নবম ও দশম শ্রেণির পড়াশোনা (বাংলা দ্বিতীয় পত্র)রোজিনা আক্তার, শিক্ষক ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সিরাজগঞ্জ য় প্রিয় শিক্ষার্থী, আজ তোমাদের জন্য বাংলা দ্বিতীয় পত্র থেকে পদ নিয়ে আলোচনা করা হলো।

ঘটমান বর্তমান অনুজ্ঞা ও ঘটমান ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা
মূল ক্রিয়াপদের সঙ্গে-ইতে/-তে বিভক্তি যুক্ত হয়ে অসমাপিকা ক্রিয়াপদ গঠন করা যায়। এ অসমাপিকা ক্রিয়াপদ এবং থাক্ ধাতুর সঙ্গে (সাধারণ) বর্তমান অনুজ্ঞার বিভক্তি যুক্ত করে যে ক্রিয়াপদ হয়, উভয়ে মিলে যৌগিক ক্রিয়া উৎপন্ন করে। এ যৌগিক ক্রিয়া ঘটমান বর্তমান অনুজ্ঞার অর্থ প্রকাশ করে। যেমন:
(সে)-ইতে/ -তে+-উক : করিতে/করতে থাকুক
(তিনি/আপনি) -ইতে/-তে+উন: করিতে/করতে থাকুন
(তুমি)-ইতে/-তে+-অ-ও : করিতে/করতে থাক/থাকো
(তুই)-ইতে/-তে+-অ-ও : করিতে/করতে থাক্
মূল ধাতুর সঙ্গে অসমাপিকা ক্রিয়াবিভক্তি-ইতে/-তে যুক্ত হয়; এরূপ বিভক্তিযুক্ত অসমাপিকা ক্রিয়া সর্বদা অপরিবর্তিত অবস্থায় থাকে। এই অসমাপিকা ক্রিয়া এবং সাধারণ বর্তমানের অনুজ্ঞার ক্রিয়াবিভক্তিযুক্ত থাক্ ধাতু (ঘটমান বর্তমান অনুজ্ঞার) মিলে যৌগিক ক্রিয়া উৎপন্ন করে। এই যৌগিক ক্রিয়া ঘটমান বর্তমান অনুজ্ঞার অর্থ প্রকাশ করে।
থাক্ ধাতুর সঙ্গে যুক্ত ক্রিয়াবিভক্তিগুলোই অনুজ্ঞা অর্থ প্রকাশ করে। মূল ক্রিয়া থেকে উৎপন্ন অসমাপিকা ক্রিয়াটি ঘটমানতা প্রকাশে সাহায্য করে।

ঘটমান ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞার
উপযুক্ত কারণেই ঘটমান ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞার জন্য পৃথক ক্রিয়াবিভক্তির অস্তিত্ব স্বীকার করা অনাবশ্যক। যেমন :
-ইতে/-তে+-ইবেন/-বেন : করিতে থাকিবেন/করতে থাকবেন
-ইতে/-তে+ইও- এ/-ও : করিতে থাকিও/করতে থেকো
-ইতে/-তে+-ইস : করিতে থাকিস/করতে থাকিস
- ইতে/-তে+- ইবে/-বে: করিতে থাকিবে/করতে থাকবে

ক) ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞায় উত্তম পুরুষ ব্যবহৃত হয় না।
খ) সম্ভ্রমাত্মক মধ্যম পুরুষের সাধারণ ভবিষ্যতের ক্রিয়ার রূপটি সম্ভ্রমাত্মক মধ্যম পুরুষের ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞায় ব্যবহৃত হয়।
ক) বর্তমান কাল
আদেশ : কাজটি করে ফেল। তোমরা এখন যাও।
উপদেশ : সত্য গোপন করো না। কড়া রোদে ঘোরাফেরা করিস না। 'পাতিস নে শিলাতলে পদ্মপাতা'।
অনুরোধ : আমার কাজটি এখন কর। অঙ্কটা বুঝিয়ে দাও না।
প্রার্থনা : আমার দরখাস্তটা পড়ুন।
অভিশাপ : মর, পাপিষ্ঠ
খ) ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা
আদেশে : সদা সত্য বলবে।
সম্ভাবনায় : চেষ্টা কর, সবই বুঝতে পারবে।
বিধান অর্থে : রোগ হলে ওষুধ খাবে।
অনুরোধে : কাল একবার এসো (বা আসিও বা আসিবে)।
ক্রিয়াবিভক্তি-সাধু ও চলিত
আমি যাই।
আপনারা যাবেন।
সে যাচ্ছে।
তারা যাচ্ছিলেন।
ওপরে যা-ধাতুর সঙ্গে 'ই', 'বেন', 'চ্ছে' ও 'চ্ছিলেন' বিভক্তি যুক্ত করে সমাপিকা ক্রিয়াপদগুলো গঠিত হয়েছে। ধাতুর উত্তর যেসব বর্ণ ও বর্ণসমষ্টি যুক্ত হয়ে সমাপিকা ক্রিয়া গঠন করে তাদের ক্রিয়াবিভক্তি বলা হয়।

১. বিভক্তিসমূহ ক্রিয়ার কাল, পুরুষ ও বাচ্যভেদে বিভিন্ন রূপ পরিগ্রহ করে। যেমন :
আমি যাই-সাধারণ বর্তমান কালে উত্তম পুরুষের ক্রিয়াপদ।
আপনারা যাবেন_ সাধারণ ভবিষ্যৎ কালে (সম্ভ্রমাত্মক) মধ্যম পুরুষের ক্রিয়াপদ।

২. সাধু ও চলিত রীতিভেদেও ক্রিয়াবিভক্তির পরিবর্তন হয়। যেমন :
সাধু চলিত
আপনি ভাত খাইয়াছেন। আপনি ভাত খেয়েছেন।
তাহারা বাড়ি যাইতেছে। তারা বাড়ি যাচ্ছে।

৩. প্রযোজক ক্রিয়াতেও ক্রিয়াবিভক্তির অনুরূপ পরিবর্তন সাধিত হয়। যেমন :
সাধু রীতি (প্রযোজক) চলিত রীতি (প্রযোজক)
আমি তাহাকে দিয়া কাজটি করাইয়াছি। আমি তাকে দিয়ে কাজটি করিয়েছি।
রত্না মণিকে গান শিখাইতেছিল। রত্না মণিকে গান শেখাচ্ছিল।

ধাতুর গণ
'গণ' শব্দের অর্থ শ্রেণি। কিন্তু ধাতুর 'গণ' বলতে ধাতুগুলোর বানানের ধরন বোঝায়। 'ধাতুর গণ' ঠিক করতে দুটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হয়। যেমন :
ক) ধাতুটি কয়টি অক্ষরে গঠিত?
খ) ধাতুর প্রথম বর্ণে সংযুক্ত স্বরবর্ণটি কী?
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin