পূর্ববর্তী সংবাদ
কর্ম চাঞ্চল্যে নারীএত দায়িত্ব আর কর্মচাঞ্চল্যে নারীদের মানসিক চাপ বেড়ে যায়। পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পাওয়ায় ভুগতে হয় নানা রোগে। ঘরে-বাইরে কাজ করতে গিয়ে অনেক নারী অসুস্থ হয়ে ছিটকে পড়েন কর্মক্ষেত্র থেকে। কর্মজীবী নারী ঘুমাতে যাওয়ার আগেই চিন্ত্মা করতে থাকে সকালে অফিস যাওয়ার আগে কী রান্না করে যাবে। ঘুম থেকে উঠে ঊর্ধ্ব নিশ্বাসে ছুটতে থাকে সে যেন নিশ্বাস ফেলারও সময় থাকে না।মনিরা মিতা নারীর স্বাধীন হওয়ার স্বপ্ন একবিংশ শতাব্দীতে অনেকটাই পূর্ণ'কোনো এক ভোরের অপেক্ষায় আমার দিন কেটেছে,
অসংখ্যা দিন আমি প্রহর গুনেছি সূর্যের লাল মুখের সম্ভাষণে।
অপেক্ষায় থেকেছি মুক্ত ছাদে আকাশ নীলে স্বাধীনতার স্বপ্ন ছুঁয়ে যেতে।'
নারীর স্বাধীন হবার স্বপ্ন একবিংশ শতাব্দীতে অনেকটাই পূর্ণ। বর্তমানে ঘরে বাইরে সবখানেই বেড়েছে নারীর কর্মব্যস্ত্মতা। আজ নারীর সঙ্গে যোগ হয়েছে দক্ষতা, কর্মমুখিতা, উৎসাহ, উদ্যোগের মতো সংজ্ঞা, সময়ের কলতানে নারীর জীবন থেকে বাদ পড়েছে পিছিয়ে থাকা আর আড়ষ্ঠতা নামক কিছু বৈশিষ্ট্য। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে নারী আজ ঘরের বাইরে শুধু পা রাখেনি সেই সাথে রাখছে সফলতার শিখরে পদচিহ্ন। নারীর হাতে দৃষ্টান্ত্ম স্থাপনকারী সাফল্য আজ নিত্যদিনের খবর। কর্মজীবী নারীকে সমানতালে সামলাতে হয় ঘর, অফিস, সন্ত্মান, স্বামী, আত্মীয়-পরিজন ও সামাজিকতা। সন্ত্মান- সংসারের সব দায়িত্ব পালন করে একজন কর্মজীবী মাকে বের হতে হয় কর্মক্ষেত্রে।
দিনের আলো ফোটার আগেই কর্মজীবী মাকে বিছানা ছাড়তে হয়, তারপর রান্নাঘরে পবেশ, সবার পছন্দের নাশতা তৈরি করতে হয় তাকে, তারপর সারাদিনের খাবার গুছিয়ে রাখতে হয়। সন্ত্মানদের স্কুলে দিয়ে আসো এবং সব কাজ শেষে নিজেকে গুছিয়ে কর্মস্থলে প্রবেশ। শত ব্যস্ত্মতার মাঝেও খবর নিতে হয় সন্ত্মানরা ঠিকমতো বাসায় ফিরেছে কি-না, স্বামী দুপুরে খেয়েছে কি-না, পরিবারের অন্যান্য সদস্য কি করছে ইত্যাদি ইত্যাদি। রাতে বাসায় ফিরে আবার সন্ত্মানদের পছন্দের খাবার তৈরি করা, তাদের পড়তে বসানো, স্বামীর সেবা করা, পরিবারের অন্য সদস্যদের সাহায্য করা এসব যেন প্রতিটা কর্মজীবী নারীর প্রতিদিনের কাজ। কর্মক্ষেত্রে একজন নারী যতই দক্ষ ও কর্মিষ্ঠ কর্মী হোক না কেন, হেঁসেলে ও সংসারের খুঁটিনাটিতেও তাকে হতে হয় সমান পারদর্শি।
এত দায়িত্ব আর কর্ম চাঞ্চল্যে নারীদের মানসিক চাপ বেড়ে যায়। পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পাওয়ায় ভুগতে হয় নানা রোগে। ঘরে-বাইরে কাজ করতে গিয়ে অনেক নারী অসুস্থ হয়ে ছিটকে পরেন কর্মক্ষেত্র থেকে। কর্মজীবী নারী ঘুমাতে যাবার আগেই চিন্ত্মা করতে থাকে সকালে অফিস যাওয়ার আগে কী রান্না করে যাবে। ঘুম থেকে উঠে ঊর্ধ্ব নিঃশ্বাসে ছুটতে থাকে সে যেন নিঃশ্বাস ফেলারও সময় থাকে না।
শুধু সাংসারিক কাজই না একজন কর্মজীবী নারী আলস্নাহ তায়ালার ইবাদত বন্দেগীর ক্ষেত্রেও পিছিয়ে থাকেন না। পবিত্র রমজান মাসে তারা রোজা রাখেন, দৈনিক ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। ইফতারির আগে ঘরে ফিরে ব্যস্ত্ম হয়ে পড়েন রকমারি ইফতারি তৈরির কাজে। পরিবারের সদস্যদের জন্য ইফতারি বানানো, সেহেরিতে পুষ্টিকর খাবার রান্না এসব ক্ষেত্রেও কম এগিয়ে না কর্মজীবী নারী। এসবের ফাঁকে ফাঁকে পরিবারের সবার জন্য ঈদের কেনাকাটা করাটাও বাদ পরে না তাদের জীবন থেকে।
একজন মেয়ে ধীরে ধীরে বউ-মা শ্বাশুড়ি হয়, সামলাতে হয় ঘর-সংসার কোনো অবসর মেলে না তার জীবনে। অসময়ে তার আকাশ দেখতে ইচ্ছে করে না। অসুখ-বিসুখ ছাড়াই সারাদিন অলস সময় কাটাতে ইচ্ছে করে না। ছেলেবেলার কোনো শখ নতুন করে সাজাতে ইচ্ছে হয় না। একঘেঁয়ে সংসার ছেড়ে একদিন কোথাও বেড়াতে যেতে ইচ্ছে হয় না। তার জীবনে সন্ত্মান স্বামী সংসারই সবকিছু কেননা সে একজন নারী। চাকরীজীবী নারীর গল্পটা আরও জটিল, এই নারীরা ঘরে বাইরে দুই জায়গাতেই দশভুজ্যা হয়ে বিরাজমান।
জীবনের সব রঙ আর কর্ম চাঞ্চল্যতা দিয়ে কর্মজীবী নারী সাজায় তার জীবন। প্রতিটি কর্মজীবী নারীর জীবন যেন একই সুতায় গাঁথা। পরিবারের অন্য সদস্যদের একটু সাহায্য সহযোগিতা কমাতে পারে এসব নারীর ভোগান্ত্মি আর মানসিক অস্বস্ত্মি।
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close