার এলাকায় বসবাসের ব্যবস্থা করেন এবং পরে তার নামানুসারে এই অঞ্চলের নাম হয় কক্সবাজার। আরাকান রাজ্য বার্মিজদের অধীন আসার পর বার্মিজ সৈন্যরা এই এলাকায় ১৭৮৫-১৮০০ পর্যন্ত ব্যাপক হত্যাকা- চালায়। এই সময় অনেক চাকমা নাফ নদী অতিক্রম করে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় গ্রহণ করে। ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহের পর সব ভারতীয় ক্ষমতা কেন্দ্রীয় প্রশাসনের হাতে চলে যায়। এরপর ১৮৬০ একটি আইন প্রণয়ন করে বৃহত্তর চট্টগ্রাম থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামকে আলাদা করা হয়। এর কয়েক বছর পর ১৬৫৮ বর্গমাইল এলাকা নিয়ে রাঙামাটিতে চাকমা সার্কেল, ১৪৪৪ বর্গমাইল নিয়ে বান্দরবানে বোমাঙ সার্কেল এবং ৬৫৩ বর্গমাইল নিয়ে রামগড়ে (খাগড়াছড়ি) মং সার্কেল প্রতিষ্ঠা করা হয়। এভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিভিন্ন সার্কেলে ভাগ করার ফলে ব্রিটিশদের রাজস্ব আদায়ে বেশ সুবিধা হয়। ১৮৫৯ থেকে ১৮৯৯ সাল পর্যন্ত খুকি সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠী বাইরে থেকে আসা বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে নিয়মিতভাবে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এতে অনেকের জীবননাশের ঘটনা ঘটে। এরপর পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সমস্যা প্রশমন করার জন্য ঐরষষ ঞৎধপঃং গধহঁধষ- ১৯০০ নামে একটি আইন জারি করে। এর ফলে সার্কেল প্রধান ওই অঞ্চলের সব রাজস্ব আদায়ের দায়দায়িত্ব লাভ করে। এই রুলের ৩৪ নাম্বার ধারা অনুযায়ী, জমির যে কোনো প্রকার বন্ধক, বিক্রয়, বিনিময়, এজন্য ডিসির অনুমোদনের ক্ষমতা বিধান করা হয়। অর্থাৎ অলিখিতভাবে ডিসি পার্বত্য অঞ্চলের সব ভূমির মালিকানা রাখা হয়। ডিক্রি জারি হওয়ার পর সার্কেল প্রধান তার কাজের সুবিধার জন্য সার্কেলকে মৌজা এবং পাড়ায় ভাগে ভাগ করেন। প্রথম ভাগের দায়িত্বে 'প্রধান' এবং দ্বিতীয় ভাগের দায়িত্ব 'কারবারিকে' কে প্রধান প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করা হয়। এভাবে নিয়োজিত ৩৭৩ প্রধান তাদের অধস্তন কারবারিদের সহযোগিতায় রাজস্ব আদায় করত এবং তা সার্কেল প্রধান হয়ে ডিসির হাতে চলে যেত। এভাবে ভূমি ব্যবস্থাপনায় ডিসি ছিলেন প্রশাসনিক স্তরবিন্যাসের প্রধান। তার পরে স্তরবিন্যাসে ছিলেন সার্কেল প্রধান। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় পাহাড়ি জনগোষ্ঠী নিজেদের পাকিস্তানের মুসলমানদের চেয়ে ভারতীয় হিন্দুদের সঙ্গে থাকার জন্য মতামত ব্যক্ত করেছিল। কিন্তু দেশভাগের সময় তাদের সেই প্রতিফলন ঘটেনি। পাকিস্তান আমলে ১৯৬১ সালে কাপ্তাই বাঁধ তৈরির সময় ৫৪ হাজার একর কৃষিজমি জলমগ্ন হয়ে যায়। এছাড়া বনবিভাগের বনায়ন কর্মসূচি, পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসের জন্য স্থানীয়দের কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ না দিয়ে তেগামুখ, রাইনখিয়াং থেকে সরিয়ে নেয়া হয়। সরিয়ে নেয়া পাহাড়িরা এখনো সেই জমিকে নিজের বলে দাবি করে। ১৯৭১ সালের সময় অনেক উপজাতি স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন। এর মধ্যে চাকমা রাজা ত্রিবিদ রাও ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পর পর পাকিস্তানে তার মৃত্যু হয়। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে যেসব উপজাতি বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছিল তারা পালিয়ে ভারতে চলে যায়। পার্বত্য অঞ্চলে যেসব উপজাতি থেকে যায় তারা পরে পার্বত্য এলাকার সব ভূমিতে তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। ১৯৭২ সালে গণপরিষদ সদস্য মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এবং পার্বত্য অঞ্চলের স্বায়ত্তশাসন দাবি করে। বঙ্গবন্ধু নাকচ করলে তিনি পার্বত্য অঞ্চলে ফিরে যান এবং শান্তি বাহিনী গঠন করেন। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকা-ের পর পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়। ভারত শান্তিবাহিনীকে প্রথম দিকে সমর্থন না দিলেও পরে সমর্থন প্রদান করে। পার্বত্য অঞ্চলে ভূমি নিয়ে সৃষ্ট যে সমস্যা তা জটিল আকার ধারণ করে ১৯৮০ সালের দিকে। এই সময় সরকার কর্তৃক বিভিন্ন ভূমিহীন বাঙালিকে পার্বত্য অঞ্চলে পুশ করা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালি অভিবাসনে রাষ্ট্রের ভূমিকা সব সময় এক রকম ছিল না। ব্রিটিশ আমলেই দুইবার পার্বত্য অঞ্চলে বাঙালি প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল। আমরা সমতল থেকে পার্বত্য অঞ্চলে বাঙালি অভিবাসনে তিন শাসনামলব্যাপী অব্যাহত একটি প্রক্রিয়া লক্ষ্য করি। পার্বত্য চট্টগ্রাম সৃষ্টি থেকে ১৯০০ সাল পর্যন্ত প্রথম ধাপ। এই সময়ে রাষ্ট্রের কতকগুলো নীতিমালা ও উদ্যোগ বাঙালি অভিবাসনে ভূমিকা রেখেছে। লাঙলচাষ প্রবর্তন, সরকারি দপ্তরে বাঙালি কর্মচারীদের বসবাস, ব্যবসার উদ্যোগে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালি অভিবাসন হয়েছে। ১৯০০ সালের শাসনবিধির ৫১ ও ৫২ ধারায় পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালি প্রবেশ নিষিদ্ধ করলেও ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর সেই শাসনবিধি আর কার্যকর থাকেনি। ১৯৬৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিশেষ এলাকার মর্যাদা বাতিলকরণ বাঙালি প্রবেশের মাত্রাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। সর্বশেষ ধাপ বাংলাদেশ পর্যায়। ১৯৭৯-১৯৮৩ সময়কালে ব্যাপক বাঙালি বসবাসের উদ্দেশ্য রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পার্বত্য অঞ্চলে অভিবাসন করানো হয়। তবে তিন পার্বত্য জেলায় বসতি স্থাপনের হার এক একই হার ছিল না। ৮০ দশকের বাঙালি অভিবাসনের সময় সরকার প্রতিটি বাঙালি পরিবারকে ৫ একর করে জমি প্রদান করে। উপজাতিরা এত ক্ষুব্ধ হয়। এবং তারা তাদের জমি জোরপূর্বক বাঙালি কর্তৃক দখলের অভিযোগ ওঠে। পক্ষান্তরে বাঙালিরাও অভিযোগ করে উপজাতিদের বিরুদ্ধে তাদের বসতবাড়িতে হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে। ঐরষষ ঞৎধপঃং ঈড়ঁহপরষ অপঃ-১৯৮৯ অনুযায়ী জমি ক্রয়-বিক্রয়, স্থানান্তর অথবা আদান-প্রদান বিষয়ে জেলা চেয়ারম্যানের পূর্বানুমুতি ছাড়া কোনো প্রকার করা যাবে না। যেটি ১৯০০ সালের আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তি চুক্তি হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের জমিসংক্রান্ত বিরোধে আশার আলো পরিলক্ষিত হয়। এই শান্তি চুক্তির ফলে পার্বত্য এলাকার অনেক উপজাতি সম্প্রদায় নিজেদের জমি ফেরত পাওয়ার ব্যাপারে বেশ আশাবাদী হয় এবং যার পরিণতি শেষ পর্যন্ত জাতিগত অনৈক্যের দিকে ধাবিত করে। সরকার ১৯৯৭ সালের শান্তি চুক্তির বেশকিছু অংশ বাস্তবায়ন করেছে। কিন্তু জমিসংক্রান্ত সমস্যা নানা কারণে তেমন এগোচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা এর পেছনে উপজাতিদের জমি সম্পর্কে প্রাচীন ধারণা, বিভিন্ন সংস্থার উসকানিমূলক তৎপরতা, সরকারের ভূমি কমিশনের দক্ষতার অভাব প্রভৃতি বিষয়কে দায়ী করেছেন। এছাড়া প্রস্তাবিত ভূমি বিরোধ সংক্রান্ত সংশোধনীর দুর্বোধ্যতা এটি সমাধানে বিলম্বের কারণ বলে অনেকে মনে করেন। পার্বত্য অঞ্চলের ভূমি নিয়ে এখনো তেমনভাবে কোনো গ্রহণযোগ্য জরিপ কার্য চালানো হয়নি। বিভিন্ন সূত্রমতে, পার্বত্য অঞ্চলে মোট জমির পরিমাণ ৫ হাজার ৯৩ বর্গমাইল। এর মধ্যে সংরক্ষিত বনভূমি ৭৭৫.৬৩ বর্গমাইল, ব্যক্তিমালিকানায় ১ হাজার ৪২৩ বর্গমাইল এবং ২.৮৯৪.৩৭ বর্গমাইল রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রিত বনভূমি। অর্থাৎ পার্বত্য তিন জেলার ৩,৬৭০ বর্গমাইল জমি রাষ্ট্র কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। পার্বত্য অঞ্চলের ভূমি সমস্যা সমাধানের জন্য ১৯৯৯ সালে সুপ্রিমকোর্টেও একজন প্রধান বিচারপতিকে প্রধান করে 'পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশন' গঠন করা হয় এবং ২০০১ সালে এতটি আইন পাস করে এই সমস্যার সমাধানে প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়। এই আর্টিকেলের প্রথমেই বলা হয়েছে, পার্বত্য অঞ্চলের ভূমি সমস্যায় অন্যতম সমস্যা উপজাতিদের ভূমি নিয়ে আদিকাল থেকে বয়ে আসা ধারণা এবং এখনো তা ধারণ করা। বর্তমানে জেলা প্রশাসক, পার্বত্য জেলা কাউন্সিল, এবং সার্কেল প্রধানদের মধ্যে সমন্বয় করে পার্বত্য অঞ্চলের ভূমি ব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ই পার্বত্য শান্তিচুক্তি করা সম্ভব হয়েছিল। সুতরাং পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি সুরক্ষায় তাদের আগ্রহ ও কর্মকৌশল ইতিবাচক পর্যায়ে রয়েছে সে বিষয়ে দ্বিমত করব না। তবে এ সমস্যা দ্রুত গ্রহণযোগ্য উপায়ে সমাধান হোক এটাই সবার প্রত্যাশা।

লুৎফর রহমান: কলাম লেখক
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
monobhubon
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin