স্বপ্ন থেকে বাস্ত্মবতায় ডিজিটাল বাংলাদেশডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর কেবল স্বপ্ন নয়। তথ্যপ্রযুক্তির বাহনে চড়ে দুরন্ত্ম গতিতে দেশজুড়ে ছড়িয়ে যাচ্ছে ডিজিটাল সেবা। দুর্গম প্রান্ত্মিক এলাকার পিছিয়ে পড়া জনসাধারণ থেকে শুরম্ন করে শহুরে জীবনেও লেগেছে ডিজিটাল স্পর্শ। ফলে ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন যাপিত জীবনকে বদলে দেয়া এক সফল অভিযাত্রার নাম। নিম্ন আয়ের দেশ থেকে মাত্র সাড়ে ছয় বছরের ডিজিটাল এই কর্মযজ্ঞে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উত্তীর্ণ হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্ত্মবায়নের সফল গল্পটি আন্ত্মর্জাতিক অঙ্গনেও উদাহরণ হিসেবে টানা হচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচির প্রশংসা করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।হাসান জাকির ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর কেবল স্বপ্ন নয়। তথ্যপ্রযুক্তির বাহনে চড়ে দুরন্ত্ম গতিতে দেশজুড়ে ছড়িয়ে যাচ্ছে ডিজিটাল সেবা। দুর্গম প্রান্ত্মিক এলাকার পিছিয়ে পড়া জনসাধারণ থেকে শুরম্ন করে শহুরে জীবনেও লেগেছে ডিজিটাল স্পর্শ। ফলে ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন যাপিত জীবনকে বদলে দেয়া এক সফল অভিযাত্রার নাম। নিম্ন আয়ের দেশ থেকে মাত্র সাড়ে ছয় বছরের ডিজিটাল এই কর্মযজ্ঞে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উত্তীর্ণ হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্ত্মবায়নের সফল গল্পটি আন্ত্মর্জাতিক অঙ্গনেও উদাহরণ হিসেবে টানা হচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচির প্রশংসা করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সাফল্য তুলে ধরে বক্তব্য দিয়েছেন বিশ্বসেরা সফটওয়্যার কোম্পানি মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। ইন্টারনেট ডট ওআরজি কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা চালু করায় নিজের স্ট্যাটাসে বাংলাদেশকে তুলে ধরেছেন ফেসবুকের কর্ণধার মার্ক জাকারবার্গ।
২০০৮ সালের ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচনী ইশতেহারে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের ঘোষণার মধ্য দিয়ে ডিজিটাল শব্দটির সঙ্গে আমাদের ব্যাপক পরিচিতি ঘটে। নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পর ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শুরম্ন হয় ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার কার্যক্রম। 'জনগণের দোরগোড়ায় ডিজিটাল সেবা' স্স্নোগানে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনিমার্ণের লক্ষ্যে 'ভিশন ২০২১' ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। দেশে চালু হয় থ্রিজি। এরপর ফোরজি। দ্রম্নত বাড়তে থাকে সেলফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। মোবাইল ফোন গ্রাহক ইতোমধ্যে ১৪ কোটির মাইলফলক (বিটিআরসি সূত্র মতে, গত ফেব্রম্নয়ারি পর্যন্ত্ম ১৪ কোটি ৮৭ লাখ ৬৯ হাজার) ছাড়িয়েছে। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীও ইতোমধ্যে আট কোটি ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে সেলফোন থেকেই প্রায় ৭ কোটি ৭৫ লাখ গ্রাহক ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। ইন্টারনেট ব্যবহার সাশ্রয়ী করতে দফায় দফায় ব্যান্ডউইথের দাম কমিয়েছে সরকার। ২০০৪ সালে যে এক এমবিপিএস ব্যান্ডউইথের দাম ছিল ৭২ হাজার টাকা তা এখন ৬২৫ টাকায় নেমে এসেছে! প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের গ্রাহকরা এই দামে ব্যান্ডউইথ পাচ্ছেন। যদিও প্রতি এমবিএস ৬২৫ টাকার মধ্যে শুভংকরের ফাঁকি রয়েছে। তবুও ক্রমান্বয়ে ইন্টারনেটের দাম গ্রাহকের ক্রয়সীমার মধ্যে নিয়ে আসার এই প্রচেষ্টার সুফল মিলতে শুরম্ন করেছে। এখন সেলফোনের মতো ইন্টারনেট ব্যবহারকারীও বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে দিতে আইসিটি ডিভিশন বাংলা গভনেট এবং ইনফো সরকার কর্মসূচি বাস্ত্মবায়ন করছে। বিটিআরসিও দেশের প্রান্ত্মিক পর্যায়ে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ছড়িয়ে দিতে কর্মসূচি বাস্ত্মবায়ন করছে। আশা করা হচ্ছে, এ প্রকল্প বাস্ত্মবায়ন হলে দেশজুড়ে সুলভে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সুবিধা পাওয়া যাবে।
২০১০ সালে চালুর পর মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নীরব বিপস্নব সংঘটিত হয়ে চলেছে। দেশে বর্তমানে পাঁচ কোটিরও বেশ নিবন্ধিত মোবাইল ব্যাংকিং গ্রাহক রয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে হাজার কোটি টাকা এ খাতে লেনদেন হচ্ছে। সেলফোনের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনে সত্যিকার অর্থেই মোবাইল ব্যাংকিং যুগান্ত্মকারী ভূমিকা রাখছে। আর এই মোবাইল ব্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বিল গেটস। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এ সাফল্যে সম্প্রতি বিকাশ-এ বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেছে চীনের বিখ্যাত ইন্টারনেট কোম্পানি আলীবাবা গ্রম্নপ।
ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্ত্মবায়ন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে ২০১০ সালের শেষ দিকে বিজ্ঞান ও তথ্যযোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে ভেঙে দুটি আলাদা মন্ত্রণালয় করার মতো যুগান্ত্মকারী সিদ্ধান্ত্ম বাস্ত্মবায়ন করা হয়েছে। এখন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাক্সেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) নানা উদ্যোগের মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রেখে চলেছে। বিশেষ করে আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বে অভিজ্ঞ ডাক ও টেলিযোগযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্ত্মাফা জব্বার এবং তরম্নণ আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্যতম প্রতিনিধি হিসেবে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের কর্মযজ্ঞটি এগিয়ে নিচ্ছেন।
জনগণের দোরগোড়ায় সেবা
ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্ত্মবায়নে হয়রানি এবং সময়ক্ষেপণ রোধে সরকারি সেবা সহজে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার অঙ্গীকার এই আট ছয় বছরে যথেষ্টই পূরণ হয়েছে বলা যায়। এক্ষেত্রে দেশের প্রান্ত্মিক এলাকায় তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সরকারি নানা সেবা পৌঁছে দেয়ার সাফল্য ঈর্ষণীয়। আর এ কাজটিতে বড় ভূমিকা রেখে চলেছে 'ডিজিটাল সেন্টার'। প্রান্ত্মিক জনগোষ্ঠীর কাছে সরকারি সেবা নিয়ে যেতে ২০১০ সালের ১১ নভেম্বর দেশের ৪৫৪৭ ইউনিয়নে চালু হয় 'ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র' যা বর্তমানে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার নামে পরিচিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে একযোগে এসব ডিজিটাল সেন্টার উদ্বোধন করেন। নারীর ক্ষমতায়নে প্রতিটি ডিজিটাল সেন্টারে একজন পুরম্নষ উদ্যোক্তার সঙ্গে একজন নারী উদ্যোক্তা রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়। ডিজিটাল সেন্টার বাস্ত্মবায়নকারী সংস্থা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকেস টু ইনফরমেশনের (এটুআই) তথ্য মতে, এসব সেবাকেন্দ্রে কম্পিউটার কম্পোজ থেকে শুরম্ন করে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন বিদ্যালয়-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সংক্রান্ত্ম তথ্য, ভর্তি ফরম পূরণ, জন্ম নিবন্ধন, বীমা, মোবাইল ব্যাংকিং, কৃষি কাজের জন্য মাটি পরীক্ষা ও স্যারের সুপারিশ, বিদু্যৎ বিল পরিশোধ, ডাক্তারি পরামর্শসহ দৈনন্দিন ৬০ ধরনের সেবা পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি নির্বাচিত কিছু ডিজিটাল সেন্টার থেকে পাসপোর্ট ও ভিসার আবেদন কার্যক্রম শুরম্ন হয়েছে। অধিকাংশ সেন্টারে চালু হয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা। ডিজিটাল সেন্টারে হেলথ ক্যাম্পও চালু হয়েছে। বিদেশে গমেনেচ্ছু ২০ লাখ ২২ হাজার ৪৩৬ জন শ্রমিক অনলাইনে ডিজিটাল সেন্টারে নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে বড় একটি সংখ্যা নারীও রয়েছেন। ফলে দেখা যাচ্ছে, ডিজিটাল সেন্টার তৃণমূল সেবার হাব হিসেবে গড়ে উঠেছে। কেমন চলছে ডিজিটাল সেন্টারের কার্যক্রম তা সরেজমিন পর্যবেক্ষণে রাজধানীর কর্মব্যস্ত্ম নগরী থেকে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার দূরে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে যাওয়া হয়েছিল। শহরের কোলাহলবিহীন এই প্রান্ত্মিক এলাকার ছোট্ট একটি কক্ষে ডেস্কটপ পিসি, ল্যাপটপ, স্ক্যানার, ফটোকপিয়ার মেশিন আর উজ্জ্বল হোসেন নামে এক তরম্নণের হাস্যোজ্জ্বল মুখের দেখা মেলে। এখানে কেউ উজ্জ্বলের কাছে আসছেন নোট ফটোকপি করতে, কারও ভর্তি ফরম পূরণের কাজ, কেউ এসেছেন জমির পর্চা করার জন্য। এখানে নারী উদ্যোক্তা হিসেবে উজ্জ্বলের সঙ্গে আছেন নওরিন। এখানে তারা আউটসোর্সিংয়ের কাজও করেন। তারা জানেন অনলাইন মার্কেটপেস্নস থেকে কীভাবে কাজ নিতে হয়, কীভাবে আয় করতে হয়। ডিজিটাল সেন্টার থেকে তাদের মাসে আয় এক লাখ টাকারও বেশি! ইউনিয়ন পরিষদের পর দেশের ১১টি সিটি করপোরেশনে ৪০৭টি ডিজিটাল সেন্টার ও ৩২১টি পৌরসভাতে ডিজিটাল সেন্টার চালু করা হয়েছে। আইসিটি ডিভিশন এবং এটুআই'র মতে, প্রতি মাসে গড়ে ৪০ লাখ মানুষ এসব কেন্দ্র থেকে সেবা নিচ্ছে। এটুআই'র হিসাবে ডিজিটাল সেন্টার থেকে উদ্যোক্তারা ইতোমধ্যে আয় করেছেন ১৪০ কোটি টাকা। ডিজিটাল সেন্টার ছাড়াও জনগণের তথ্যক্ষুধা মেটাতে বাংলা ভাষায় চালু হয়েছে জাতীয় ই-তথ্যকোষ (িি.িরহভড়শড়ংয.নধহমষধফবংয.মড়া.নফ). জাতীয় ই-তথ্যকোষে রয়েছে কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইন-মানবাধিকার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অকৃষি উদ্যোগ, পর্যটন, কর্মসংস্থান, নাগরিক সেবা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত্ম নানা তথ্য।
হতথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা নয় বরং শিক্ষায় তথ্যপ্রযুক্তি স্স্নোগানে ২৩ হাজার ৩৩১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এবং এক হাজার ৭০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্ডিমিডিয়া ক্লাসরম্নম চালু করা হয়েছে। মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট তৈরিতে ৫০ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে এবং এক হাজার ২০০ মাস্টার-ট্রেইনার তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষার বইয়ের ই-বুক সংস্করণ (িি.িবনড়ড়শ.মড়া.নফ) এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল মাল্ডিমিডিয়া টকিং বুক তৈরি করা হয়েছে। শিক্ষকদের কনটেন্ট শেয়ারিংয়ের জন্য চালু করা হয়েছে শিক্ষক বাতায়ন। এছাড়া মাধ্যমিক পর্যায়ে কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগগুলো শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে দারম্নণ ভূমিকা রাখছে।
ই-গভর্নমেন্ট :
সরকারি উদ্যোগে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ওয়েবসাইট 'জাতীয় তথ্য বাতায়ন' চালু হয়েছে। এতে যুক্ত হয়েছে মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, জেলা. উপজেলা ও ইউনিয়নের ২৫ হাজারেরও বেশি ওয়েবসাইট। এসব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সংশিস্নষ্ট অফিসের নানা কার্যক্রম সম্পর্কে জানা যাচ্ছে।
২০১১ সালের ১৪ নভেম্বর দেশের সব জেলায় জেলা ই-সেবাকেন্দ্র চালু করা হয়েছে। বর্তমানে অনলাইনেই জেলা প্রশাসনের অধীনের দুই শতাধিক সেবা দেয়া হচ্ছে। জেলা ই-সেবাকেন্দ্রের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১০ লক্ষাধিক সেবা প্রদান করা হয়েছে। দালালদের উৎপাত ছাড়াই ই-সেবাকেন্দ্র থেকে তিন দিনের মধ্যে জমির পর্চাসহ বিভিন্ন সেবা পাওয়া যাচ্ছে। এখন জেলা পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা অসৎ উদ্দেশ্যে ফাইল আটকে রাখতে পারছেন না। কেননা কেন্দ্রীয় সার্ভারের মাধ্যমে বিভিন্ন সেবা প্রদানে তথ্য তৃণমূল কর্মকর্তা থেকে জেলা প্রশাসক হয়ে এটুআই পর্যন্ত্ম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোনো ফাইল কোনো ডেস্কে আটকা থাকলেই কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হচ্ছে। অনলাইনে দরপত্র জমা দিতে ঠিকাদারদের জন্য চালু করা হয়েছে ই-প্রকিউরমেন্ট [িি.িবঢ়ৎড়পঁৎব.মড়া.নফ]। এখন অনেক মন্ত্রণালয় অনলাইনে দরপত্র আহ্বান করছে। এতে টেন্ডার বাণিজ্য রোধে এ ধরনের উদ্যোগ ভূমিকা রাখছে। আদালতের কার্যক্রমকে ডিজিটালাইজ করতে চালু হয়েছে মোবাইল কোর্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। স্বল্প পরিসরে চালু হওয়া এ উদ্যোগের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালতের যাবতীয় ডকুমেন্ট অনলাইনে সংরক্ষণ এবং ব্যবহারের জন্য রাখা হচ্ছে। ভূমি মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন ও এটুআই প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগে সকল রেকর্ড এসএ, সিএস, বিআরএস ও খতিয়ান কপি ডিজিটালাইজড করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি খতিয়ান ডিজিটালাইজড করা হয়েছে। আর এর সুফলও পাচ্ছে প্রান্ত্মিক মানুষ। দালাল কিংবা ফড়িয়াদের মতো তৃতীয় পক্ষের দৌরাত্ম্য এড়িয়ে ৩০ লাখ রেকর্ড ডিজিটাল সিস্টেমে দেয়া হয়েছে।
সরকারি অফিসে দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে এবং কর্মযজ্ঞ সম্পাদন প্রক্রিয়া গতিময় করতে জনবান্ধব ই-ফাইলিং সিস্টেম চালু হয়েছে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ, মন্ত্রণালয়-বিভাগ-অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং বিভাগীয় কমিশনারের অফিসে ই-ফাইলিং সিস্টেম চালু করা হয়েছে।
এরপর ২০ পৃষ্ঠায়


০০ পৃষ্ঠার পর

সরকারি নানা কার্যক্রম ডিজিটালাইজড করার ফলে তৈরি হওয়া ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণে আইসিটি ডিভিশনে টায়ার-থ্রি ডাটা সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। টায়ার-ফোর ডাটা সেন্টার স্থাপনে কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্ত্মবায়নে অন্যতম লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে পেপারলেস অফিস যা নিশ্চিত করতে পারে এই ই-ফাইলিং সিস্টেম। তবে সরকারি নানা কাজে কাগজের ব্যবহার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু কাজটি করা গেলে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্ত্মবায়নে এটি নিঃসন্দেহে বড় ধরনের সাফল্য হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।
সফটওয়্যার ও আইটিএস খাতে সাফল্য
দেশের সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবায় এক ধরনের নীরব বিপস্নব সংঘটিত হয়ে চলেছে। অমিয় সম্ভাবনাময় এই খাতটির বিকাশে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতও উলেস্নখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। এ খাতটিকে এগিয়ে নিতে বিশেষ গুরম্নত্ব দিচ্ছে সরকার। তথ্য ও যোগযোগ প্রযুক্তি বিভাগ সফটওয়্যার খাত থেকে চলতি বছর এক বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে দেশের সফটওয়্যার খাতের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড সার্ভিসেস (বেসিস)। ২০১২ সালের মধ্যে এ খাত থেকে সরকার পাঁচ বিলিয়ন ডলার আয় করতে চায়।
লক্ষ্য বাস্ত্মবায়নে সফটওয়্যার ও আইটিইএস খাতে নতুন নতুন ডেভেলপার তৈরি, ছোট ছোট সফটওয়্যার কোম্পানিকে প্রণোদনা প্রদান, দেশের শীর্ষ শিল্প উদ্যোক্তাদের আইসিটি খাতে সম্পৃক্ত করা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও বাজার তৈরির ওপর গুরম্নত্ব দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে এসব উদ্যোগের ফল পাওয়া যাচ্ছে। রপ্তানি আয় বৃদ্ধির সাফল্য দেশের তরম্নণ ডেভেলপারদের দিতেই হবে। অনেকেই ব্যক্তি উদ্যোগ কিংবা ছোট পরিসরে বড় কোনো বিনিয়োগ ছাড়াই সফটওয়্যার এবং সংশিস্নষ্ট সেবানির্ভর পণ্য তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশে এ খাতের বিভিন্ন পণ্য ও সেবা রপ্তানি হচ্ছে। সফটওয়্যার খাতের নতুন বাজার তৈরিতেও কাজ করে যাচ্ছে সরকার। দক্ষ জনবল তৈরিতে বেশ কিছু কর্মসূচি ও প্রকল্প বাস্ত্মবায়ন করছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। এর মধ্যে লিভারেজিং আইসিটি ফর গ্রোথ অ্যান্ড ইমপস্নয়মেন্ট (এলআইসিটি), লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রকল্প, জাতীয় মোবাইল অ্যাপস ডেভেলপ কর্মসূচি, ফ্রিল্যান্সারদের সফল উদ্যোক্তা রূপান্ত্মরে 'ফ্রিল্যান্সার টু এন্টারপ্রেনার' কর্মসূচি উলেস্নখ করা যেতে পারে।
দেশের তরম্নণ মেধাবী শিক্ষার্থীরা মাইক্রোসফট, গুগল, ফেসবুকের মতো বিশ্বসেরা প্রযুক্তি কোম্পানিতে আকর্ষণীয় বেতনের চাকরি পাচ্ছেন। শুধু বুয়েটের শিক্ষার্থীরা নয়; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নর্থ সাউথ ও এমেরিকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ-এর শিক্ষার্থীরাও এসব প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ পাচ্ছে। তবে দক্ষ জনবল তৈরির পাশাপাশি দেশেই তাদের জন্য কাজের সুযোগ তৈরিতেও উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমেও তরম্নণ উদ্যোক্তা ডেভেলপাররা সফটওয়্যারভিত্তিক সেবা বিপণন করে আন্ত্মর্জাতিক বাজার থেকে অর্থ আয় করছে। অঙ্কের হিসাবে আউটসোর্সিং খাত থেকেও আয়ের পরিমাণ বেশ ঈর্ষণীয় বলা যায়। তবে সুনির্দিষ্ট ডাটা না থাকায় সঠিক আয়ের পরিমাণ উলেস্নখ করা যাচ্ছে না।
আমরা দেখতে পাচ্ছি, তুলনামূলক কম বাজেটে ভালো কাজ করিয়ে নিতে পারার কারণে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির প্রতি আগ্রহী হচ্ছে। ভারত, চীন এবং ফিলিপাইনের মতো দেশের তুলনায় বাংলাদেশে কাজ করা অনেক ব্যয়সাশ্রয়ী। তবে সেবার দিক থেকে আমাদের দেশের তৈরি সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা অন্যান্য দেশের মতোই সমমানের কিংবা তার থেকেও ভালো। অথচ আমাদের দেশেরই সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হাজার কোটি টাকার বিনিময়ে বিদেশ থেকে এ জাতীয় পণ্য ও সেবা আমদানি করা হচ্ছে। বিদেশি অর্থায়নে সরকারি আইসিটি প্রকিউরমেন্টে বিদেশি দাতা সংস্থাগুলো এমন সব কঠিন শর্ত জুড়ে দেয়, যা শুধু বৃহৎ বিদেশি কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণে সহায়তা করে এবং দেশীয় কোম্পানিগুলো অংশগ্রহণে ব্যর্থ হয়। ফলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এসব টাকা বিদেশে চলে যায়। অথচ সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের অনেক দেশের নীতিমালা ও আইনেই বলা আছে, পাবলিক প্রকিউরমেন্টের নূ্যনতম ৫০ শতাংশ দেশি কোম্পানিকে দিয়ে করাতে হবে। তাই দেশীয় ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দিতে আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন প্রয়োজন। এর ফলে আমরা প্রতি বছর কয়েকশ মিলিয়ন ডলারের সফটওয়্যার আমদানি না করে স্থানীয় সফটওয়্যার ব্যবহার ও আরও শক্তিশালী আইসিটি ইন্ডাস্ট্রি তৈরি করতে পারব। আর একটি সুখবর হচ্ছে, ইতোমধ্যে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ আসতে শুরম্ন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির শীর্ষস্থানীয় বিনিয়োগকারী কোম্পানি ফেনক্স ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, সুইজারল্যান্ডের ইনভেস্টমেন্ট এবি কিনেভিক, নরওয়ের এসএনটি ক্লাসিফায়েডস, রকেট ইন্টারনেট, সিকসহ বিশ্বের বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানি ও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করছে। এছাড়া স্থানীয় বড় বড় গ্রম্নপ অব কোম্পানি দেশের আইসিটি খাতে বিনিয়োগ করবে। তবে সহজে বহির্বিশ্বের উদ্যোক্তারা যেন আমাদের এখানে বিনিয়োগ করতে পারে এজন্য ভেঞ্চার ক্যাপিটাল পলিসি তৈরি জরম্নরি। সরকার বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। সংশিস্নষ্টরা প্রত্যাশা করছেন, দ্রম্নত নীতিমালাটি প্রণীত হবে। আর সেটি হলে হাজার কোটি ডলারের সফটওয়্যার বাজারে আমাদের সম্মানজনক অবস্থান সহজেই তৈরি হবে।

সফটওয়্যার ও আইটি পার্ক
দীর্ঘদিন ধরে সফটওয়্যার ও আইটি পার্ক তৈরিতে কাজ করছে সরকার। দেশের ২৮টি সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি জেলায় আইটি পার্ক তৈরির পরিকল্পনাও শোনা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে যশোর শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, রাজধানীর কারওয়ান বাজারের জনতা টাওয়ার সফটওয়্যার পার্ক পূর্ণাঙ্গরূপে এবং গাজীপুরে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি স্বল্প পরিসরে চালু হয়েছে।
নানা ঘোষণা এলেও হতাশার কথা হচ্ছে, এখনো সরকারি পর্যায়ে একটি সফটওয়্যার পার্কও চালু করা যায়নি। তবে যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের কার্যক্রম দ্রম্নত এগিয়ে চলছে। গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কেও কয়েকটি বস্নক ইতোমধ্যে লিজ দেয়া হয়েছে। অ্যাকসেঞ্চারসহ দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সফটওয়্যার পার্ক ঘোষণা করা হয়েছে। মহাখালী আইটি ভিলেজ, বরেন্দ্র সিলিকন সিটি রাজশাহী, ইলেক্ট্রনিক সিটি সিলেট, চন্দ্রদীপ ক্লাউড চর, জনতা সফটওয়্যার পার্ক, চুয়েট আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর আমাদের আশান্বিত করে। তবে হাইটেক পার্ক ও সফটওয়্যার পার্ক তৈরি এখনো সময়সাপেক্ষই বলে মনে হয়। ফলে বিকল্প হিসেবে আইসিটি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সার্বক্ষণিক বিদু্যৎ এবং ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করে বিশেষায়িত পার্ক করা যায় কিনা ভেবে দেখা যেতে পারে। ঢাকার ভেতরে কিংবা আশপাশে ছোট ছোট বাড়ি খুঁজে বের করে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে সফটওয়্যার পার্ক হিসেবে ঘোষণা দেয়া যেতে পারে। রাজধানীর আইডিবি কিংবা এলিফেন্ট রোডে যদি বিশেষায়িত কম্পিউটার মার্কেট চালু করা যায়, তবে সফটওয়্যার পার্ক নয় কেন? এজন্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। এটি করা গেলে আন্ত্মর্জাতিক পরিসরে দেশের ব্র্যান্ডিং যেমন সহজ হবে তেমনি নতুন বিনিয়োগকারীরাও আকৃষ্ট হবে। অর্জিত হবে লক্ষ্যমাত্রা। এসব হাইটেক পার্ক এবং সফটওয়্যার পার্কে প্রতিষ্ঠিত উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি স্বপ্নভুক তরম্নণ উদ্যোক্তাদেরও জায়গা করে দিতে হবে। কেননা, এসব প্রতিভাবান তরম্নণ উদ্যোক্তার মধ্যেই হয়তো লুকিয়ে আছে ভবিষ্যতের বিল গেটস কিংবা জাকারবার্গ!
ভবিষ্যতের বাংলাদেশ
'ভিশন ২০২১' বাস্ত্মবায়নে 'জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নীতি ২০১৫' এর আলোকে সুনির্দিষ্ট একটি রূপকল্প, ১০টি উদ্দেশ্য, ৫৪টি কৌশলগত বিষয় এবং ২৩৫টি করণীয় নির্র্ধারণ করা হয়েছে। করণীয় বাস্ত্মবায়নে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। স্বল্পমেয়াদি ২০১৬ সাল, মধ্যমেয়াদি ২০১৮ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ২০২১ সালের মধ্যে বাস্ত্মবায়ন করা হবে। তথ্যপ্রযুক্তির সম্প্রসারণ ও বহুমুখী ব্যবহারের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক সরকার প্রতিষ্ঠা, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, সুলভে জনসেবা নিশ্চিতকরণ এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাস্ত্মবায়নাধিক উদ্যোগ তদারক দায়িত্ব পালন করবে আইসিটি বিভাগ। এর মধ্যে ২০১৮ সালের মধ্যে ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্টার প্রণয়ন, একই সময়ের মধ্যে টেলিঘনত্ব শতভাগ অর্জন, ২০২১ সাল নাগাদ সারাদেশে ১০ এমবিপিএস গতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিতকরণ, প্রতিবন্ধীদের জন্য সব সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ নিশ্চিতকরণ, সারাদেশে সমব্যয়ে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেয়া এবং ২০২১ সালের মধ্যে সারাদেশে তারবিহীন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা চালু উলেস্নখযোগ্য। এছাড়া কৃষিপণ্যের মূল্য সেলফোন ও অনলাইনে সরবরাহের ব্যবস্থাকরণ, সরকারি সব প্রতিষ্ঠানে আইসিটি সেল স্থাপন করা, সব সরকারি-বেসরকারি চাকরির জব ব্যাংক তৈরি করা হবে।
নতুন আইসিটি নীতির আলোকে ২০২১ সালের মধ্যে ওয়ার্ড ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায়ে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন এবং ২০২১ সালের মধ্যে দেশের সব লাইব্রেরিতে ই-সেবা ও ই-বুক তৈরির কার্যক্রম সম্পন্ন হবে, আইসিটি শিল্প উন্নয়ন তহবিল গঠন, আইসিটি খাতের প্রতিষ্ঠানের মান নিয়ন্ত্রণে আলাদা কর্তৃপক্ষ গঠন, সাইবার অপরাধ দমনে আইসিটি বিভাগের তত্ত্বাবধানে সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি গঠন, সাইবার অপরাধ ও মেধাস্বত্ব লঙ্ঘনের বিচারে বিশেষ ট্রাইবু্যনাল গঠন করা হবে বলে উলেস্নখ করা হয়েছে। এছাড়া ইলেকট্রনিক লেনদেন সহজ ও নিরাপদ করতে নতুন আইন, তথ্য আদান-প্রদানে বিশেষায়িত হাসপাতালগুলো একক নেটওয়ার্কের আওতায় সংযুক্তকরণ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ভিডিও কনফারেন্সিং ব্যবস্থা চালু, সরকারি হাসপাতালের সেবার তথ্য অনলাইনভিত্তিক করার কথা বলা হয়েছে। আগামী বছর নাগাদ অনলাইনভিত্তিক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটালকরণ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অনলাইন নিবন্ধন কার্যক্রম চালু, দুর্নীতি দমন কমিশনের সব কার্যক্রম অটোমেশনের আওতায় আনা হবে বলেও উলেস্নখ করা হয়েছে। তবে এসব পরিকল্পনার মধ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটি হচ্ছে নারী জনবল ৫০ ভাগে উন্নীতকরণ। অন্যান্য পরিকল্পনার সঙ্গে এটিও বাস্ত্মবায়ন সম্ভব হলে ২০২১ সাল নাগাদ এসব উদ্যোগ বাস্ত্মবায়ন করা গেলে নিম্ন মধ্য আয়ের বাংলাদেশ থেকে উন্নত বাংলাদেশে উন্নীত হতে আরও ২০ বছর অপেক্ষা করতে হবে না বলেই মনে হয়।

হাসান জাকির : সাংবাদিক
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
-এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close