পূর্ববর্তী সংবাদ
আইসিটির বহুমাত্রিক ব্যবহারে যেতে হবেতথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন গুরম্নত্বপূর্ণ ব্যবহারের দিকগুলো উলেস্নখ করে এডুকেশন সম্পর্কে বলেছিলাম, দেশের স্কুল লেভেল থেকে ইউনিভার্সিটি লেভেল পর্যন্ত্ম শিক্ষা এমনভাবে হওয়া উচিত, যাতে আমরা দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে বিভিন্ন স্ত্মরে স্কিলড পারসন্স দিয়ে আইসিটির প্রয়োগ ব্যাপকভাবে ২০২০ সালের মধ্যে বাস্ত্মবায়ন করতে পারি। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে প্রয়োগ এবং বাস্ত্মবায়ন করতে হলে আমাদের বিদেশিদের সঙ্গে যৌথ সংযোগের মাধ্যমে কাজ করতে হবে।ড. রফিকুল ইসলাম শরীফ বিশ্বের অনেক দেশ তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রম্নত উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের জন্য ২০২০ সালের মধ্যে আইসিটির ব্যবহারের সুযোগ প্রদান সম্ভব। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, বাস্ত্মবায়ন এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আমি কিছু কথা ২০০৮ সালের ১৩ জানুয়ারি ডেইলি স্টারে লিখেছিলাম।
তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন গুরম্নত্বপূর্ণ ব্যবহারের দিকগুলো উলেস্নখ করে এডুকেশন সম্পর্কে বলেছিলাম, দেশের স্কুল লেভেল থেকে ইউনিভার্সিটি লেভেল পর্যন্ত্ম শিক্ষা এমনভাবে হওয়া উচিত যাতে আমরা দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে বিভিন্ন স্ত্মরে স্কিলড পারসন্স দিয়ে আইসিটির প্রয়োগ ব্যাপকভাবে ২০২০ সালের মধ্যে বাস্ত্মবায়ন করতে পারি। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে প্রয়োগ এবং বাস্ত্মবায়ন করতে হলে আমাদের বিদেশিদের সঙ্গে যৌথ সংযোগের মাধ্যমে কাজ করতে হবে। উন্নত কোনো দেশ যদি আমাদের দেশে তথ্যপ্রযুক্তি বা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চায় তাহলে আমরা অবশ্যই তাদের স্বাগত জানাব।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সুযোগ দেয়ার সঙ্গে আমাদের দক্ষ জনশক্তির ১০ থেকে ১৫ শতাংশ যেন বিদেশি টেকনোলজির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারে তার ব্যবস্থা করা উচিত আমাদের, যাতে ভবিষ্যতে তারা নিজেরাই টেকনোলজি তৈরি করতে সক্ষম হয়।

ডিজিটাল বাংলাদেশের অধীনে সব ডিজিটাল গ্রাম : বর্তমানে গ্রাম-গঞ্জে সাবমেরিন ক্যাবেল, ৩এ/৪এ মোবাইল ও উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছে গেছে এবং গ্রামে গ্রামে কমিউনিটি কেন্দ্র গড়ে উঠছে। এর মাধ্যমে তারা শহরের ন্যায় সুবিধা পাচ্ছে। ফলে গ্রাম ও শহরের মানুষের মধ্যে বৈষম্য কমে যাচ্ছে।
গ্রামে উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছানোর ফলে নিম্নলিখিত সুবিধা জনগণ গ্রামের কমিউনিটি কেন্দ্রের মাধ্যমে পাচ্ছে :
কৃষকরা কীভাবে ভালো ফসল ফলাতে পারে, কীভাবে ফসল ফলাবে, মাটিতে কী কী উপাদান মেশাবে, কোন সময় চাষাবাদ করতে হবে, কোথায় ফসল বিক্রি করতে পারবে তা তারা জানতে পারবে। শ্রমিকদের কোথায় কাজের সুযোগ আছে, কোথায় কাজের সুযোগ নেই, কোথায় কত টাকা দেবে তা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তারা জানতে পারে। কুটিরশিল্পে উদ্যোক্তরা দেশ ও বিদেশের কোথায় তাদের পণ্যের চাহিদা আছে, কোথায় রপ্তানি করলে তারা বেশি লাভবান হবে তা জানতে পারে। মৎস্যচাষিরা তাদের মাছ বিক্রি, মাছের বর্তমান বাজার দর, মৎস্য উৎপাদনের সহজ উপায় ইত্যাদি জানতে পারে। প্রয়োজনীয় ঋণ পাওয়ার খবর ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানবে। প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলাপর্যায়ে টেলিকমিউনিটি কেন্দ্র স্থাপন করে জনগণের নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজের সহায়তা করা যেতে পারে।

স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া শিক্ষাপদ্ধতি : আমাদের অনেক স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি গ্রাম-গঞ্জে, জেলাপর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু সব জায়গায় একই ধরনের মানসম্মত শিক্ষক পাওয়া সম্ভব নয়। এ জন্য কোনো কোনো জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার মান খারাপ। কোনো কোনো জায়গায় পড়াশোনার মান অনেক উন্নত। বলতে গেলে সমতালের বা সমানভাবে শিক্ষা দেয়া আমাদের দেশে সম্ভব নয়। শিক্ষাপদ্ধতির ত্রম্নটি এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ ও পরীক্ষা নেয়ার কৌশল যথাযথভাবে না থাকায় আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা অনেকটা ভেঙে পড়েছে। আমাদের শিক্ষাকে দুভাগে ভাগ করতে পারি, একটি দূরশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষা, আরেকটি হলো গতানুগতিকভাবে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা। কিন্তু গতানুগতিক শিক্ষার কুফল একটাই যে, সমমানের শিক্ষা সব জায়গায় দেয়া সম্ভব না, কারণ শিক্ষকের অভাবে, ভালো ছাত্রছাত্রী অনেক জায়গায় ভর্তি হতে আগ্রহী নাও হতে পারে। যদি আমরা সেখানে ৪-৫টি মিডিয়া ব্যবহার করে এগুলোর সংমিশ্রণে শিক্ষার্থীদের কোনো বিষয় দেখানো ও বোঝানো যেত, তাহলে তারা কোনোদিন তা ভুলত না। কোনো একটি গল্পের বই পড়ে যা বোঝা যায়, তার শতগুণ বোঝা ও মনে রাখা সম্ভব, যদি ওই বইটির ওপর চলচ্চিত্র তৈরি করে দেখানো যায়।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ এবং পরীক্ষা নেয়ার কৌশল যথাযথভাবে না হওয়ার জন্য আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা অনেকটা ভেঙে পড়েছে।
আমি ইচ্ছা করলে নিউইয়র্ক অথবা ক্যালিফোর্নিয়ার কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বাংলাদেশে বসেও পড়তে ও পরীক্ষা দিতে পারি। অনলাইন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত যদি সম্ভব হতো তাহলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো ছাত্রছাত্রী বই দেখে লেখার সময় পেত না এবং বই খুঁজে উত্তর বের করে সময় নষ্ট করত না। টোফেল এবং জিআরই পরীক্ষা বিশ্বের সব জায়গায় গ্রহণযোগ্য। কোনোভাবেই কপি করা এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

বিশ্বের প্রতিটি পণ্য ডিজিটাল মার্কেটে প্রদর্শন ও ক্রয়-বিক্রয়ের সিস্টেম : বর্তমানে ব্যবসা-বাণিজ্য ই-কমার্স ও ই-বিজনেস ব্যবহার করে বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের লোকসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এবং যাতায়াতব্যবস্থায় বিভিন্ন সমস্যার কারণে বাজারে বা দোকানে কেনাকাটা করতে যাওয়া-আসা খুবই কষ্টসাধ্য। বর্তমান বিশ্বের প্রায় দেশেই ডিজিটাল মার্কেট হওয়ায় জনগণ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ঘরে বসে সহজেই কম দামে ক্রয় করতে পারে। আমরাও সেভাবে প্রতিটি পণ্য বিক্রয়ের জন্য ডিজিটাল মার্কেট তৈরি করতে পারি।

ই-গভর্নেন্স ও ই-গভর্নমেন্ট : বর্তমান সরকার ই-গভর্নেন্স ও ই-গভর্নমেন্ট বাস্ত্মবায়নের চেষ্টা করছে। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে বহু প্রতিষ্ঠান আছে। প্রতিটির প্রয়োজনীয় ডাটা সংগ্রহ করে ডাটাবেজ তথ্য তৈরি করা একান্ত্ম প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় তথ্য নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আদান-প্রদান ও ব্যবহার করে সমাজের প্রতিটি গুরম্নত্বপূর্ণ কাজে সঠিক সময়ে দ্রম্নত সিদ্ধান্ত্ম নিতে পারে। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর অফিসের সঙ্গে সব মন্ত্রণালয়ের বহু প্রতিষ্ঠানের কাজের অগ্রগতি ও বাস্ত্মবায়ন তদারকি করার প্রযুক্তি গড়ে তোলার ওপর গুরম্নত্বারোপ করা প্রয়োজন।

ইন্টারনেটের মাধ্যমে টেলিমেডিসিনের ব্যবহার গ্রামের জনগণের রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসার সুযোগ : ফাইবার অপটিকস সংযোগ গ্রামপর্যায়ে পৌঁছায় সাধারণ মানুষ টেলিকমিউনিটি কেন্দ্র থেকে নিত্যদিনের বহু চাহিদা পূরণ করতে পারে। মানুষের অসুখের লক্ষণ, রোগ নির্ণয় এবং যেসব শারীরিক পরীক্ষা করতে হবে তা বলে দিতে পারার মতো তথ্য ওয়েবসাইটে এবং কোনো মেডিসিন/সার্জারির প্রয়োজন হবে তা বলে দিতে এবং কোথায় করলে ভালো হবে সেসব তথ্য যদি সরবরাহ করা যায় এবং সেগুলো যদি তারা সহজে জানতে ও বাস্ত্মবায়ন করতে পারে তাহলে তাদের সুচিকিৎসার সুযোগ পাওয়া সম্ভব।

আইসিটির ব্যাপক সম্প্রসারণের জন্য বিশ্ব এখন একটি গ্রামের মতো : আইসিটির ব্যাপক প্রসারের ফলে বিশ্ব আজ হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। বিশ্ব আজ বিশাল নয় বরং এক গেস্নাবাল ভিলেজ। আগে যে কাজ করতে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হতো তা আজ নিমেষে সম্পাদিত হচ্ছে। তথ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্রমোন্নতি ও দ্রম্নত বিস্ত্মারের ফলে পৃথিবী ছোট হয়ে আসছে। যার বদৌলতে আমরা সহজেই দূরবর্তী স্থানে থেকেও বিশ্ব তথ্যভা-ারে প্রবেশ করতে পারছি। পৃথিবীব্যাপী স্বল্প সময়ে এই যোগাযোগ সুবিধার ফলেই বিশ্বকে একটি গ্রাম হিসেবে তুলনা করা যায়। এ জন্য বর্তমান বিশ্বকে গেস্নাবাল ভিলেজ বলা হয়।

বিশ্বব্যাপী ব্যবসা-বাণিজ্য এখন যে কোনো স্থানে বসে যে কোনো সময় পরিচালনা করা সম্ভব : বর্তমান যুগে আমরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের, বিভিন্ন সংস্থার বিভিন্ন ধরনের কাজ দেখি যার সমাধান সহজে করতে পারছি না বিধায় সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের কাজে জনগণ দুর্ভোগে পড়ছে। যদি প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান/অফিসের কাজ ডেটাবেজের মাধ্যমে তৈরি করা হয় এবং সেগুলো বিভিন্ন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংযোগ করা হয়, তাহলে গ্রামের লোক কোনো কাজের জন্য ঢাকা আসার প্রয়োজন মনে করত না। সে গ্রামে বসেই তার সমস্যার সমাধান বা কতখানি অগ্রগতি হলো, ফাইলটা কোন স্ত্মরে আছে, তার সিদ্ধান্ত্ম কী হয়েছে সবকিছুই জানা সম্ভব হতো। এতগুলো মন্ত্রণালয়ের অধীনে শত শত প্রতিষ্ঠান এবং কোম্পানি, শিল্প, দাপ্তরিক সংস্থা আছে। আমরা পর্যায়ক্রমে কম্পিউটার সিস্টেম ট্রান্সফার করতে পারলে এবং তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে পারলে অত্যন্ত্ম দ্রম্নতগতিতে মানুষের দুর্ভোগ অনেকটা লাঘব হতো এবং এক বছরের কাজ আমরা হয়তো ৫-৬ দিনের মধ্যে সমাপ্ত করতে পারতাম।

বিশ্বের তথ্যভা-ার যে কোনো স্থানে যে কোনো সময়ে আদান-প্রদান ও ভাগাভাগি করা অতি দ্রম্নতগতিতে সম্ভব : ইন্টারনেটের কল্যাণে বিশ্ব আজ হাতের মুঠোয়। বিভিন্ন ইন্টারনেটভিত্তিক মেসেজিং অ্যাপ যেমন, হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, স্কাইপি, ইমোর কল্যাণে পৃথিবীর যে কোনো প্রান্ত্মে আজ যোগাযোগ সহজতর হয়েছে। ৪এ/৫এ-এর কল্যাণে অতি দ্রম্নত তথ্য আদান-প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে। শহর থেকে প্রত্যন্ত্ম গ্রাম-গঞ্জে এখন হাইস্পিড ইন্টারনেট সুবিধা পাওয়া সম্ভব হচ্ছে। গুগল ড্রাইভ, ড্রপবক্স ইত্যাদির মাধ্যমে বড় বড় ফাইল নিমেষেই যে কোনো স্থানে পাঠানো সম্ভব।

মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ৪এ সংযোগ করে চলন্ত্ম অবস্থায় বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত্মে অডিও-ভিডিও, ডাটা ও তথ্য আদান-প্রদান : ৪এ ও আসা ৫এ-এর কল্যাণে হাইস্পিড ইন্টারনেট সংযোগ এখন হাতে হাতে পৌঁছে গেছে। বর্তমান ৩এ-এর থেকে ১০ গুণ দ্রম্নতগতিসম্পন্ন হচ্ছে ৪এ মোবাইল ইন্টারনেট ধীরগতির জন্য অনেক কাজ আগে চলন্ত্ম অবস্থায় করা যেত না, কিন্তু ৪এ-এর সুবাদে আজ ব্রডব্যান্ডের সমতুল্য বা তার থেকেও বেশি গতিসম্পন্ন ইন্টারনেট আজ হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। এরপর ৩১ পৃষ্ঠায়

১৭ পৃষ্ঠার পর

বিশ্বের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণে সিকিউরিটি সিস্টেম
ইলেক্ট্রনিক ভোট কাউন্টিং সিস্টেম জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহার করলে অত্যন্ত্ম দ্রম্নত ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব। কিন্তু ইলেক্ট্রনিক ভোট কাউন্টিং মেশিন এবং তার সফটওয়্যার তৈরি করে হাই সিকিউরিটি যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে না দেয়া হয়, তাহলে ইলেক্ট্রনিক ভোট কাউন্টিং মেশিনের গণনার তথ্য বিভিন্ন দিকে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সুতরাং সেটি যাতে না করা যায় তার জন্যই হাইসিকিউরিটি প্রয়োজন (ড. রফিকুল ইসলাম শরীফ, যুগান্ত্মর, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ভোটার আইডি কার্ড, ২৫ ফেব্রম্নয়ারি ২০০৭)।
বর্তমান বিশ্বে অর্থনৈতিক লেনদেন মূলত অনলাইনের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিনিয়ত কোটি কোটি টাকার লেনদেন ইন্টারনেটের মাধ্যমে সম্পাদিত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে যদি হাইসিকিউরিটি দেয়া সম্ভব না হয়, তবে প্রচুর পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ হতে পারে।
সাম্প্র্র্রতিককালে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক রিজার্ভ থেকে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ চুরি হয়েছে তা হাইসিকিউরিটি না থাকার কারণে।
বিশ্বের সব লোকের কথা, ছবি ও চলন্ত্ম দৃশ্য শনাক্ত করার কৌশল, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বের সব মানুষের কথা, ছবি ও চলন্ত্ম দৃশ্য জমা রাখা ও শনাক্ত করার কাজ চলছে। এটি করতে পারলে বিশ্বের মানুষের মধ্যে আরও সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব।

বিশ্বের কোনো ভাষাকে তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল টেকনোলজির মাধ্যমে অন্য ভাষায় রূপান্ত্মর করা
এর কাজ অনেক এগিয়ে চলছে। ভাষা রূপান্ত্মরের মাধ্যমে অন্য ভাষায় কথা বলা, পড়া ও লেখার সুযোগ সৃষ্টি হলে মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব আরও গভীর হবে।

অটোমেশন পদ্ধতিতে কোনো ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ ও সক্রিয়ভাবে পরিচালনা করানো
বর্তমানে অনেক পণ্য রোবটের সাহায্যে তৈরি হচ্ছে। অনেক যানবাহন ও গাড়ি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালিত হচ্ছে। আমরা অনেক পণ্য ও ওষুধ স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে উৎপাদন করে তার মান নিয়ন্ত্রণ ও বিশ্ববাজারে রপ্তানি করতে পারি।
আমরা এখন থেকে প্রতিটি কাজ তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে রেকর্ড তৈরি করে সংরক্ষণ করতে পারি।
আমাদের সমস্যা বহু ধরনের। গুরম্নত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে বাস্ত্মবায়নের জন্য দক্ষ জনশক্তি, বিশেষজ্ঞ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিদদের সহযোগিতার মাধ্যমে সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করা উচিত। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে প্রবেশের সুযোগ পাওয়ার জন্য সব বাংলাদেশি গর্বিত।
প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার দর্শন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তখনই সম্পন্ন করা সম্ভব, যখন দেশপ্রেমিক জনগণ তাদের উৎসাহ, আগ্রহ ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের এ বিষয়ে আত্মনিয়োগ করবে।

প্রফেসর ড. রফিকুল ইসলাম শরীফ
আইসিটি বিশেষজ্ঞ
উপাচার্য, ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ (ইউডা)
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
-এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close