বাং লা দে শ কৃ ষি বি শ্ব বি দ্যা ল য়বাঙালির সংগ্রামের ইতিহাসের স্মারক 'বিমূর্ত মুক্তিযুদ্ধ'মো. শাহীন সরদার ও রাকিবুল হাসান রাকিব বাকৃবিতে বাঙালির সংগ্রামের ইতিহাসের স্মারক 'বিমূর্ত মুক্তিযুদ্ধ'বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) চত্বরে অবস্থিত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের (কেবি কলেজ) উদ্যোগে নতুন স্থাপিত 'বিমূর্ত মুক্তিযুদ্ধ' স্থাপনাটি উদ্বোধন করা হয়েছে। গত ১৫ ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বিমূর্ত মুক্তিযুদ্ধ প্রাঙ্গণে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলী আকবর নতুন স্থাপনাটির উদ্বোধন করেন।
বাঙালি জাতির ইতিহাস সংগ্রামী স্বাধীনতার ইতিহাস। আর এই ইতিহাস তরম্নণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থাপিত হয়েছে বিমূর্ত মুক্তিযুদ্ধ। স্থাপনাটিতে বায়ান্ন থেকে একাত্তরের সমগ্র ইতিহাসের মূল নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ, স্বাধীনতার মুক্তি সনদ ৬ দফা, ঐতিহাসিক ১১ দফা, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশের পতাকা, ২১ ফেব্রম্নয়ারি শহীদ দিবস, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস এবং ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের গৌরবগাঁথা ইতিহাস বিভিন্ন প্রতীকের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন স্থপতি শ্যামল চৌধুরী। বায়ান্ন থেকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত্ম মধ্যবর্তী সময়ে সংগঠিত সব ঐতিহাসিক ঘটনাবলি বিভিন্ন প্রতীকীর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে ভাস্কর্যটিতে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে ভাস্কর্যটি। ভাস্কর্যটি তিনটি অংশে বিভক্ত। প্রধান অংশটি ২৬ ফুট ব্যাসের একটি বৃত্তের ওপর অবস্থিত যা ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের প্রতীকী নির্দেশ করে। এর ওপরেই ২১ ফুট ব্যাসের বৃত্তটি বায়ান্নর ভাষা অন্দোলনের ২১ ফেব্রম্নয়ারিকে নির্দেশ করে। এর উপরে ১১ ফুট ব্যাসের বৃত্তটি একটি ৭ ফুট উচ্চতার হাতের ওপর অবস্থিত যেখানে বৃত্তটি ঐতিহাসিক ১১ দফার প্রতীকী নির্দেশ করে এবং হাতটি বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ এবং একই সঙ্গে স্বাধীনতার ৭ বীরশ্রেষ্ঠের প্রতীকী নির্দেশ করে। এর উপরে রয়েছে মোট সাতটি ঊর্ধ্বমুখী তীর্যক এবং একটি চক্রাকার হুইল। যেখানে ঊর্ধ্বমুখী ৬টি তীর্যক স্বাধীনতার মুক্তি সনদ ৬ দফা এবং সপ্তম ১৬ ফুট উচ্চতার তীর্যকটি ১৬ ডিসেম্বরের প্রতীকী নির্দেশ করে। এরপর চক্রাকার হুইলটি সামনে চলার অঙ্গীকারের প্রতীক এবং এর ভেতরে থাকা লাল বৃত্তের মাঝে বাংলাদেশের মানচিত্রটি মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের পতাকার নির্দেশ করে। সবার উপরে রয়েছে উড্ডয়মান ৪টি শ্বেত শুভ্র পায়রা, যা সংবিধানের মূল ৪ স্ত্মম্ভের প্রতীকী নির্দেশ করে।
সর্বশেষ অংশে রয়েছে ২টি বেষ্টনি। প্রথম বেষ্টনিতে পুরো স্ত্মম্ভটি ৭১ ফুট সমবাহু ত্রিভূজের মধ্যে আবদ্ধ, যা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে নির্দেশ করে। এর পরে রয়েছে আরও একটি ত্রিকোনাকার বেষ্টনী যার দৈর্ঘ্য (৯০*৩) ফুট অর্থাৎ মোট ২৭০ ফুট, যা মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস (৯*৩০) মোট ২৭০ দিনের নির্দেশক। বেষ্টনীর ঢেউ আকৃতি দৃঢ় পদে সামনে চলার প্রতীক এবং বেয়োনেট আকৃতি মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত বেয়োনেটের প্রতীকী নির্দেশ করে।
ভাস্কর্যে ফুটে ওঠা বাঙালির এসব সংগ্রামের, স্বাধীনতার প্রতীকীগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, তরম্নণ প্রজন্মসহ অসংখ্য বাঙালির প্রেরণার উৎস।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close