ডায়াবেটিসে কিডনি সমস্যাডায়াবেটিসের কারণে ক্ষুদ্র রক্তনালির সমস্যায় অসুখ ডায়াবেটিস নেফ্রোপ্যাথি কিডনির ব্যর্থতার (রেনাল ফেইলুর) অন্যতম প্রধান কারণ। যেখানে রোগীর প্রস্রাবে অতিরিক্ত প্রোটিনের উপস্থিতি ক্রমেই বৃদ্ধিপ্রাপ্তি, উচ্চরক্তচাপ এবং অতিরিক্ত কমে যাওয়া কিডনির পরিশুদ্ধিকরণ কাজ ইত্যাদি তীব্রভাবে দেখা যায়। টাইপ-১ ডায়াবেটিস রোগীদের ৪০% থেকে ৫০% এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসে ৩৫% লোক এ সমস্যায় আক্রান্ত্ম হতে পারে। ৩০ বছর বয়সের আগে যাদের ডায়াবেটিস ধরা পড়ে তাদের ২৫%-এরও বেশি কিডনি ফেইলুরের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে। তবে বেশকিছু ডায়াবেটিস রোগীকে কিডনির সমস্যা থেকে রেহাই পেতে দেখা যায়। জেনেটিক প্রভাব এখানে কাজ করতে পারে বলে ধারণা করা হয়। ডায়াবেটিস শুরম্ন হওয়ার ১০-২৫ বছর পর ডায়াবেটিস নেফ্রোপ্যাথি শুরম্ন হয়। ডায়াবেটিস নেফ্রোপ্যাথি শুরম্নটা সবার ক্ষেত্রে একরকম নয়। ডায়াবেটিস শুরম্নর সময়কার কিডনির কার্যক্ষমতা, রক্তচাপ ও রক্তপ্রবাহ এসব বিষয় ডায়াবেটিসের নেফ্রোপ্যাথির শুরম্ন ও ক্রমবিবর্তনকে প্রভাবিত করে। শুরম্নর দিকে কিডনির আকার কিছুটা বড় হয়, তারপরই প্রস্রাবে প্রোটিনের উপস্থিতি পাওয়া যায়। ইতোমধ্যে কিডনির ছাকনি কাজ (এঋজ) ৬০%-এর বেশি কমে গেছে এ সময়ে রক্তচাপ বাড়তে থাকে আর রক্তে নাইট্রোজেন বর্জ্য পদার্থ জমার হার বাড়তে থাকে। ডায়াবেটিসের রোগীদের অনেকেই শেষপর্যন্ত্ম কিডনির সমস্যায় ভুগতে পারেন। আর শেষ ধাপ হলো চূড়ান্ত্ম পর্যায়ের কিডনি ফেইলুর। তাই ডায়াবেটিস নির্ধারণের প্রথম দিক থেকেই কিডনির কার্যকারিতা জেনে নেয়া হয়। এজন্য ডায়াবেটিসের চিকিৎসক বেশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ডায়াবেটিসের মাত্রা নির্ধারণসহ কিডনির অবস্থাও জেনে নেয়ার চেষ্টা করে থাকেন। আর পরবর্তী সাক্ষাৎগুলোতেও কিডনির অবস্থা জেনে নেয়া জরম্নরি। কমপক্ষে বছরে একবার কিডনির কার্যকারিতা দেখার জন্য পরীক্ষা করাতে হবে। এ জন্য যেসব পরীক্ষা করা হয় তা হলো প্রস্রাবে প্রোটিনের মাত্রা, ২৪ ঘণ্টার প্রসাবের জমাকৃত মোট প্রোটিন রক্তের ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন এবং রক্তের আধানগুলো। ডায়াবেটিস রোগী যাতে কিডনি ফেইলুরের দিকে ধাবিত না হয় সে জন্য ডায়াবেটিসের শুরম্নর চিকিৎসায় কিডনি সুরক্ষাকারী কিছু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এর মধ্যে অন্যতম হলো সঠিকভাবে রক্তের গস্নুকোজের মাত্রা বজায় রাখা। মাঝেমধ্যে যদি রক্তের গস্নুকোজ পরিমাণ বেড়ে যায় তবে তাদের কিডনি হুমকির মধ্যে পড়তে পারে। রক্তের ঐনঅ১ঈ ৪%-এর কম রাখতে পারলে কিছুটা নিরাপদ থাকা যায়। যারা কঠোরভাবে রক্তের গস্নুকোজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন তারা ডায়াবেটিস নেফ্রোপ্যাথি হয়ে যান তবে রক্তের গস্নুকোজ নিয়ন্ত্রণে তেমন কোনো ইতরবিশেষ হয় না। ডায়াবেটিস রোগীদের কিডনির সমস্যার হাত থেকে বাঁচাতে হলে তাদের রক্তচাপও সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা জরম্নরি। ডায়াবেটিস রোগীর নিরাপদ রক্তচাপ হলো ১৩০/৭০ মিলিমিটার পারদ। এর বেশি প্রতি মিলিমিটার রক্তচাপই কিডনি ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়বে। তবে প্রতিক্ষেত্রেই লবণ কম খাওয়া বেশ গুরম্নত্বপূর্ণ। ডায়াবেটিস রোগীদের সঠিক পরিমাণ লবণ খেতে হবে প্রতিদিন। যাদের একবার কিডনির পরীক্ষায় কোনো গরমিল দেখা দিয়েছে তাদের প্রোটিন খেতে হবে বেশ হিসাব করে। ডায়াবেটিস রোগীদের সম্ভব বেদনানাশক ওষুধ গ্রহণ থেকে বিরত থাকা ভালো, যাদের প্রস্রাবে প্রোটিন অধিক পরিমাণ পাওয়া গেছে বা রক্তে অধিক ইউরিয়া বা ক্রিয়োটিনিন আছে তাদের চিকিৎসকের কড়া নজরদারিতে থাকা উচিত।
য় সূত্র : ইন্টারনেট
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close