সফটওয়ার রপ্তানিতে ২৫০ কোটি টাকা বার্ষিক মুনাফাবাংলাদেশে সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্প একটি অত্যন্ত্ম সম্ভাবনাময় খাত। বর্তমানে তৈরি পোশাকশিল্পের পর এই খাতকেই সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তেমন কোনো সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না পেয়েও এগিয়ে যাচ্ছে এই খাত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এবং এই শিল্পের বিদ্যমান সংকটগুলো শক্ত হাতে মোকাবেলা করা গেলে অচিরেই এটি হয়ে উঠবে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস।হাবিবুলস্নাহ নেয়ামুল করিম বর্তমান যুগকে বলা হচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তির যুগ এবং এ সময়টা জ্ঞানচর্চার। এ যুগের মূল চালিকাশক্তিও অনেকাংশে তথ্যপ্রযুক্তিকেন্দ্রিক। কিন্তু আমাদের দেশ এতদিন এ ক্ষেত্রে অনেকটা পিছিয়ে থাকলেও সম্প্রতি এই অবস্থার দ্রম্নত পরিবর্তন ঘটছে। সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর শিল্পের সম্ভাবনা মূর্ত হয়ে উঠেছে বিগত কয়েক বছরে তাদের সাফল্যের সূত্র ধরে। বাংলাদেশ এখন সফটওয়্যার নির্মাণের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি করছে। সাম্প্রতিক বছরে এই খাত থেকে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পরিমাণ ২৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। বিভিন্ন ধরনের বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে ক্রমেই এগিয়ে যাচ্ছে এই খাতটি।
বাংলাদেশে সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্প একটি অত্যন্ত্ম সম্ভাবনাময় খাত। বর্তমানে তৈরি পোশাকশিল্পের পর এই খাতকেই সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তেমন কোনো সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না পেয়েও এগিয়ে যাচ্ছে এই খাত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এবং এই শিল্পের বিদ্যমান সংকটগুলো শক্ত হাতে মোকাবেলা করা গেলে অচিরেই এটি হয়ে উঠবে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস।

বর্তমান অবস্থা : বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তির বিরাট একটা অংশ এখনো বড় শহরগুলোর চৌকাঠ ডিঙোতে পারেনি। আধুনিক সুযোগ-সুবিধার বাইরে থেকেই জীবনযাপন করতে হচ্ছে সিংহভাগ জনগণকে। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের মতো সাধারণ বিষয়াদিই যে দেশে অনিশ্চিত, সে দেশে সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের পিছিয়ে থাকাটাই স্বাভাবিক। তাই জনসংখ্যার তুলনায় দেশে সফটওয়্যার এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের অগ্রসরতা যথেষ্ট অপ্রতুল। তা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সময়ে দেশে এ ধরনের শিল্পের বিকাশ ঘটছে।
দেশে সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশ গত ৫ বছরে শতকরা ৫০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। সংশিস্নষ্ট কর্তৃপক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যে, এই বিকাশের হার সামনের দিনগুলোতে আরও বাড়বে। দেশের নানা ধরনের বড় বড় শিল্প যেমন ব্যাংকিং, ওষুধশিল্প, গার্মেন্ট, টেক্সটাইল, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং অনেক সাধারণ মানের অফিস ও বাসা বাড়িতেও এখন বিস্ত্মৃত হচ্ছে সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা খাতের বাজার।
দেশে বর্তমানে ৫০০-রও বেশি নিবন্ধিত সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবামূলক (ওঞঊঝ) কোম্পানি রয়েছে। এসব কোম্পানিতে ১২ হাজারেরও অধিক কর্মচারী কর্মরত রয়েছে। বর্তমানে এই খাত থেকে বছরে রাজস্ব যোগ হচ্ছে ৩৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি।। ২০০০-০১ অর্থবছরে যেখানে সফটওয়্যার রপ্তানি থেকে আয় ছিল ২.২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সেখানে ২০০৮-০৯-এ তা দাঁড়ায় ৩২.৯১ মিলিয়ন ডলার।
২০ বছর আগেও এই খাতের অবস্থা ছিল খুবই দুর্বল এবং শোচনীয়। কিন্তু এখন অবস্থা যথেষ্ট ভালো। দেশের অভ্যন্ত্মরে বাজার সৃষ্টির পাশাপাশি বিদেশেও এখন ক্রমেই বাড়ছে এই শিল্পের বাজার। প্রায় ১০০-রও বেশি কোম্পানি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত্মে প্রায় ৩০টিরও বেশি দেশে সফটওয়্যারসহ নানা ধরনের পণ্য রপ্তানি করছে। রপ্তানির প্রধান বাজার উত্তর আমেরিকা হলেও বর্তমানে ইউরোপ ও পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশও রপ্তানির আওতায় এসেছে। বাংলাদেশের অনেকগুলো কোম্পানির কার্যক্রম ইতোমধ্যে বহির্বিশ্বের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে।
সফটওয়্যারের পাশাপাশি ওঞঊঝ-এর যেসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশে ব্যবসায়িক সুযোগ রয়েছে তা হচ্ছে- (১) প্রি প্রেস গ্রাফিক্স ডিজাইন, (২) কম্পিউটার এইডেড ডিজাইন, (৩) ব্যাক অফিস অপারেশন, (৪) ইন্সু্যরেন্স ক্লেইম প্রসেসিং, (৫) লিগ্যাল ডেটাবেজ, (৬) কনটেন্ট ডেভেলপমেন্ট, অ্যানিমেশন ও ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট, (৭) পে রোল, (৮) কল সেন্টার এবং (৯) মেডিকেল ট্রান্সক্রিপশন প্রভৃতি। এ ধরনের ব্যবসায় ইতোমধ্যে যুক্ত হয়েছে অনেকগুলো কোম্পানি। কোম্পানিগুলোর এগিয়ে যাওয়ার জন্য এখন দরকার হচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তির ওপর অসংখ্য গ্র্যাজুয়েট ও প্রশিক্ষিত দক্ষ জনশক্তি।
একটি স্টাডি থেকে জানা যায়, বর্তমানে দেশে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় ৬০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত্ম বিভিন্ন বিষয়ে পাঠদান করা হচ্ছে। এ ধরনের কলেজ ও ইনস্টিটিউটের সংখ্যা ৪০টিরও ওপরে। এ ছাড়া আরও প্রায় ৩০০টিরও বেশি সংস্থা বিভিন্ন মাত্রায় চালিয়ে যাচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত্ম পাঠদান ও প্রশিক্ষণের কাজ। ওই স্টাডি থেকে আরও জানা যায়, প্রতিবছর কম্পিউটার সায়েন্স এবং সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছে প্রায় ২,৫০০ জন। কিন্তু এই খাতে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা ১৫ হাজারেরও ওপরে। এ ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত্ম বিষয়ে প্রতি বছর গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছে প্রায় ৫,৫০০ জন। কিন্তু এই খাতে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা ৪০ হাজারেরও ওপরে বলে জানিয়েছে জরিপ পরিচালনাকারী সংস্থাটি।
সফটওয়্যার শিল্প পুরোপুরি বুদ্ধিবৃত্তিনির্ভর হওয়ায় এবং এর তেমন কোনো কাঁচামাল বা যন্ত্রপাতি না থাকায় এ শিল্প থেকে আয়ের প্রায় পুরোটাই দেশে থেকে যায়। তা ছাড়া এ শিল্পের কর্মীরা উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ হওয়ার কারণে তুলনামূলক উচ্চ বেতন পেয়ে থাকে। যে কারণে সফটওয়্যার শিল্প থেকে অর্জিত রপ্তানি আয় অল্প কয়েকজনের হাতে আটকে না থেকে মধ্যবিত্ত শ্রেণির একটি উলেস্নখযোগ্য অংশের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে। এ ছাড়া বহির্বিশ্বে দেশের ইতিবাচক ইমেজ তৈরিতেও সফটওয়্যার শিল্প অত্যন্ত্ম গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বাংলাদেশে এই শিল্পের এগিয়ে যাওয়ার মতো অনুকূল কিছু বিষয় রয়েছে। বিশাল জনগোষ্ঠী থাকার সুবাদে চাহিদামতো লোকবল পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই। শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনয়নের চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। সময়ের ক্ষেত্রে আমরা আকর্ষণীয় একটা অবস্থানে আছি। উত্তর আমেরিকা ও তার পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের সময়ের ব্যবধান পাক্কা ১২ ঘণ্টা। এর ফলে আমরা একটা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছি। এ দেশে শিক্ষিত ও যোগ্যতাসম্পন্ন জনবলের বেতন পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে কম। এসব সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ এই শিল্পে অল্প সময়ের মধ্যে সুবিধাজনক জায়গায় পৌঁছে যেতে পারে।
বিকাশের বাধা
এই শিল্পে আশানুরূপ অগ্রসরতার অন্ত্মরায় হচ্ছে কর্মী ও কর্মসংস্থান সঙ্কটের এক ধরনের চক্রাকার সমস্যা। প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক সফটওয়্যার প্রস্তুতের কাজ আমরা পাচ্ছি না, তার প্রধান কারণ আমাদের দেশে পর্যাপ্ত সংখ্যক দক্ষ সফটওয়্যার কর্মী নেই। নিয়োগকারীরা দক্ষ সফটওয়্যার ডেভেলপার খুঁজতে গিয়ে প্রায় সময়েই বিপাকে পড়েন। অন্যদিকে কম্পিউটার সায়েন্স পাস করা প্রচুর তরম্নণ-তরম্নণী বেকার রয়েছে যারা তাদের কাঙ্ক্ষিত মানের কাজ পাচ্ছে না। কাজ না পাওয়ার কারণে তাদের মধ্যে দক্ষতাও তৈরি হচ্ছে না।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে কম্পিউটার প্রকৌশল বা কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগ থেকে যারা পাস করে বের হয় তাদের মান ভালো থাকলেও সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্ত্ম কম। আবার প্রচুর সংখ্যক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও ইনস্টিটিউট কম্পিউটার বিজ্ঞানে গ্র্যাজুয়েশন ও ডিপেস্নামা দিচ্ছে। এখান থেকে যারা আসছে তাদের একটি বড় অংশের মেধা ও বুনিয়াদি শিক্ষা এমন পর্যায়ের না যা দিয়ে তারা কম্পিউটার বিজ্ঞানের মতো বিষয় আত্মস্থ করতে পারে। তা ছাড়া এসব প্রতিষ্ঠান অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কঠোরভাবে শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। ফলে এসব গ্র্যাজুয়েটরা একটি বিরাট অংশ ডিগ্রি পাচ্ছে বটে কিন্তু যা শেখার কথা তা শিখতে পারছে না।
আমাদের দেশে তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের বেতন কাঠামো পর্যালোচনা করলে দেখা যায় একজন অভিজ্ঞ সফটওয়্যার ডেভেলপার সফটওয়্যার শিল্পে কাজ করলে যে পরিমাণ বেতন পান, ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত্ম পদে বা বিভিন্ন প্রকল্পে পরামর্শক হিসেবে কাজ করে তার চেয়ে বেশি আয় করেন। ফলে অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সফটওয়্যার শিল্প থেকে কর্মীরা দূরে সরে যেতে থাকে। এ জন্য সফটওয়্যার স্থপতির মতো পদে কাজ করার যোগ্যতাসম্পন্ন সফটওয়্যার ডেভেলপার পাওয়া খুব কঠিন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া আমাদের উচ্চশিক্ষিত শ্রেণির মধ্যে বিদেশে পাড়ি জমানোর যে প্রবণতা রয়েছে এ শিল্পে তার বিরূপ প্রভাব পড়ছে। দক্ষ সফটওয়্যার কর্মীদের একটি উলেস্নখযোগ্য অংশ বিদেশে চলে যাচ্ছে। আবার দেশে সম্প্রতি কপিরাইট আইন প্রণীত হলেও তার প্রয়োগ হচ্ছে না। যা কিনা এই খাতকে এগোতে দিচ্ছে না।
কর্মী ও কর্মসংস্থানের সমস্যা চক্রটির মূল সমস্যা হচ্ছে বিপণনে দুর্বলতা। বিদেশে সফটওয়্যার রপ্তানির ক্ষেত্রে সব থেকে বেশি সমস্যায় পড়তে হয় বিপণনের ক্ষেত্রে। রপ্তানির ক্ষেত্রে রেডিমেড সফটওয়্যার পণ্যের বাজার নেই বললেই চলে। বরং ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী সফটওয়্যার পণ্য তৈরি করে দিতে হয়। এ ক্ষেত্রে ক্রেতাকে পণ্যের মান ও সঠিক সময়ের মধ্যে তা সরবরাহের নিশ্চয়তা দিতে হয়। আমাদের কোম্পানিগুলোর পক্ষে এটা করার জন্য প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও প্রচারণা চালানো সম্ভব হয়ে উঠছে না। এ ছাড়া দেশীয় উদ্যোক্তাদের মধ্যে এই খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ কম থাকাটাও এই শিল্পের বিকাশের একটা বড় অন্ত্মরায়।
আবার পূর্ব ইউরোপের কিছু দেশ, ভিয়েতনাম, ফিলিপিন্স, পাকিস্ত্মান, মিশর এবং আরও নতুন কিছু দেশের এক সারি কোম্পানি রয়েছে যারা বাংলাদেশের এই শিল্পে বিকাশের ক্ষেত্রে বড় একটি হুমকি হিসেবে কাজ করছে। এসব কোম্পানি ক্রমেই দখল করে নিচ্ছে বিশ্ববাজার। দেশের অভ্যন্ত্মরেও অনেক কোম্পানি গড়ে উঠছে যারা এই বিষয়ে শিক্ষিত অংশটিকে তাদের কাজে টেনে নিচ্ছে। বাংলাদেশের প্রায় স্থায়ী এবং ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অস্থিরতাও এই খাতের বিকাশের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
করণীয় সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মতামত
সফটওয়্যার শিল্পের সমস্যাচক্র ভাঙতে সরকারকে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে চেষ্টা করতে হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন সংশিস্নষ্ট বিশেষজ্ঞরা। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কম্পিউটার সায়েন্স ও প্রকৌশল বিভাগে বেশি সংখ্যায় ছাত্র ভর্তির ব্যবস্থা করলে দক্ষ কর্মী সঙ্কট সমাধানের পথ অনেকটাই উন্মুক্ত হয়ে যাবে বলে মনে করছেন তারা। তারা আরও বলছেন, এ জন্য প্রয়োজনে চাকরির ক্ষেত্রে যেসব বিষয়ের চাহিদা কম সেসব বিষয়ের আসন সংখ্যা কমাতে হবে। বিপণনের বাধা দূর করতে সরকারকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। চেষ্টা করতে হবে বড় বড় শিল্পোদ্যোক্তাদের এ শিল্পে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করার। এতে দেশের বিকাশমান সফটওয়্যার শিল্প রপ্তানিমুখী শিল্পে পরিণত হবে।
বাংলাদেশ থেকে সফটওয়্যার ও ওঞঊঝ-এর রপ্তানি মূল্য
(মিলিয়ন মার্কিন ডলারের হিসাবে)
অর্থ বছর ২০০২-০৩, ২০০৩-০৪, ২০০৪-০৫, ২০০৫-০৬, ২০০৬-০৭, ২০০৭-০৮, ২০০৮-০৯
রপ্তানি মূল্য ৪.২০, ৭.১৯,১২.৬৮, ২৭.০১, ২৬.০৮, ২৪.০৯,৩২.৯১

রপ্তানির চালচিত্র
রপ্তানিকৃত রপ্তানিকারী
দেশসমূহ কোম্পানির
হসংখ্যা
যুক্তরাষ্ট্র ৭০টিরও বেশি
ডেনমার্ক ২০টিরও বেশি
যুক্তরাজ্য ১০টিরও বেশি
জাপান ১০টিরও বেশি
অস্ট্রেলিয়া ১০টিরও বেশি
ফিনল্যান্ড ৮টি
সুইজারল্যান্ড ৫টি
কানাডা ৬টি
জার্মানি ৮টি
নরওয়ে ৫টি
সুইডেন ৩টি
দক্ষিণ আফ্রিকা ৪টি
থাইল্যান্ড ৪টি
মধ্যপ্রাচ্য ১০টিরও বেশি
(সৌদি আরব,
আরব আমিরাত,
বাহরাইন)
সরকারকে পরিকল্পনা বাস্ত্মবায়নে আরও বেশি জোর দিতে হবে
বর্তমান সরকার সফটওয়্যার ও ওঞঊঝ খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে এমন অনেক কাজ করেছে যা প্রশংসার দাবিদার। আগামী বছরের মধ্যে বাস্ত্মবায়নের লক্ষ্যে অনেকগুলো প্রকল্পও সরকার হাতে নিয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্ত্মবায়িত হলে আমরা আশা করি বাংলাদেশে সফটওয়্যার ও ওঞঊঝ-এর নতুন দিগন্ত্ম উন্মোচিত হবে। প্রকল্প বাস্ত্মবায়নে সময় লাগে এটা ঠিক। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে গা ছাড়া ভাবও দেখা যায়। আমাদের দাবি হচ্ছে, সরকারকে পরিকল্পনা বাস্ত্মবায়নে আরও বেশি জোর দিতে হবে। আর এসবের পাশাপাশি আরও দুটি বিষয়ে আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। প্রথমটি হচ্ছে, ব্যাংক ঋণ সুবিধা। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, বহির্বিশ্বে বিপণনের ক্ষেত্র নির্মাণে সহায়তা প্রদান। এই দুটি বিষয়ে যদি আমাদের পর্যাপ্ত 'সাপোর্ট' দেয়া হয় তাহলে সেই দিন খুব বেশি দূরে নয়, যেদিন সফটওয়্যার ও ওঞঊঝ খাতই হবে বাংলাদেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের উৎস। এ ছাড়া শিক্ষাব্যবস্থায়ও একটা পরিবর্তন আনা জরম্নরি বলে আমরা মনে করি। সফটওয়্যার ও ওঞঊঝ সংক্রান্ত্ম নতুন অনেক বিষয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষার প্রতিটি শাখায় যোগ করার উদ্যোগ দ্রম্নতই নিতে হবে। এটা করা গেলেই কেবলমাত্র আমরা একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সক্ষমতা অর্জন করতে পারব।

হাবিবুলস্নাহ নেয়ামুল করিম
সভাপতি
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড
ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
-এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close