রোগী প্রায় ২ কোটিমানসিক রোগের চিকিৎসা নেই জেলা-উপজেলায়দেশে প্রায় দুই কোটি মানুষ কম-বেশি মানসিক রোগে ভুগছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসার কোনো সুযোগ না থাকায় আক্রান্ত্ম জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেনজাহিদ হাসান দেশে দিন দিন মানসিক রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও জেলা-উপজেলা হাসপাতালগুলোতে এ রোগের কোনো চিকিৎসক নেই। অথচ প্রায় দুই কোটি মানুষ কম-বেশি মানসিক রোগে ভুগছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসার কোনো সুযোগ না থাকার ফলে আক্রান্ত্ম জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই সেবা নিতে এসে বঞ্চিত হচ্ছে।
সরেজমিন রোগটির সেবাদাতা সংশিস্নষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকার স্বাস্থ্য নীতিমালায় মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরম্নত্ব দিলেও দেশের উপজেলা ও জেলা হাসপাতালসমূহে এখন পর্যন্ত্ম একজন করেও মানসিক রোগের চিকিৎসক দেয়া সম্ভব হয়নি। ইউনিয়ন হেলথ সেন্টারে কোনো ওষুধ সরবরাহ নাই। মানসিক রোগ চিকিৎসায় দেশে দুটি হাসপাতাল রয়েছে। সবমিলে ২৫০ জন সাইকিয়াট্রি কাজ করছে। এটির চিকিৎসা ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ, নার্স, টেকনিশিয়ানসহ জনবল সংকট রয়েছে। তারা এও বলছেন যে, প্রাইমারি পর্যায়ে এ সেবা নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থাই হুমকির মুখে পড়তে পারে।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী মানসিক রোগের দ্রম্নত প্রাদুর্ভাব বিস্ত্মারের কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আশঙ্কা করছে, আগামী ২০৩০ সালের দিকে বিষণ্নতা (মানসিক রোগ) 'ফাস্ট ইমার্জিং ডিজিজ' হিসেবে পরিচিতি পাবে। তাছাড়া ডাবিস্নউএইচও ও জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত যৌথ এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে ১৬ এবং শিশু-কিশোরদের মধ্যে ১৮ শতাংশ মানসিক সমস্যায় ভুগছে। বর্তমানে দেশের প্রায় দুই কোটি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত্ম। তাই এখন থেকেই সরকারিভাবে সব উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে এটির চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিতের পাশাপাশি বিষয়টি মোকাবেলায় যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলছেন তারা।
বিষয়টি নিয়ে ডেল্টা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. হারম্ননুর রশীদ যায়যায়দিনকে বলেন, গ্রামীণ পর্যায়ে মানসিক রোগের চিকিৎসক না থাকায় অনেকেই ফার্মাসিস্ট, হাতুড়ে ডাক্তার ও কবিরাজি চিকিৎসার দিকে ঝোকে। এ জন্য প্রাইমারি লেভেলের প্রতিটা হাসপাতালে সাইকিয়াট্রি কনসালটেন্ট পদ সৃষ্টি করতে হবে। সেবাকেন্দ্রের বিকেন্দ্রীকরণ, ওষুধের সহজলভ্যতা এবং সংশিস্নষ্ট হেলথ অ্যাসিসটেন্ট, নার্স, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ও সাইকোথেরাপিস্ট নিয়োগ দিতে হবে। পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরি করতে পাঠ্যপুস্তুকভুক্ত করলে ভালো হয়।
সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা গেছে, দেশে প্রায় দুই কোটি মানসিক রোগাক্রান্ত্ম ব্যক্তির চিকিৎসায় সরকারি পর্যায়ে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, পাবনা মানসিক হাসপাতাল, বিএসএমএমইউ ও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মাত্র ৮১৩টি শয্যা রয়েছে। এ ছাড়া কয়েকটি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সীমিত পরিসরে চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সহযোগী জনবল অপ্রতুল রয়েছে। এর বাইরে বেসরকারিভাবে চিকিৎসা দেয়ার জন্য যারা আছেন তাদের অধিকাংশই ঢাকায় অবস্থান করছেন। বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আলাদা চিকিৎসাকেন্দ্রও নাই। ফলে আক্রান্ত্ম রোগীরা চিকিৎসা বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে নাম না প্রকাশ করার শর্তে পাবনা মানসিক হাসপাতালের একজন সহকারী অধ্যাপক যায়যায়দিনকে বলেন, জেনারেল হাসপাতালে সাইকিয়াট্রিক ইউনিট থাকলে সেখানে মানসিক রোগীরা অন্য রোগেরও চিকিৎসা নিতে পারবেন। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নাই। প্রতিটি জেনারেল হাসপাতালেই ইনডোর সাইক্লিয়াট্রিক ইউনিট প্রয়োজন। জেলা শহরের প্রতিটি হাসপাতালে সাইকিয়াট্রিক কনসালট্যান্ট পদ তৈরি করাটা জরম্নরি।
তবে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. হেলাল আহম্মেদ দাবি করেছেন, কিছুদিন হলো জেলা-উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সে মানসিক রোগীদের প্রাথমিক সেবা দেয়ার জন্য সরকারিভাবে ১৬ হাজার জেনারেল চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এতে করে প্রাথমিক পর্যায়ে কিছুটা হলেও সেবা পাচ্ছে। কিন্তু এই মুহূর্তে সারাদেশে ২৫০ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছে যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। এ ছাড়া মানসিক রোগের ডিজিজ বার্ডেন ১১ শতাংশ হলেও বাজেট দেয়া হচ্ছে দশমিক পাঁচ শতাংশেরও কম। তাই পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ দরকার। দক্ষ চিকিৎসক তৈরি ও পদ সৃষ্টি করে চাহিদা অনুযায়ী জনবল নিয়োগ দিতে হবে।
সবশেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. জাহাঙ্গীর হোসেন যায়যায়দিনকে বলেন, দেশের জেলা-উপজেলা হাসাপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে মানসিক রোগের চিকিৎসক সংকট রয়েছে সত্য। এ জন্য আগামী ২০২২ সালের জুনের মধ্যে (পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা) প্রতিটা জেলা হাসপাতালে অন্ত্মত একজন করে হলেও সাইকিয়াট্রিক দেয়া হবে। আর চিকিৎসক সংকটের মূল কারণ হলো মনস্ত্মাত্ত্বিক রোগ বিষয়টি কঠিন হওয়ায় মেডিকেল শিক্ষার্থীরা এ রোগের চিকিৎসক হতে চান না। ফলে প্রতি এক বছরে পাঁচজনেরও কম মানসিক ডাক্তার বের হচ্ছে। এমনকি, ৩১টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকলেও বিশেষজ্ঞ সাইকিয়াট্রিস্ট পর্যাপ্ত নয়। রোগী বাড়লেও চিকিৎসা বাড়ছে না। তাই সবার আগে ডাক্তার তৈরি করতে হবে। কেননা চিকিৎসক স্বল্পতার কারণেই প্রাথমিক পর্যায়ে সেবা বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা। চিকিৎসা পরিধি বাড়াতে হলে সবার আগে সরকারের দৃষ্টিগোচর করতে হবে। সেটার জন্য মিডিয়া গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। আর জাতীয় স্বার্থে সরকারকেও এ বিষয়ে নজর দেয়া উচিত বলে মন্ত্মব্য করেন তিনি।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close