তথ্যপ্রযুক্তি খাতের রপ্তানি ছয় বছরে সাড়ে পাঁচগুণবেলাল মুনতাসির তথ্যপ্রযুক্তি খাতে গত কয়েক বছরে যে হারে রপ্তানি আয় বাড়ছে তাতে চমকে যাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুসারে, ২০১৬ অর্থবছরে কম্পিউটার সার্ভিসে ২৫ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি রয়েছে। এছাড়া গত ছয় বছরে এ খাতের রপ্তানি আয় বেড়েছে সাড়ে পাঁচগুণ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এ ধারা অব্যাহত থাকলে পোশাকশিল্পের মতো তথ্যপ্রযুক্তি খাতও রপ্তানি আয়ের একটি বড় উৎস হিসেবে দাঁড়াবে।
জানতে চাইলে বিশিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ও বেসিসের সভাপতি মোস্তাফা জব্বার যায়যায়দিনকে বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অগ্রগতি অবাক করার মতো। সেই দিন খুব বেশি দূরে নয়, রপ্তানিতে তথ্যপ্রযুক্তি খাত তৈরি পোশাকশিল্পকে ছাড়িয়ে যাবে।
তিনি বলেন, 'এই সফলতার অংশীদার তরুণরা। আমার মতো বৃদ্ধের সংখ্যা এক শতাংশ। বাকি ৯৯ শতাংশ অবদান তরুণদের। বেশিরভাগই ৩০ বছরের কমবয়সী। তাদের পরিশ্রম ও দক্ষতাই সম্ভাবনার নতুন দ্বার খুলছে।'
জানা যায়, তথ্যপ্রযুক্তি রপ্তানি বলতে শুধু সফটওয়ার ও সেবা রপ্তানি হচ্ছে। তবে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়ার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) সূত্র জানায় শিগগিরই হার্ডওয়ারও রপ্তানি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে দেশীয় ইলেক্ট্রনিক্স কোম্পানি ওয়ালটন ল্যাপটপ উৎপাদন ও রপ্তানি শুরু করছে। বেসিস পরিকল্পনায় সবকিছু ঠিক থাকলে শীঘ্রই সফটওয়ার ও সেবার পাশাপাশি হার্ডওয়ার রপ্তানি হবে।
ইপিবির তথ্য বলছে, সদ্য সমাপ্ত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে রপ্তানি হয়েছে ১৯০ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন ডলার বা এক হাজার ৫২৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা, নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় ২৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেশি। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ খাতে রপ্তানি হয়েছে ১৫১ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন ডলার। এর প্রেক্ষিতে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬০ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু বছর শেষে পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় দেখা যায় ৩৯.১১ মিলিয়ন বেশি রপ্তানি হয়েছে। অতিক্রম করেছে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকেও। শুধু ২০১৬-১৭ অর্থবছরেই নয় তথ্যপ্রযুক্তি খাতের এই প্রবৃদ্ধি চলছে গত কয়েক বছর ধরেই।
সূত্র বলছে, ছয় বছরের ব্যবধানে এর রপ্তানি সাড়ে পাঁচগুণে এসে দাঁড়িয়েছে। ছয় বছর আগে অর্থাৎ ২০১০-১১ অর্থবছরে কম্পিউটার সেবায় রপ্তানি আয় ছিল ৩৫ দশমিক ৩১ মিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এসে দাঁড়ায় ১৯০ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ ছয় বছরের ব্যবধানে এ খাত থেকে আয় বেড়েছে ১৫৫ মিলিয়ন ডলার, যা প্রায় সাড়ে পাঁচগুণের সমান।
এর মধ্যে ২০১১-১২ অর্থবছরে প্রায় শতভাগ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ৭০.৮১ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি হয়। ২০১২-১৩তে ১০১.৬৩ মিলিয়ন ডলার ও ২০১৩-১৪তে ১০৪.৭২ মিলিয়ন ডলার আয় হয়। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে অনেকটা বেড়ে হয়েছিল ১৩২.৫৪ মিলিয়ন ডলার।
তবে এই হিসাবের সঙ্গে একমত নয় দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সবচেয়ে বড় সংগঠন বেসিস। তারা বলছেন এটি দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের রপ্তানির সঠিক চিত্র নয়। এই পরিসংখ্যানে অনেক হিসাবই বাদ পড়েছে।
জানতে চাইলে বেসিসের সভাপতি মোস্তাফা জব্বার বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অগ্রগতি অবাক করার মতো। তবে সত্যি কথা বলতে এই খাত থেকে রপ্তানি আয়ের সঠিক হিসাব এখনও করতে পারেনি সরকার। বাংলাদেশ ব্যাংক, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরা (ইপিবি) যে হিসাব দেয় এর বাইরেও কয়েকগুণ ফ্রিল্যান্সার ও প্রতিষ্ঠানের হিসাব রয়ে যায়। নানা কারণে সেসব রপ্তানি আয়ে গণনা হচ্ছে না।
বেসিসের হিসাবে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৩৮২টি কোম্পানির রপ্তানি আয় হয়েছে ৫৯৪.৭৩ মিলিয়ন ডলার। বেসিসের সদস্য প্রতিষ্ঠানের বাইরেও কিছু প্রতিষ্ঠান ও ফ্রিল্যান্সারের আয় রয়ে গেছে। সেসব হিসাব করলে ৭০০ মিলিয়নের কাছাকাছি বলে দাবি করছে সংগঠনটি। অথচ সে বছর ইপিবির হিসাবে রপ্তানি হয়েছে ১৩২ দশমিক ৫৪ মিলিয়ন ডলার। যদিও ইপিবির তথ্য অনুসারে গত ছয় বছরের গড় প্রবৃদ্ধি মাত্র ২৫ শতাংশ, বেসিসের হিসাবে তা ৩০০ শতাংশেরও বেশি।
বেসিস সূত্র জানায়, সফটওয়ার ও সেবা রপ্তানিতে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বিদেশ থেকে আয় করেছে ১৬৮.৬৫ মিলিয়ন ডলার। আর পরবর্তী ২০১৪-১৫ অর্থবছরে তা দাঁড়িয়েছে ৫৯৪.৭৩ মিলিয়ন ডলারে। এক বছরেই রপ্তানি আয় বেড়ে তিনগুণের বেশি হয়েছে। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি ৩০০ শতাংশের বেশি। যদিও এর পরের বছরগুলোর হিসাব করেনি বেসিস।
এই হিসাবের পার্থক্যের কয়েকটি কারণ রয়েছে বলে জানায় বিশ্লেষকরা। প্রথমত, বাংলাদেশ ব্যাংকের সি-ফরম। সি-ফরম হচ্ছে, আন্তর্মুখী রেমিটেন্সের একটি ঘোষণা পত্র, যেখানে এই অর্থ কোন দেশ থেকে কীভাবে আয় করা হয়েছে তার বিস্তারিত বর্ণনা থাকে। এই ফরমে ৯ হাজার ৯৯৯ ডলার পর্যন্ত যারা উপার্জন করে তাদের তালিকাভুক্ত করা হয় না। ফলে এই সীমার নিচে আয় বলে অনেক ফ্রিল্যান্সার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান হিসাব থেকে বাদ পড়ছে। দ্বিতীয়ত, অনেকে আবার এই সীমার বেশি আয় করলেও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়ার ভয়ে এড়িয়ে যান। তখন অন্য কোন খাতে হিসাব হয়। তৃতীয়ত, সফটওয়্যার সেবা খাত থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হলেও অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে তা যুক্ত হয় না।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
monobhubon
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin