রমজান-উত্তর জীবনে সংযমের অনুশীলনযাযাদি রিপোর্ট মুমিনের প্রবৃত্তিকে অশুভ প্রবণতাসমূহ থেকে পরিশুদ্ধ ও শুভ গুণাবলিতে সমৃদ্ধ করার, মানব প্রকৃতিকে নশ্বর পৃথিবীর মোহ থেকে বিমুখ করে অবিনশ্বর আখেরাতের প্রতি ধাবিত করার মাস রমজানুল মোবারকের আজ ২৮ তারিখ। আজকের পরে আমরা রমজানের এক বা দুটি দিন পাব। তারপর আমাদের জীবনে যে স্বাভাবিকতা ফিরে আসবে, তখনো আমাদের অনুসরণ করতে হবে রমজানের শিক্ষা।
তাকওয়ার দাবি অনুযায়ী জীবন পরিচালনা, আচরণ ও লেনদেনে সাবধানতা অবলম্বন, সমাজ ও সামষ্টিক কর্মকা-ে শুদ্ধতা ও স্বচ্ছতা রক্ষা, দায়িত্বের অনুভূতি এবং সব কাজে আলস্নাহকে স্মরণ রাখার যে শিক্ষা নিয়ে রমজান মাস আগমন করেছিল, রমজান-উত্তর জীবনেও তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। তেমনি রমজানে যে আমলগুলোর প্রতি আমরা বিশেষ যত্নবান হই,
রমজানের পরও সেগুলোর ধারাবাহিকতা রক্ষার চেষ্টা চালানো আমাদের কর্তব্য।
এ প্রসঙ্গে প্রথমে আসে রোজা। তবে রমজানের মতো দিনের পর দিন রোজা রাখা জরম্নরি নয়। তবে মহানবী সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়া সালস্নামের কোনো মাসই রোজা ছাড়া না কাটানো অভ্যাস ছিল। শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। রমজানের রোজার সাথে শওয়ালের ছয়টি রোজা যোগ হলে সারা বছর রোজা রাখার ছওয়াব পাওয়া যাবে বলে মহানবী সা. ইরশাদ করেছেন। এ ছাড়া অন্যান্য মাসের আইয়ামে বীজ বা ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখার প্রতি রাসূল সা. বিশেষ গুরম্নত্ব দিতেন বলে উম্মুল মুমিনীন হজরত আয়েশা সিদ্দীকা রাজিয়ালস্নাহু আনহা বর্ণনা করেছেন। তবে মহানবী সা. সাধারণভাবে এ তিনটি দিনেই রোজা রাখার নিয়ম কড়াকড়িভাবে মেনে চলতেন না উম্মতের জন্য অবশ্য পালনীয় হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায়। প্রত্যেক মাসে কখনো এক সাথে আবার কখনো মাঝখানে বিরতি দিয়ে কমপক্ষে তিনটি রোজা তিনি রাখতেনই।
দ্বিতীয়ত, কোরআন তেলাওয়াত মুমিনের প্রাত্যহিক কর্মসূচির অংশ হওয়া উচিত। রমজান মাসের সাথে কোরআনের সম্পর্ক বেশি ঘনিষ্ঠ। অন্যান্য সময়ও তা বহাল রাখার চেষ্টা করা প্রয়োজন। কোরআন পাঠ ও অধ্যয়নের ধারাবাহিকতা রমজানের পরও যেন অটুট থাকে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। তৃতীয়ত, তাহাজ্জদ নামাজ সারা বছরই গুরম্নত্বপূর্ণ। রমজানে সেহরি খাওয়ার উদ্দেশে ওঠার কারণে তাহাজ্জদ আদায় সহজ হয়। পুরো মাস আমল করে যাওয়ার ফলে তা অভ্যাসে পরিণত হওয়া স্বাভাবিক। মহানবী সা. সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়িন থেকে শুরম্ন করে মুসলিম মনীষীদের মধ্যে এমন ব্যক্তি কদাচিৎ পাওয়া যাবে যিনি তাহাজ্জদে অভ্যস্ত্ম ছিলেন না। আলস্নাহর নৈকট্য লাভ ও প্রিয়পাত্র হওয়ার অসাধারণ এই আমলটি রমজানের পরও চালু রাখতে পারা ভাগ্যবানের আলামত বলা যায়।
চতুর্থত, দান সদকা রমজানের অন্যতম অনুষঙ্গ। হজরত আয়েশা রা. বর্ণনা করেন, মহানবী সা. ছিলেন সবচেয়ে দানশীল ব্যক্তি। আর রমজান মাস এলে তার দানের পরিমাণ বেড়ে যেত বহুগুণ। তিনি মুক্ত বাতাসের মতো দান করতে থাকতেন। রমজানের যেকোনো ইবাদতের ছওয়াব কমপক্ষে সত্তর গুণ বেড়ে যায় বলে মুসলিম বিত্তশালী ব্যক্তিরা বার্ষিক জাকাত আদায়ের জন্য এই সময়টি বেছে নেন। রমজানের শেষে আসে সদাকাতুল ফিতর আদায়ের পালা। এ ছাড়া যাদের ওপর জাকাত ফরজ হয় না বা সদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয় না, তারাও যথাসাধ্য দান করেন এ মাসটিতে। দান করার এই অভ্যাসটি বজায় রাখতে পারা খুবই শুভ লক্ষণ। যারা নিজেদের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও অন্যদের অভাব মোচনের মনোভাব পোষণ করেন, তাদের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে কোরআন মজিদে। অতএব মাহে রমজানের সাথে এটাকে সীমাবদ্ধ না রেখে সব সময়ের অভ্যাসে পরিণত করা উচিত।
পঞ্চমত, বাক সংযম মুমিনের অন্যতম সৌন্দর্য। রমজানে এটা চর্চা করা হয় গুরম্নত্বের সাথে। মিথ্যাচার, অশস্নীলতা পরিহারের পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা থেকেও বিরত থাকতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে রোজাদারকে। কিন্তু শুধু রোজা অবস্থায়ই নয়, সব সময়ই এমনটি হওয়া প্রয়োজন একজন মুসলিমের জীবন। গিবত, কূটনামি, চাটুকারিতা সব সময়েই নিন্দনীয়। সুতরাং রমজানুল মুবারকের মতো অন্য সময়ও এগুলো থেকে জবানকে হেফাজতে রাখা আমাদের কর্তব্য। মোট কথা সিয়াম সাধনার মাসে যেসব শুভ দিক আমরা পালনের চেষ্টা করি, যেসব অন্যায় থেকে বিরত থাকায় আগ্রগ দেখাই, বছরের বাকি এগারটি মাসও যদি আমরা সেভাবেই চলতে পারি, তাহলেই এক মাস রোজা রাখার প্রকৃত সুফল আমরা লাভ করতে পারব।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close