আউটসোর্সিংয়ে সমৃদ্ধ হবে অর্থনীতিবিশ্বায়নের এই যুগে প্রযুক্তিনির্ভর যেসব ব্যবসা বিশ্বে বেশ আলোচিত তার মধ্যে অন্যতম হলো আউটসোর্সিং, বিজনেস প্রসেস আউসোর্সিং, ডিপিও বা ডকুমেন্ট প্রসেস আউটসোর্সিং ও কল সেন্টার ধারণা প্রভৃতি। সঠিকভাবে আউটসোর্সিংয়ের শিক্ষা অর্জন করতে পারলে দেশের যুবসমাজকে জনশক্তিতে রূপান্ত্মর করা সম্ভব। বিপুল সম্ভাবনাময় এই খাত থেকে দেশে আনা সম্ভব বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স। দেশের প্রতিটি মানুষ যখন প্রযুক্তির সুবিধা ভোগ করবে তখনই ডিজিটাল বাংলাদেশের পূর্ণতা পাবে আউটসোর্সিংয়ে আছে সৃজনশীলতা, আছে স্বাধীনতা।শিবশংকর দেবনাথ (প্রিন্স) বিশ্বায়নের এই যুগে প্রযুক্তিনির্ভর যেসব ব্যবসা বিশ্বে বেশ আলোচিত তার মধ্যে অন্যতম হলো আউটসোর্সিং, বিজনেস প্রসেস আউসোর্সিং, ডিপিও বা ডকুমেন্ট প্রসেস আউটসোর্সিং ও কল সেন্টার ধারণা প্রভৃতি। সঠিকভাবে আউটসোর্সিংয়ের শিক্ষা অর্জন করতে পারলে দেশের যুবসমাজকে জনশক্তিতে রূপান্ত্মর করা সম্ভব। বিপুল সম্ভাবনাময় এই খাত থেকে দেশে আনা সম্ভব বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স। দেশের প্রতিটি মানুষ যখন প্রযুক্তির সুবিধা ভোগ করবে তখনই ডিজিটাল বাংলাদেশের পূর্ণতা পাবে আউটসোর্সিংয়ে আছে সৃজনশীলতা, আছে স্বাধীনতা।
যদিও বাংলাদেশ আউটসোর্সিংয়ের জগতে অনেক দেরিতে প্রবেশ করেছে, তবুও এই সেক্টর থেকে কম সফলতা আসেনি। নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও দেশের তরম্নণ মেধাবীরা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। মেধা, অধ্যবসায় এবং শ্রম দিয়ে মূল্যবান বৈদেশিক অর্জনে ভূমিকা রাখছেন।

আউটসোর্সিং কী?
আমেরিকার একজন কর্মী এক ঘণ্টা শ্রমের বিনিময়ে কমপক্ষে ৮ ডলার পান (এটা আমেরিকার সর্বনিম্ন মজুরি)। যা বাংলাদেশি টাকায় ৬৪০ টাকা (কম-বশিও হতে পারে)। কিন্তু আমাদের দেশের একজন শ্রমিক দেশে কাজ করে প্রতিঘণ্টায় কত টাকা পান বা পেয়ে থাকেন? ৫০ টাকা? না কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরও অনেক কম। এমন অনেক শ্রমিক আছেন যারা ৮ ঘণ্টা কাজ করেও আমেরিকার ১ ঘণ্টায় যা পাওয়া যায় তা পান না। এই ভারসাম্যের প্রধান কারণ মূলত আমাদের অর্থাৎ বাংলাদেশ এবং আমেরিকার অর্থনীতির তারতম্য।
ফলে সহজেই আমেরিকার যে কারো ইচ্ছে বাংলাদেশের শ্রমিক দিয়ে কোনো কাজ করানোর। এতে তারা অনেকাংশেই লাভবান হয়ে থাকেন। আর বাংলাদেশ থেকে যিনি আমেরিকার কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোনো কাজ করে দেন তাহলে বাংলাদেশের ব্যক্তিও লাভবান হন।

আউটসোর্সিংয়ে বাংলাদেশের সম্ভাবনা
ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো ১২ ঘণ্টা টাইম জোনে অর্ন্ত্মভুক্ত। তাই যখন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপে রাত তখন বাংলাদেশে দিন; ফলে প্রায় ২৪ ঘণ্টাই কাজ করার সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশ।
আমাদের রয়েছে বিপুলসংখ্যাক প্রশিক্ষিত তথ্যপ্রযুক্তিবিদ এবং ইংরেজি ভাষা জানা এক ঝাঁক উদ্দমী তরম্নণ, যারা ক্রমর্বধনশীল চাহিদার সাথে নিজেদের খাপখাইয়ে নিতে সক্ষম।
বিশ্বের মধ্যে বাংলাদশের শ্রমের বাজারমূল্য অত্যন্ত্ম কম। এখানকার শিক্ষিত বেকার জনশক্তি স্বল্প বেতনে উন্নতমানের সেবা প্রদান করতে সক্ষম। এক্ষেত্রে মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে ভালো করতে পারে। যার প্রকৃষ্ঠ উদাহরণ আমাদের গার্মেন্টস শিল্প।
সাধারণত একটি ইন্ড্রাস্ট্র্রি গড়তে যে পরিমাণে বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে, আইসিটি এনাবল্ড সার্ভিসের যে কোনো একটি সেক্টরে এর বিনিয়োগের পরিমাণ চার ভাগের এক ভাগ লাগবে। যদি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও স্থিতিশীল কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা যায় তাহলে আউটসোর্সিংয়ের বিশাল বাজার আধিপত্য বিস্ত্মার করতে তেমন সমস্যা হবে না।

তরম্নণদের আগ্রহ
আউটসোর্সিং ও বিপিও সম্পর্কে প্রজন্মের ধারণা খুব স্পষ্ট না হলেও ধীরে ধীরে নতুন প্রজন্মের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে। আউটসোর্সিং সম্ভাবনা নতুন প্রজন্মের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে। এ সেক্টরে আমাদের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের বেকার সমস্যার সমাধানে আউটসোর্সিং বিশাল ভূমিকা রাখতে পারে। প্রয়োজন অবকাঠামো তৈরি এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা।

কাজের ধরন
আউটসোর্সিংয়ের কাজের শেষ নেই। দিন যত যাচ্ছে নতুন নতুন কাজ তৈরি হচ্ছে। প্রযুক্তির বদৌলতে আউটসোর্সিং কাজেরও ভিন্নতা আসছে। ডাটা এন্ট্রি, মেডিক্যাল ট্রান্সক্রিপশনের পর এখন সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, আইপি অ্যাপিস্নকেশন, মোবাইল কনটেন্ট, কার্টুন, প্রিন্টিং ওয়ার্ক, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ব্যাক অফিস ওয়ার্ক, ডকুমেন্ট প্রসেস আউটসোর্সিং, টু-ডি, থ্রি-ডি এনিমেশন, আর্কিটেকচারাল ওয়ার্কসহ নানা ধরনের কাজ আসছে বাংলাদেশে।

ক্যারিয়ার
আউটসোর্সিং হচ্ছে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে স্মার্ট জব। ক্যারিয়ার গড়তে হলে প্রথমে তথ্যপ্রযুক্তি টেকনিক্যাল এক্সপার্ট হতে হবে। নিজের মধ্যে ক্রিয়েটিভিটি থাকতে হবে। ইংরেজিতে কমিউনিকেট করার ভালো দক্ষতা থাকা প্রয়োজন। এ সেক্টরে অনেক শাখা-প্রশাখা রয়েছে- যে যে শাখায় এক্সপার্ট সে শাখায় কাজ করা উচিত। ভালো কাজ করতে পারলে এবং কমিউনিকেশন যোগ্যতা থাকলে তাহলে এ সেক্টরে নিজে নিজেই অনেক অর্থ উপার্জন করা যায়।

সমস্যা
আউটসোর্সিংয়ের পুরো কাজটি যেহেতু ইন্টারনেটভিত্তিক, তাই কোনো প্রতিষ্ঠান বিদু্যতের কারণে একাধিকবার পণ্য সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে পরবর্তীতে ক্রেতা তার কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। সীমিত ইন্টারনেট ব্যবস্থাও সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারার একটি কারণ। ভি-স্যাটের মাধ্যমে ইন্টারনেট যোগাযোগ বন্ধ। ইন্টারনেটের গতিও বেশ ধীর। সব জায়গায় ইন্টারনেট নেই। মূলত এই দুটো কারণে পণ্য সরবরাহ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সরবরাহকারীদের বেশ সমস্যা পোহাতে হয়। ক্রেডিট কার্ডের (মাস্টার) সীমিত ব্যবহার আউটসোর্সিংয়ের আরেকটি বড় সমস্যা। বাংলাদেশ থেকে ইন্টারনেটে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অর্থ আদানপ্রদান বা বিদেশে কেনাকাটা করা যায় না। অথচ আউটসোর্সিংয়ের অধিকাংশ লেনদেনই করতে হয় ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে। কিন্তু বাংলাদেশে ক্রেডিটকার্ড পাওয়া সহজ ব্যাপার নয়। ফলে অনেকেই ক্রেডিটকার্ডের অভাবে প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করতে পারেন না।


পরিশেষে
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন না করেও আউটসোর্সিংয়ে ভালো করা সম্ভব। কিন্তু ইংরেজি ভাষাটা জানতে হবে ভালোভাবে; জানতে হবে কম্পিউটারের বেশকিছু বিষয়ও। ওয়েব সাইট ডিজাইন, প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ, সফটওয়্যার তৈরি, কল সেন্টার ইত্যাদি থেকে শুরম্ন করে ইন্টারনেট টিউশনি বা অনুবাদ করার মতো কাজও বিদ্যমান। কিন্তু সবক্ষেত্রেই ইংরেজির কোনো বিকল্প নেই। কম্পিউটারে যে যেদিকে আগ্রহী, তাকে সেদিকেই নিজের জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়াতে হবে। আউটসোর্সিং নিয়ে দেশে প্রশিক্ষক বা প্রশিক্ষণ সেন্টারের অভাব রয়েছে। যারা এ বিষয়গুলো ভালো জানেন, তারা সম্ভবত প্রশিক্ষণ বা এ ধরনের কাজে আগ্রহী নন। পত্রপত্রিকায় মাঝেমধ্যে আউটসোর্সিয়ের বিজ্ঞাপন দেখা গেলেও সেগুলোর মান খুব একটা ভালো নয়।
শিবশংকর দেবনাথ (প্রিন্স)
সিইও, আই মিডিয়া, বাংলাদেশ
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
-এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close