পূর্ববর্তী সংবাদ
চুরি-দুর্নীতির বিপজ্জনক বিস্ত্মার এবং একটি মামলার রায়এটা সত্য আপিল বিভাগের চূড়ান্ত্ম বিচারে তিনি যদি ছাড়া পান, তবে দুর্নীতির কলঙ্ক তিলক মোছা তার পক্ষে সম্ভব হবে না। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আগামী নির্বাচনে এটাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করবে। এর ফলে তার জনপ্রিয়তা এবং তার ওপর মানুষের সহমর্মিতা বাড়ার পরিবর্তে কমে যেতে পারে। বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে তিনি কোনো অপরাধ করেননি। যদি তাই হয়ে থাকে তা হলে এই অন্যায়ের প্রতিবাদে দেশব্যাপী জনগণ বিক্ষোভ করল না কেন? আরও বলা হচ্ছে এত কম টাকার দুর্নীতির মামলায় একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ৫ বছর সাজা হতে পারে? দেশে তো এর চেয়ে বড় বড় দুর্নীতি হচ্ছে। এটা সত্য, ব্যাংকিং খাতে, বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় দুর্নীতির চিত্র ভয়াবহ। উঠে আসতে থাকে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাটের নাটকীয় সব ঘটনা। কেবল ব্যাকিং সেক্টরেই নয়, সরকারের প্রতিটি সেক্টরই ঘুষ দুর্নীতিতে আক্রান্ত্ম। যদি রাঘব-বোয়ালদের বিচার না হয়, তা হলে জনমনে এই ধারণাও প্রতিষ্ঠিত হতে পারে যে কেবল রাজনৈতিক উদ্দেশে এই বিচার করা হয়েছে।সালাম সালেহ উদদীন সমস্যা জর্জরিত বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হচ্ছে দেশব্যাপী চুরি-দুর্নীতি আর লুটপাটের বিপজ্জনক বিস্ত্মার। এই বিস্ত্মারের প্রধান প্রবণতা হচ্ছে রাতারাতি কোটিপতি হওয়া। বিজয়ের ৪৬ বছর অতিক্রম করলাম আমরা। নানা প্রতিকূলতা, বাধা-বিপত্তি, অপপ্রচার সত্ত্বেও আমরা অনেকটা এগিয়েছি। কিন্তু চুরি-দুর্নীতি লুটপাট আমাদের অগ্রযাত্রাকে সব সময় পিছিয়ে দিতে চাচ্ছে।
বাংলাদেশ শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দুর্নীতি ধারণাসূচকে এগিয়েছিল। তথ্যানুযায়ী ২০০১ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত্মদুর্নীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল শীর্ষে। কিন্তু ২০০৬-এ পেয়েছিল তৃতীয় স্থান, ২০০৭-এ সপ্তম, ২০০৮-এ দশম, ২০০৯ ত্রয়োদশ ও ২০১০-এ দ্বাদশ এবং ২০১১-এ আবারো ত্রয়োদশ স্থানে উঠে এসেছিল দেশটি। ২০১২ সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত্ম দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান আবার ১৩তম। ২০১৩ সালে ১৬তম। ২০১৪ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪তম। ২০১৫ সালে আবার ১৩তম ছিল এবং ২০১৬ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫তম। ফলে সূচক অনুযায়ী অগ্রগতির ধারা পরিলক্ষিত হচ্ছিল। এ কথা ভুলে গেলে চলবে না যে, দুর্নীতি দমনের পূর্বশর্ত হল দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। আমাদের দুর্ভাগ্য, দেশে এখনো সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অগ্রগতির সূচক আরও ইতিবাচক করতে এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দুর্নীতির বিরম্নদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেই আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের দুর্ভাগ্য, রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকেও অনেকেই দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে অবলীলায়।
এখানে বিশেষভাবে উলেস্নখ্য, গত ৮ ফেব্রম্নয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার 'জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট' দুর্নীতি মামলার রায় দিয়েছে নিম্ন আদালত। এই আদালতের রায়ে বয়স ও সামাজিক মর্যাদা বিবেচনা করে খালেদা জিয়াকে ৫ বছর সশ্রম কারাদ- এবং তারেক রহমান (বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান), কাজী সালিমুল হক (বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য), কামাল উদ্দীন সিদ্দিকী (সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব), শরফুদ্দিন আহমেদ (ব্যবসায়ী), মমিনুর রহমানের (জিয়াউর রহমানের ভাগনে) ১০ বছর সশ্রম কারাদ- ও প্রত্যেকে ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা জরিমানা হয়। একটি বিষয় আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, যে মামলায় খালেদা জিয়াসহ ছয় আসামির দ- ঘোষণা করা হলো সে মামলার সূচনা করেছিল সেনাসমর্থিত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং এর তদন্ত্মসহ যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান যখন কোনো বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত্ম ও বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে তখন রাষ্ট্রের জনগণের উচিত সে বিষয়ে পুরোপুরি আস্থা রাখা। কেননা এ ক্ষেত্রে আস্থার সংকট হলে রাষ্ট্রে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। ৮ ফেব্রম্নয়ারিও সেরকম পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দূরদর্শিতায় ও দক্ষতায় তা রক্তপাতহীনভাবে সামাল দেয়া গিয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সাধুবাদ জানাই। পাশাপাশি বিএনপি যে এ ব্যাপারে নাশকতার পথ অবলম্বন করেনি সেজন্য বিএনপিকে ধন্যবাদ। বিএনপির গণতান্ত্রিক পথে অগ্রসর হোক এটাই আমরা চাই। এখন পর্যন্ত্ম বিএনপির শান্ত্মিপূর্ণ কর্মসূচি প্রশংসনীয়। তবে ভবিষ্যতে দলটি কী ধরনের কর্মসূচি দেয় সেটাও দেখার বিষয়। একদিকে তারা বলছেন বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবেন না। আবার বলছেন তাকে নিয়েই নির্বাচন করতে হবে। এটা এক ধরনের হুমকি। আইনের কাছে এই হুমকি টিকবে কি?
যিনি চোর-দুর্নীতিবাজ লুটেরা তার মাত্রা ও ব্যাপকতা কত সেটা বড় কথা নয়। বড় কথা হচ্ছে এটা মারাত্মক অপরাধ। এই অপরাধের সাজা হওয়া উচিত। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার 'জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট' দুর্নীতি মামলার রায় দিয়েছে নিম্ন আদালত। তার ৫ বছরের সাজা হয়েছে। তিনি এখন ডিভিশন পেয়ে কারাগারে আছেন। তার এই রায় নিয়ে নানা ধরনের কথা রাজনৈতিক মহলে উঠেছে। সরকার নাকি ফাঁকা মাঠে নির্বাচনী গোল দেয়ার জন্য তাকে জেলে পাঠিয়েছে। যারা এই অভিযোগ করছেন তাদের রাজনৈতিক আদর্শ কী উদ্দেশ্য-ই বা কী তা স্পষ্ট নয়। খালেদা জিয়ার বিরম্নদ্ধে আরও ৩৪টি মামলা রয়েছে। চারটি মামলা সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের এবং বাকি ৩০টি মামলা বর্তমান সরকারের আমলের। এর মধ্যে বিচারাধীন ১৯টি, তদন্ত্মাধীন ১২টি এবং স্থগিত ৩টি। এই সব মামলার বিচার শেষ হলে তার জেল জীবন দীর্ঘ হতে পারে। এর আগেও আমি বলেছি, বিএনপির মনে রাখতে হবে আওয়ামী লীগ কোনোভাবেই ছাড় দেবে না। ক্ষমতার রাজনীতিতে ছাড় দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। রাজনৈতিক ছাড় মানেই নিজের পতন। আত্মঘাতী ছাড়া নিজের পতন কেউ ডেকে আনতে চায় না। বিএনপির সামনে এখন অগ্নি পরীক্ষা। নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলটি যদি সিদ্ধান্ত্ম নিতে ভুল করে, তা হলে এবার বড় ধরনের মাশুল দিতে হবে। এও স্মরণে রাখতে হবে, একানব্বইয়ের নির্বাচনে এরশাদ যখন জেলে ছিল, তখনো জাতীয় পার্টি নির্বাচন করেছে। ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ৩৫ আসন পেয়েছিল। আর এরশাদ একাই পেয়েছিল ৫ আসন।
হখালেদা জিয়ার মামলার রায় হয়েছে এবং তিনি জেলে তাতে কী। এর ফলে বিএনপির ভয় পাবার কী আছে। দেশব্যাপী বিএনপির জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার কথা, যদি প্রকৃত অর্থে জনপ্রিয়তা থেকে থাকে। বিএনপি সব সময় মনে করে তাদের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। দলের মহাসচিব মীর্জা ফখরম্নল তো বলেছেনই, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে এবার আওয়ামী লীগ ২০ আসনের বেশি পাবে না। অবশ্য এর আগে তিনি ৩০ আসনের কথা বলেছিলেন। তিনি যদি নিশ্চিত হন, এবার জনগণ আওয়ামী লীগ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে তা হলে ভয়ের কী আছে, বেগম খালেদা জিয়া জেলে থাকার কারণে নির্বাচন বর্জনের বা কী আছে। জাতীয় পার্টি তো নির্বাচন বর্জন করেনি। পৃথিবীর বহুদেশেই দলপ্রধান গ্রেপ্তার হয়েছে কিন্তু দল নির্বাচন করেছে।
এটা সত্য আপিল বিভাগের চূড়ান্ত্ম বিচারে তিনি যদি ছাড়া পান, তবে দুর্নীতির কলঙ্ক তিলক মোছা তার পক্ষে সম্ভব হবে না। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আগামী নির্বাচনে এটাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করবে। এর ফলে তার জনপ্রিয়তা এবং তার ওপর মানুষের সহমর্মিতা বাড়ার পরিবর্তে কমে যেতে পারে। বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে তিনি কোনো অপরাধ করেননি। যদি তাই হয়ে থাকে তা হলে এই অন্যায়ের প্রতিবাদে দেশব্যাপী জনগণ বিক্ষোভ করল না কেন? আরও বলা হচ্ছে এত কম টাকার দুর্নীতির মামলায় একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ৫ বছর সাজা হতে পারে? দেশে তো এর চেয়ে বড় বড় দুর্নীতি হচ্ছে। এটা সত্য, ব্যাংকিং খাতে, বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় দুর্নীতির চিত্র ভয়াবহ। উঠে আসতে থাকে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাটের নাটকীয় সব ঘটনা। কেবল ব্যাকিং সেক্টরেই নয়, সরকারের প্রতিটি সেক্টরই ঘুষ দুর্নীতিতে আক্রান্ত্ম। যদি রাঘব-বোয়ালদের বিচার না হয়, তা হলে জনমনে এই ধারণাও প্রতিষ্ঠিত হতে পারে যে কেবল রাজনৈতিক উদ্দেশে এই বিচার করা হয়েছে।
আশির দশক থেকেই এই দুর্নীতি ব্যাপকতা পেতে শুরম্ন করে। ক্রমে অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে দুর্নীতির জন্য লজ্জাবোধ তো দূরের কথা, সাধারণ ভয়ভীতিও অবশিষ্ট থাকেনি। বড় দুর্নীতির অভিযোগ আছে এমন অনেকেই পরবর্তীকালে বড় রাজনীতিবিদ বনে গেছেন। সমাজে একেকজন প্রভাবশালী হয়েছেন। মানুষ যদি সৎ নীতিবান না হয় তা হলে দুদক দুর্নীতির বিরম্নদ্ধে লড়াই করে কতটুকু জয়ী হবে? সমাজ ও রাষ্ট্রে দুর্নীতির পরিমাণ যে হারে বাড়ছে দুর্নীতি দমনের জনবল সে হারে বাড়েনি। এখনো প্রতিটি জেলা সদরের দুর্নীতি দমন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ অফিস নেই। জনবলও অপ্রতুল। এ ব্যাপারেও সরকারকে নজর দিতে হবে। বিচার করতে হবে ঘুষ দুর্নীতিতে জড়িত অপরাধীদের। কেবল বেগম খালেদা জিয়ার বিচার কোনো দৃষ্টান্ত্ম হতে পারে না।
দেশের দুর্নীতি নিরসন করতে হলে দুদককে আরও শক্তিশালী করা দরকার। দুদককেও সাংবিধানিকভাবে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়া তোলা প্রয়োজন। সব স্ত্মরের কর্মী নিয়োগসহ সব কর্মকা- বিচার বিভাগের মতো দুদক পরিচালিত করলে এই কমিশন আরও শক্তিশালী হবে। অভ্যন্ত্মরীণ কর্মী ভাবে কর্মীর প্রমোশন দেয়া এবং প্রেষণে অন্য কোনো সরকারি দপ্তর থেকে এখানে কর্মীকে পদায়ন না করাটা উচিত। দুদকের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় অফিস থাকা দরকার। দুর্নীতি দমন কমিশন যদি প্রয়োজনীয় জনবল এবং স্বাধীনভাবে কাজ করে তাহলে দেশের দুর্নীতি নিরসন করা সম্ভব। তখন আর বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধার জন্য কাউকে খুঁজতে হবে না।
অর্থ-বিত্তের মালিক হয়ে ভোগবাদী জীবনযাপনের মাধ্যমে সুখের মুখ কে না দেখতে চায়। পাবলিক বাসে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচলের চেয়ে এসি গাড়িতে চলাচল করতে কে না চায়। কে না চায় দামি পোশাক ও অলঙ্কার পরতে, দামি ও মুখরোচক খাবার খেতে। কে না চায় প্রাসাদোপম বাড়ির মালিক হতে। কোটি কোটি টাকা ব্যাংকে থাকুক এটাও সবাই চায়। এ চাওয়া পূরণ করতে গেলে তো দেশের ষোল কোটিকেই ধনী হতে হবে। তখন দেশে আর ভুখা-নাঙ্গা, গরিব মানুষের দেখা পাওয়া যাবে না। এটা সবাই জানে, এ গরিব দেশে সৎপথে উপার্জনের মাধ্যমে ধনী হওয়া সম্ভব নয়। ব্যতিক্রম দুয়েকজন যে হয়েছে কঠিন সাধনা আর সংগ্রামের মাধ্যমে। হয়তো ভাগ্যও তাদের সুপ্রসন্ন করেছে। আর যারা উত্তরাধিকার সূত্রে বিত্তশালী তাদের কথা আলাদা। এ দেশে আবার কেউ কেউ চুরির মাধ্যমেও কোটিপতি হওয়ার চেষ্টা করছে। ভদ্রবেশি চোরদের পাশাপাশি সুড়ঙ্গ কাটা চোররাও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। লুটেরা বা চোরদের উদ্দেশ্য একটাই ধনী হওয়া। রাতারাতি বিত্তবৈভবের মালিক হওয়া।
প্রবাদে আছে- চোরকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয় না, যে চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে, তাকেই ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। অর্থাৎ চুরি বিদ্যা বড় বিদ্যা যদি না পড়ে ধরা। চুরি করতে গেলে মেধার প্রয়োজন পড়ে, আর লুট বা ডাকাতি করতে গেলে প্রয়োজন পড়ে সাহসের। স্বাধীনতার পর রিলিফের কম্বল চুরির হিড়িক পড়লে এবং এই অভিযোগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কানে গেলে তিনি আক্ষেপ করে বলেছিলেন- 'সবাই পায় সোনার খনি, আমি পেয়েছি চোরের খনি।' এ দেশে ছোট চোর থেকে শুরম্ন করে বড় চোর জনআক্রোশে পড়লে গণপিটুনিতে পড়ে। আবার যেসব চোর-দুর্নীতিবাজকে রাঘব-বোয়াল হিসেবে চিহ্নিত করা হয় তাদের গণপিটুনি দেয়া তো দূরের কথা, কেশাগ্র পর্যন্ত্ম কেউ স্পর্শ করতে পারে না। তারাই রাষ্ট্র-সমাজের দ-মু-ের কর্তা। সমাজে তাদের সম্মান ও মর্যাদাই সবচেয়ে বেশি।
অবশ্য চুরির-দুর্নীতির প্রতিযোগিতায় জেতা কোনো গৌরবের বিষয় নয়। বেঁচে থাকার জন্য অর্থের প্রয়োজন, কিন্তু চুরি-দুর্নীতি-লুটপাটের টাকা কতটা প্রয়োজন তা ভেবে দেখার সময় এসেছে। কাস্টমসের অল্প শিক্ষিত কর্মচারী চুরি-দুর্নীতি ঘুষের টাকা দিয়ে সংসার চালানোসহ ছেলেকে উচ্চশিক্ষিত করেছে। ছেলে চাকরি জীবনে প্রবেশের আগে উপদেশ দিয়েছেন, দেখ বাবা- অভাবের কারণে আমি ওই পথ বেছে নিয়েছিলাম। আমি কম লেখাপড়া জানা মানুষ, সবকিছু বুঝতাম না। তুই যদি আমার মতো চুরির পথ ধরিস তবে তোর আর আমার মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকলো না। যদি কখনো লোভের বশবর্তী হয়ে ছেলের চুরির ইচ্ছা জাগে তখনই তার বাবার কথা মনে পড়ে। তাই সে সৎপথেই জীবনযাপনের চেষ্টা করছে। এ দেশের বেশিরভাগ ব্যক্তিই চুরি-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থবিত্তের মালিক হয়েছে। সুতরাং খানদানি, পেশাদার বা শৌখিন চোর-দুর্নীতিবাজদের চেয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের ওইসব চোর-দুর্নীতিবাজ বেশি ভয়ঙ্কর ও ক্ষতিকর।
পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, এ দেশে চোর-দুর্নীতিবাজ লালন-পালনের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। চোর-দুর্নীতিবাজদের কারণেই সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত্ম হচ্ছে, ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হচ্ছে। আমাদের দুর্ভাগ্য, আমরা কখনো প্রকৃত চোরদের চিহ্নিত করতে পারি না।
প্রশ্ন উঠতে পারে, চুরি-দুর্নীতি বা লুটপাট থেকে মুক্তির উপায় কী। পরিস্থিতি এমন একপর্যায়ে চলে গিয়েছে, কোনো সরকার বা রাজনৈতিক দল চাইলেই দেশের চুরি-দুর্নীতি-লুটপাটের চিত্র পাল্টানো সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। আর তা বাস্ত্মবায়নের জন্য প্রয়োজন সৎ, যোগ্য নেতৃত্ব। কারণ আমাদের চরিত্রের বদল এবং মানসিকতার পরিবর্তন না হলে সমাজকে সুস্থ ও সুষ্ঠু ধারায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। সম্ভব নয় দেশকে চুরি-দুর্নীতিমুক্ত করাও।
দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলেও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা নৈরাজ্য ও চুরি-দুর্নীতি এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের কারণে এখনো স্থিতিশীল হয়নি। তবে আমরা আশাবাদী, দেশকে এগিয়ে নেয়ার যে প্রত্যয় দেশের সাধারণ মানুষের বুকে রয়েছে তা-ই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। শত বাধা-অপপ্রচার সত্ত্বেও বাংলাদেশ বিশ্বে টিকে থাকবে সফল ও কার্যকর এবং দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে।

সালাম সালেহ উদদীন: কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও কলাম লেখক
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close